খবর প্রতিদিন ২৪

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বৌদ্ধ বিহার ও শ্মশান নির্মাণের জন্য জায়গা বরাদ্দের আবেদন



নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বৌদ্ধ বিহার ও শ্মশান নির্মাণের জন্য জায়গা বরাদ্দের আবেদন

নারায়ণগঞ্জ বাংলাদেশের ঢাকা বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক জেলা। “প্রাচ্যের ড্যান্ডি” নামে খ্যাত এই জেলা দেশের বৃহত্তম নদীবন্দর, তাঁতশিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র। এখানে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ বসবাস করেন। জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ৫,৮৯৭ জন। শিল্প, বাণিজ্য ও নদীবন্দরের কারণে শহর এলাকায় জনচাপ বেশি। এখানকার প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ শহরাঞ্চলে এবং বাকিরা আড়াইহাজার, সোনারগাঁও, রূপগঞ্জসহ অন্যান্য উপজেলায় বসবাস করেন।

যুগ যুগ ধরে এ শহরে সকল ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে আছেন। চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবাদে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ও সুদীর্ঘকাল ধরে এখানে বসবাস করে আসছেন। নারায়ণগঞ্জ শহরে শ্রীলংকান বৌদ্ধসহ বড়ুয়া, চাকমা, মারমা, তংচংগ্যাসহ তিন হাজারের অধিক বৌদ্ধ নাগরিকের বসবাস। কিন্তু ধর্মীয় অনুশীলনের জন্য এখানে কোনো বৌদ্ধ বিহার, প্যাগোডা বা উপাসনালয় নেই। ধর্মীয় উৎসব ও আচার-অনুষ্ঠান করতে হয় বিভিন্ন ক্লাব ভাড়া করে।

বিগত বছরগুলোতে জেলা প্রশাসন, উপজেলা পরিষদ ও সিটি কর্পোরেশনের কাছে বারবার আবেদন করা হলেও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের জন্য কোনো বিহার বা শ্মশানের ব্যবস্থা হয়নি। অথচ নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে মাসদাইর এলাকায় রাস্তার ধারে সারিবদ্ধভাবে মডেল মসজিদ, মডেল মন্দির ও মডেল গির্জা নির্মাণ করা হয়েছে। সকলেই একে “চার ধর্মের উপাসনালয়” বলে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে থাকেন। সরকারের পক্ষ থেকে তিন ধর্মের প্রতিষ্ঠান এক সারিতে থাকায় এলাকার সৌন্দর্য ও সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে। যদি চতুর্থ ধর্ম হিসেবে বৌদ্ধ বিহারও যুক্ত হয়, তবে তা সম্প্রীতির আরও উজ্জ্বল নিদর্শন হবে।

বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় কষ্ট হলো শ্মশানের অভাব। এখানে বৌদ্ধদের কোনো শ্মশান না থাকায় কেউ মারা গেলে মরদেহ সুদূর চট্টগ্রামে নিতে হয়, যা অত্যন্ত কষ্টকর ও ব্যয়বহুল।

বিগত এমনও হয়েছে বৌদ্ধধর্মালম্বী মারা গিয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শশ্মানে দাহ করা হয়েছে এমন নজিরও আছে।

শহরে বসবাসকারী শতাধিক শ্রীলংকান নাগরিকসহ স্থানীয় বৌদ্ধরা বারবার অনুরোধ করেছেন একটি বিহার ও শ্মশান স্থাপনের জন্য।

বৌদ্ধ ধর্মের মূল বাণী শান্তি, মৈত্রী ও মানবতা। মহাকারুণিক বুদ্ধ সকল প্রাণীর প্রতি প্রেম ও দয়ার শিক্ষা দিয়ে গেছেন। একটি বিহার ও শ্মশান প্রতিষ্ঠিত হলে তা শুধু বৌদ্ধদের ধর্মচর্চার স্থান হবে না, বরং সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতির পরিবেশ তৈরিতে অবদান রাখবে।

অতএব, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় প্রশাসকের নিকট বিনীত আবেদন,নারায়ণগঞ্জ শহরের সুবিধাজনক স্থানে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় চর্চা ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার জন্য একটি বিহার ও শ্মশানসহ প্রয়োজনীয় জায়গা বরাদ্দ করে বৌদ্ধ নাগরিকদের বৈষম্য থেকে মুক্তি দিতে মহোদয়ের সদয় মর্জি হয়।*

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: /৫ ( ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

খবর প্রতিদিন ২৪

শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬


নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বৌদ্ধ বিহার ও শ্মশান নির্মাণের জন্য জায়গা বরাদ্দের আবেদন

