খবর প্রতিদিন ২৪

তানোরে সরকারি অনুদানের গোখাদ্য চোরাপথে বিক্রির দায়ে শোকজ তদন্ত চলমান



তানোরে সরকারি অনুদানের গোখাদ্য চোরাপথে বিক্রির দায়ে শোকজ তদন্ত চলমান

রাজশাহীর তানোরে সমতল ভূমিতে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীর জীবন উন্নয়নে সরকারের দেয়া বিনা মূল্যের গো খাদ্য চোরাপথে বিক্রির দায়ে  লক্ষি রাম নামের এক ব্যক্তিকে উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা শোকজ করেছেন বলে নিশ্চিত করেন। রাম লক্ষি ওই প্রকল্পের ফিল্ড ফ্যাসিলেটর হিসেবে কাজ করেন। তার বাড়ি তালন্দ ইউনিয়ন ইউপির কালনা আদিপাসী পাড়া গ্রামে। তিনি কৌশলে অফিস থেকে উপকার ভোগীদের গো খাদ্য তুলে অন্যত্র বিক্রি করেছেন। এর আগেও টাকার বিনিময়ে তালিকা তৈরি সহ চোরাপথে অনুদানের খাদ্য বিক্রি সহ নানা অভিযোগ উঠে তার বিরুদ্ধে। কিন্তু অনৈতিক সুবিধার মাধ্যমে সবকিছু ধামাচাপা দেয়া হয় বলেও সুত্র নিশ্চিত করেন।

জানা গেছে, বিগত  আ"লীগ সরকারের সময় থেকে বরেন্দ্র অঞ্চলের সমতল ভূমিতে বসবাস রত অনুগ্রসর ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীর জনসাধারণের জীবন মান উন্নয়নে বিনামূল্যে গরু,ছাগল, ভেড়া বিতরণ করা হয়। ওই প্রকল্প চলমান রয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও বর্তমান সরকারের সময়ও গরু ও গরুর বাছুর  বিতরণ করা হয়। বিতরণের পর ঘর তৈরির আসবাব পত্র ও খাদ্য দেয়া হয়। এসব উপকার ভোগীদের খাদ্য বিতরণ না করে অফিসের কর্তা বাবুর সাথে যোগসাজশ করে চোরাপথে বিক্রি করে থাকেন লক্ষি।

সুত্রে জানা যায়, এসব ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীর তালিকা তৈরিতে প্রাণিসম্পদ অফিসের মামুন নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে সিন্ডিকেট। সিন্ডিকেটের সদস্যরা হলেন তালন্দ ইউনিয়ন ইউপির কালনা গ্রামের লক্ষি, বাধাইড় ইউপির যুবলীগ নেতা রতন ও কলমা ইউপির এক মহিলা রয়েছে। তারা উপজেলা জুড়ে আত্মীয় স্বজন ও টাকা নিয়ে তালিকা তৈরি করে নানা ধরনের সুবিধা ভোগ করেন। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ হলেও তারা বহাল তবিয়তে কাজ করে যাচ্ছে ।

চলতি মাসের ১৯ জুন লক্ষি ১৬ বস্তা অনুদানের গোখাদ্য চোরাপথে বিক্রির জন্য ভ্যানে করে নিয়ে যাচ্ছিল। এসময় গ্রামের লোকজন হাতেনাতে ধরে ফেলে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি এবং খাদ্যের বস্তা জব্দও করেনি। 

বৃহস্পতিবার উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে গিয়ে দেখা যায়, মামুন তার চেয়ারে বসে আছে। তার কাছে এসব বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সবকিছু অস্বীকার করেন। তিনি জানান, লক্ষি অফিসে ছিল, তার তদন্ত চলছে বলে শুনেছি। 

অফিসে লক্ষিকে না পেয়ে তার ব্যক্তিগত মোবাইলে ফোন দেয়া হলে তিনি জানান, আমাকে শোকজ করা হয়েছে। তদন্ত চলছে। আমি নির্দোষ। আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে। কে আপনাকে ফাঁসাচ্ছে  এর আগেও একই ধরনের অভিযোগ হয়েছিল জানতে চাইলে তিনি জানান, সেটাও মিথ্যা ছিল, তদন্ত হোক তাহলেই প্রমান হবে আমি নির্দোষ বলে এড়িয়ে যান তিনি।

প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: ওয়াজেদ আলী  জানান, ঘটনা জানার পর লক্ষিকে শোকজ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্তে প্রমান হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে আমি ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে লিখিত দিব। তারা যে ব্যবস্থা নিতে বলবেন সে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শুধু এঅভিযোগ না তার বিরুদ্ধে আগেও এমন অভিযোগ উঠেছিল। অনিয়ম হলে কোন ছাড় দেয়া হবেনা।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: /৫ ( ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

