ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শিশুদের সম্পৃক্ততা বন্ধ এবং তাদের জন্য শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে খুলনা ও সাতক্ষীরায় 'বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস' উদযাপিত হয়েছে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘শিশুশ্রমকে না বলি, শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করি’।
উল্লেখ্য, প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী ১২ জুন এই দিবসটি পালন করা হলেও, বিশেষ কারণে বাংলাদেশে এবার ২৯ জুন (সোমবারে) এটি উদযাপন করা হচ্ছে।
খুলনা: সমন্বিত লড়াই ও মেধাবৃত্তির ঘোষণা
খুলনা জেলা প্রশাসনের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত বলেন, দারিদ্র্য, পারিবারিক সংকট ও মাদকের কারণে শিশুরা শ্রমের দিকে ধাবিত হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ কাজ শিশুদের অঙ্গহানি বা প্রাণহানির কারণ হতে পারে।
তিনি শিশুশ্রম নিরসনে সমাজের সব স্তরের মানুষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান এবং দরিদ্র পরিবারের শিশুদের জন্য আর্থিক সহায়তা ও মেধাবৃত্তির ঘোষণা দেন।
যৌথ আয়োজন: খুলনা জেলা প্রশাসন, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন: কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক মো. শাহিনুর রহমান।
অন্যান্য বক্তা: অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিতান কুমার মন্ডল, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক সানতাজ বিল্লাহ, এবং বিভিন্ন এনজিও ও শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
আলোচনা সভার আগে খুলনা কালেক্টরেট চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়।
সাতক্ষীরা: আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জীবনমান উন্নয়নের তাগিদ
সাতক্ষীরায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ-এর সভাপতিত্বে সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন যে, শুধু আইন দিয়ে শিশুশ্রম বন্ধ করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন:
দরিদ্র পরিবারের জীবনমান উন্নয়ন ও অভিভাবকদের কর্মসংস্থান।ঝরে পড়া শিশুদের জন্য কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার সুযোগ।প্রতিটি পরিবারকে সচেতন করে শিশুদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর।
অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শেখ মঈনুল ইসলাম মঈনসহ জেলা তথ্য কর্মকর্তা, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ এবং বিভিন্ন শ্রমিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শ্রম পরিদর্শক মোহাম্মদ এহসানুল হক।
আইনি প্রেক্ষাপট: টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (SDG) ৮.৭ সূচক অনুযায়ী বাংলাদেশ শিশুশ্রম নিরসনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, সরকার ঘোষিত ৪৩টি ঝুঁকিপূর্ণ খাতে শিশুদের নিয়োগ দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)
ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬
ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শিশুদের সম্পৃক্ততা বন্ধ এবং তাদের জন্য শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে খুলনা ও সাতক্ষীরায় 'বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস' উদযাপিত হয়েছে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘শিশুশ্রমকে না বলি, শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করি’।
উল্লেখ্য, প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী ১২ জুন এই দিবসটি পালন করা হলেও, বিশেষ কারণে বাংলাদেশে এবার ২৯ জুন (সোমবারে) এটি উদযাপন করা হচ্ছে।
খুলনা: সমন্বিত লড়াই ও মেধাবৃত্তির ঘোষণা
খুলনা জেলা প্রশাসনের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত বলেন, দারিদ্র্য, পারিবারিক সংকট ও মাদকের কারণে শিশুরা শ্রমের দিকে ধাবিত হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ কাজ শিশুদের অঙ্গহানি বা প্রাণহানির কারণ হতে পারে।
তিনি শিশুশ্রম নিরসনে সমাজের সব স্তরের মানুষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান এবং দরিদ্র পরিবারের শিশুদের জন্য আর্থিক সহায়তা ও মেধাবৃত্তির ঘোষণা দেন।
যৌথ আয়োজন: খুলনা জেলা প্রশাসন, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন: কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক মো. শাহিনুর রহমান।
অন্যান্য বক্তা: অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিতান কুমার মন্ডল, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক সানতাজ বিল্লাহ, এবং বিভিন্ন এনজিও ও শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
আলোচনা সভার আগে খুলনা কালেক্টরেট চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়।
সাতক্ষীরা: আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জীবনমান উন্নয়নের তাগিদ
সাতক্ষীরায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ-এর সভাপতিত্বে সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন যে, শুধু আইন দিয়ে শিশুশ্রম বন্ধ করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন:
দরিদ্র পরিবারের জীবনমান উন্নয়ন ও অভিভাবকদের কর্মসংস্থান।ঝরে পড়া শিশুদের জন্য কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার সুযোগ।প্রতিটি পরিবারকে সচেতন করে শিশুদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর।
অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শেখ মঈনুল ইসলাম মঈনসহ জেলা তথ্য কর্মকর্তা, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ এবং বিভিন্ন শ্রমিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শ্রম পরিদর্শক মোহাম্মদ এহসানুল হক।
আইনি প্রেক্ষাপট: টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (SDG) ৮.৭ সূচক অনুযায়ী বাংলাদেশ শিশুশ্রম নিরসনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, সরকার ঘোষিত ৪৩টি ঝুঁকিপূর্ণ খাতে শিশুদের নিয়োগ দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