প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুলাই ২০২৬

featured Image

নারায়ণগঞ্জ বাংলাদেশের ঢাকা বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক জেলা। “প্রাচ্যের ড্যান্ডি” নামে খ্যাত এই জেলা দেশের বৃহত্তম নদীবন্দর, তাঁতশিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র। এখানে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ বসবাস করেন। জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ৫,৮৯৭ জন। শিল্প, বাণিজ্য ও নদীবন্দরের কারণে শহর এলাকায় জনচাপ বেশি। এখানকার প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ শহরাঞ্চলে এবং বাকিরা আড়াইহাজার, সোনারগাঁও, রূপগঞ্জসহ অন্যান্য উপজেলায় বসবাস করেন।

যুগ যুগ ধরে এ শহরে সকল ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে আছেন। চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবাদে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ও সুদীর্ঘকাল ধরে এখানে বসবাস করে আসছেন। নারায়ণগঞ্জ শহরে শ্রীলংকান বৌদ্ধসহ বড়ুয়া, চাকমা, মারমা, তংচংগ্যাসহ তিন হাজারের অধিক বৌদ্ধ নাগরিকের বসবাস। কিন্তু ধর্মীয় অনুশীলনের জন্য এখানে কোনো বৌদ্ধ বিহার, প্যাগোডা বা উপাসনালয় নেই। ধর্মীয় উৎসব ও আচার-অনুষ্ঠান করতে হয় বিভিন্ন ক্লাব ভাড়া করে।

বিগত বছরগুলোতে জেলা প্রশাসন, উপজেলা পরিষদ ও সিটি কর্পোরেশনের কাছে বারবার আবেদন করা হলেও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের জন্য কোনো বিহার বা শ্মশানের ব্যবস্থা হয়নি। অথচ নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে মাসদাইর এলাকায় রাস্তার ধারে সারিবদ্ধভাবে মডেল মসজিদ, মডেল মন্দির ও মডেল গির্জা নির্মাণ করা হয়েছে। সকলেই একে “চার ধর্মের উপাসনালয়” বলে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে থাকেন। সরকারের পক্ষ থেকে তিন ধর্মের প্রতিষ্ঠান এক সারিতে থাকায় এলাকার সৌন্দর্য ও সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে। যদি চতুর্থ ধর্ম হিসেবে বৌদ্ধ বিহারও যুক্ত হয়, তবে তা সম্প্রীতির আরও উজ্জ্বল নিদর্শন হবে।

বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় কষ্ট হলো শ্মশানের অভাব। এখানে বৌদ্ধদের কোনো শ্মশান না থাকায় কেউ মারা গেলে মরদেহ সুদূর চট্টগ্রামে নিতে হয়, যা অত্যন্ত কষ্টকর ও ব্যয়বহুল।

বিগত এমনও হয়েছে বৌদ্ধধর্মালম্বী মারা গিয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শশ্মানে দাহ করা হয়েছে এমন নজিরও আছে।

শহরে বসবাসকারী শতাধিক শ্রীলংকান নাগরিকসহ স্থানীয় বৌদ্ধরা বারবার অনুরোধ করেছেন একটি বিহার ও শ্মশান স্থাপনের জন্য।

বৌদ্ধ ধর্মের মূল বাণী শান্তি, মৈত্রী ও মানবতা। মহাকারুণিক বুদ্ধ সকল প্রাণীর প্রতি প্রেম ও দয়ার শিক্ষা দিয়ে গেছেন। একটি বিহার ও শ্মশান প্রতিষ্ঠিত হলে তা শুধু বৌদ্ধদের ধর্মচর্চার স্থান হবে না, বরং সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতির পরিবেশ তৈরিতে অবদান রাখবে।

অতএব, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় প্রশাসকের নিকট বিনীত আবেদন,নারায়ণগঞ্জ শহরের সুবিধাজনক স্থানে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় চর্চা ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার জন্য একটি বিহার ও শ্মশানসহ প্রয়োজনীয় জায়গা বরাদ্দ করে বৌদ্ধ নাগরিকদের বৈষম্য থেকে মুক্তি দিতে মহোদয়ের সদয় মর্জি হয়।*


খবর প্রতিদিন ২৪

প্রকাশক
মোঃ মামুনুর হাসান (টিপু)
সম্পাদক
খন্দকার আমিনুর রহমান
বার্তা সম্পাদক
মোঃ তরিকুল ইসলাম
উপদেষ্টা মন্ডলীর সভাপতি
বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. এস এম জাহাঙ্গীর আলম [পরিচালক] বাংলাদেশ স্যাটেলাইট
আইন উপদেষ্টা
মুহাম্মদ গোলাম হোসেন (এডভোকেট বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট)

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বৌদ্ধ বিহার ও শ্মশান নির্মাণের জন্য জায়গা বরাদ্দের আবেদন
0:00 / 0:00
1x