খবর প্রতিদিন ২৪

রোববার, ২৮ জুন ২০২৬


তানোরে সরকারি অনুদানের গোখাদ্য চোরাপথে বিক্রির দায়ে শোকজ তদন্ত চলমান

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬

featured Image

রাজশাহীর তানোরে সমতল ভূমিতে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীর জীবন উন্নয়নে সরকারের দেয়া বিনা মূল্যের গো খাদ্য চোরাপথে বিক্রির দায়ে  লক্ষি রাম নামের এক ব্যক্তিকে উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা শোকজ করেছেন বলে নিশ্চিত করেন। রাম লক্ষি ওই প্রকল্পের ফিল্ড ফ্যাসিলেটর হিসেবে কাজ করেন। তার বাড়ি তালন্দ ইউনিয়ন ইউপির কালনা আদিপাসী পাড়া গ্রামে। তিনি কৌশলে অফিস থেকে উপকার ভোগীদের গো খাদ্য তুলে অন্যত্র বিক্রি করেছেন। এর আগেও টাকার বিনিময়ে তালিকা তৈরি সহ চোরাপথে অনুদানের খাদ্য বিক্রি সহ নানা অভিযোগ উঠে তার বিরুদ্ধে। কিন্তু অনৈতিক সুবিধার মাধ্যমে সবকিছু ধামাচাপা দেয়া হয় বলেও সুত্র নিশ্চিত করেন।

জানা গেছে, বিগত  আ"লীগ সরকারের সময় থেকে বরেন্দ্র অঞ্চলের সমতল ভূমিতে বসবাস রত অনুগ্রসর ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীর জনসাধারণের জীবন মান উন্নয়নে বিনামূল্যে গরু,ছাগল, ভেড়া বিতরণ করা হয়। ওই প্রকল্প চলমান রয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও বর্তমান সরকারের সময়ও গরু ও গরুর বাছুর  বিতরণ করা হয়। বিতরণের পর ঘর তৈরির আসবাব পত্র ও খাদ্য দেয়া হয়। এসব উপকার ভোগীদের খাদ্য বিতরণ না করে অফিসের কর্তা বাবুর সাথে যোগসাজশ করে চোরাপথে বিক্রি করে থাকেন লক্ষি।

সুত্রে জানা যায়, এসব ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীর তালিকা তৈরিতে প্রাণিসম্পদ অফিসের মামুন নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে সিন্ডিকেট। সিন্ডিকেটের সদস্যরা হলেন তালন্দ ইউনিয়ন ইউপির কালনা গ্রামের লক্ষি, বাধাইড় ইউপির যুবলীগ নেতা রতন ও কলমা ইউপির এক মহিলা রয়েছে। তারা উপজেলা জুড়ে আত্মীয় স্বজন ও টাকা নিয়ে তালিকা তৈরি করে নানা ধরনের সুবিধা ভোগ করেন। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ হলেও তারা বহাল তবিয়তে কাজ করে যাচ্ছে ।

চলতি মাসের ১৯ জুন লক্ষি ১৬ বস্তা অনুদানের গোখাদ্য চোরাপথে বিক্রির জন্য ভ্যানে করে নিয়ে যাচ্ছিল। এসময় গ্রামের লোকজন হাতেনাতে ধরে ফেলে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি এবং খাদ্যের বস্তা জব্দও করেনি। 

বৃহস্পতিবার উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে গিয়ে দেখা যায়, মামুন তার চেয়ারে বসে আছে। তার কাছে এসব বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সবকিছু অস্বীকার করেন। তিনি জানান, লক্ষি অফিসে ছিল, তার তদন্ত চলছে বলে শুনেছি। 

অফিসে লক্ষিকে না পেয়ে তার ব্যক্তিগত মোবাইলে ফোন দেয়া হলে তিনি জানান, আমাকে শোকজ করা হয়েছে। তদন্ত চলছে। আমি নির্দোষ। আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে। কে আপনাকে ফাঁসাচ্ছে  এর আগেও একই ধরনের অভিযোগ হয়েছিল জানতে চাইলে তিনি জানান, সেটাও মিথ্যা ছিল, তদন্ত হোক তাহলেই প্রমান হবে আমি নির্দোষ বলে এড়িয়ে যান তিনি।

প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: ওয়াজেদ আলী  জানান, ঘটনা জানার পর লক্ষিকে শোকজ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্তে প্রমান হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে আমি ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে লিখিত দিব। তারা যে ব্যবস্থা নিতে বলবেন সে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শুধু এঅভিযোগ না তার বিরুদ্ধে আগেও এমন অভিযোগ উঠেছিল। অনিয়ম হলে কোন ছাড় দেয়া হবেনা।


খবর প্রতিদিন ২৪

প্রকাশক
মোঃ মামুনুর হাসান (টিপু)
সম্পাদক
খন্দকার আমিনুর রহমান
বার্তা সম্পাদক
মোঃ তরিকুল ইসলাম
উপদেষ্টা মন্ডলীর সভাপতি
বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. এস এম জাহাঙ্গীর আলম [পরিচালক] বাংলাদেশ স্যাটেলাইট
আইন উপদেষ্টা
মুহাম্মদ গোলাম হোসেন (এডভোকেট বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট)

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
তানোরে সরকারি অনুদানের গোখাদ্য চোরাপথে বিক্রির দায়ে শোকজ তদন্ত চলমান
0:00 / 0:00
1x