মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার তেওতা ইউনিয়নের আলোকদিয়া চরে যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সোমবার (৭ জুলাই ২০২৬ইং) অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে নারী-পুরুষসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নিয়ে নিজেদের বসতভিটা, ফসলি জমি ও জনপদ রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের অভিযোগ, জাতীয় গ্রিড বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ৭ ও ৮ নম্বর টাওয়ারসংলগ্ন জনবসতিপূর্ণ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে যমুনা নদীর তীব্র ভাঙনের ঝুঁকি বেড়ে গেছে এবং এলাকার শতাধিক পরিবার বসতভিটা ও কৃষিজমি হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি,অবৈধ বালু উত্তোলনকারীরা সশস্ত্র পাহারার মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতিবাদ করলে সাধারণ মানুষ ভয়ভীতি ও বিভিন্ন ধরনের হুমকির মুখে পড়ছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা। মানববন্ধন থেকে এলাকাবাসী আট দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
জাতীয় গ্রিডের ৭ ও ৮ নম্বর টাওয়ারসংলগ্ন এলাকা থেকে অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা;নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অবৈধ ড্রেজার জব্দ করা;
অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা সশস্ত্র পাহারাদার ও সন্ত্রাসী চক্রকে গ্রেপ্তার করা।
একাধিক লিখিত অভিযোগের পরোও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। পাটুরিয়া নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ডের ভূমিকা তদন্ত করা। বালু মাফিয়া চক্রের মূল হোতা ও গডফাদারদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং বালুমহল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা।
স্থানীয় বক্তারা বলেন, জেলা প্রশাসকের কাছে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও কয়েকটি লোকদেখানো অভিযান ছাড়া স্থায়ী ও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে অবৈধ বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে এবং নদীভাঙনের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে।
তারা অভিযোগ করেন,পাটুরিয়া নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ডকে একাধিকবার বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এ কারণে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা তদন্তেরও দাবি জানান তারা। মানববন্ধনে বক্তারা অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত চরবাসীর জীবন-জীবিকা ও বসতভিটা রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মানববন্ধনের শেষদিকে ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকাবাসী প্রশাসনের উদ্দেশে প্রশ্ন রাখেন, "একটাই প্রশ্ন—শিবালয়ের বালু মাফিয়া চক্র কি দেশের প্রচলিত আইনের ঊর্ধ্বে?
গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)
ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার তেওতা ইউনিয়নের আলোকদিয়া চরে যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সোমবার (৭ জুলাই ২০২৬ইং) অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে নারী-পুরুষসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নিয়ে নিজেদের বসতভিটা, ফসলি জমি ও জনপদ রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের অভিযোগ, জাতীয় গ্রিড বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ৭ ও ৮ নম্বর টাওয়ারসংলগ্ন জনবসতিপূর্ণ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে যমুনা নদীর তীব্র ভাঙনের ঝুঁকি বেড়ে গেছে এবং এলাকার শতাধিক পরিবার বসতভিটা ও কৃষিজমি হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি,অবৈধ বালু উত্তোলনকারীরা সশস্ত্র পাহারার মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতিবাদ করলে সাধারণ মানুষ ভয়ভীতি ও বিভিন্ন ধরনের হুমকির মুখে পড়ছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা। মানববন্ধন থেকে এলাকাবাসী আট দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
জাতীয় গ্রিডের ৭ ও ৮ নম্বর টাওয়ারসংলগ্ন এলাকা থেকে অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা;নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অবৈধ ড্রেজার জব্দ করা;
অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা সশস্ত্র পাহারাদার ও সন্ত্রাসী চক্রকে গ্রেপ্তার করা।
একাধিক লিখিত অভিযোগের পরোও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। পাটুরিয়া নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ডের ভূমিকা তদন্ত করা। বালু মাফিয়া চক্রের মূল হোতা ও গডফাদারদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং বালুমহল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা।
স্থানীয় বক্তারা বলেন, জেলা প্রশাসকের কাছে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও কয়েকটি লোকদেখানো অভিযান ছাড়া স্থায়ী ও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে অবৈধ বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে এবং নদীভাঙনের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে।
তারা অভিযোগ করেন,পাটুরিয়া নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ডকে একাধিকবার বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এ কারণে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা তদন্তেরও দাবি জানান তারা। মানববন্ধনে বক্তারা অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত চরবাসীর জীবন-জীবিকা ও বসতভিটা রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মানববন্ধনের শেষদিকে ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকাবাসী প্রশাসনের উদ্দেশে প্রশ্ন রাখেন, "একটাই প্রশ্ন—শিবালয়ের বালু মাফিয়া চক্র কি দেশের প্রচলিত আইনের ঊর্ধ্বে?
