উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের সিদ্ধান্ত হয়েছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মধ্যে।
বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশ নতুন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তিসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতায় সই করে।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী মোদি জানান, ভারত ও জাপান প্রতিরক্ষা খাতে যৌথ উন্নয়নমূলক প্রকল্পে একমত হয়েছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়ন আরও শক্তিশালী হবে এবং আঞ্চলিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার হবে।
তিনি বলেন, দুই দেশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ধাতু শিল্প ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে একাধিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। পাশাপাশি প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিয়ে একটি রোডম্যাপও তৈরি করা হয়েছে।
মোদি বৈঠকে জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে তার প্রথম ভারত সফরের জন্য স্বাগত জানান এবং তাকে ‘দূরদর্শী ও জনপ্রিয় নেতা’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে তাকে ‘ছোট বোন’ বলেও সম্বোধন করেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ভারত ও জাপানের পারস্পরিক আস্থা একটি বড় কৌশলগত সম্পদ হিসেবে কাজ করছে।
অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব প্রসঙ্গে মোদি জানান, আগামী ১০ বছরে জাপান ভারতে ১০ ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগ করবে এবং ভারতে জাপানি কোম্পানির সংখ্যা দ্বিগুণ হবে।
প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতাকে দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাপানের নির্ভুল প্রযুক্তি এবং ভারতের সফটওয়্যার সক্ষমতা মিলিয়ে বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্নয়নে নতুন গতি আসবে।
স্বাস্থ্য খাতেও দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও বায়োটেকনোলজি খাতে যৌথ উদ্যোগ বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তায় অবদান রাখবে বলে জানানো হয়।
এছাড়া ভারতের বায়োগ্যাস ও জৈব সার প্রকল্পের আওতায় ১ হাজারটি প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্যোগের কথাও বৈঠকে ঘোষণা করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তিগুলো ভারত–জাপান কৌশলগত অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে দুই দেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে।
গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)
ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুলাই ২০২৬
উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের সিদ্ধান্ত হয়েছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মধ্যে।
বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশ নতুন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তিসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতায় সই করে।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী মোদি জানান, ভারত ও জাপান প্রতিরক্ষা খাতে যৌথ উন্নয়নমূলক প্রকল্পে একমত হয়েছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়ন আরও শক্তিশালী হবে এবং আঞ্চলিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার হবে।
তিনি বলেন, দুই দেশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ধাতু শিল্প ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে একাধিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। পাশাপাশি প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিয়ে একটি রোডম্যাপও তৈরি করা হয়েছে।
মোদি বৈঠকে জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে তার প্রথম ভারত সফরের জন্য স্বাগত জানান এবং তাকে ‘দূরদর্শী ও জনপ্রিয় নেতা’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে তাকে ‘ছোট বোন’ বলেও সম্বোধন করেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ভারত ও জাপানের পারস্পরিক আস্থা একটি বড় কৌশলগত সম্পদ হিসেবে কাজ করছে।
অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব প্রসঙ্গে মোদি জানান, আগামী ১০ বছরে জাপান ভারতে ১০ ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগ করবে এবং ভারতে জাপানি কোম্পানির সংখ্যা দ্বিগুণ হবে।
প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতাকে দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাপানের নির্ভুল প্রযুক্তি এবং ভারতের সফটওয়্যার সক্ষমতা মিলিয়ে বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্নয়নে নতুন গতি আসবে।
স্বাস্থ্য খাতেও দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও বায়োটেকনোলজি খাতে যৌথ উদ্যোগ বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তায় অবদান রাখবে বলে জানানো হয়।
এছাড়া ভারতের বায়োগ্যাস ও জৈব সার প্রকল্পের আওতায় ১ হাজারটি প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্যোগের কথাও বৈঠকে ঘোষণা করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তিগুলো ভারত–জাপান কৌশলগত অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে দুই দেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে।
