ইউরোপের বুকে কর্মসংস্থানের স্বপ্ন দেখেন বাংলাদেশের কোটি তরুণ-তরুণী। তবে এই সোনালী স্বপ্নের পেছনে ছুটে প্রতিনিয়ত শত শত তরুণ-তরুণী দালালের খপ্পরে পড়ছেন, আবার কেউ কেউ ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে অকালে প্রাণ হারিয়েছেন। চিরচেনা প্রতারণার বৃত্ত ভেঙে এবার সম্পূর্ণ নিরাপদ, আইনি ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ইউরোপের দেশ মলদোভায় দক্ষ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যে ০৮ ও ০৯ জুলাই ডিজিটালাইজড পদ্ধতিতে বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। বাহিনীর ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের মাধ্যমে ঢাকা মহানগর আনসার (ডিএমএ) এর ৩০০ জন শহর প্রতিরক্ষা দল (টিডিপি) নারী সদস্যার বাছাই কার্যক্রম স্বচ্ছতার সাথে সম্পন্ন হয়েছে।
বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ মহোদয়ের দূরদর্শী নেতৃত্ব ও পরিকল্পনায় এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হচ্ছে। ৫টি শক্তিশালী বাছাই কমিটি নূন্যতম অনিয়মের সুযোগ বন্ধ করতে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতার সাথে প্রতিটি ধাপ তদারকি করছে। বাহিনীর সদর দপ্তরে কঠোর নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে এই প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়েছে, যা দেশের অভিবাসন খাতে এক নতুন সম্ভাবনা যোগ করেছে।
০৮ জুলাই (বুধবার) প্রথম ধাপে ঢাকা মহানগর আনসার উত্তর ও পূর্ব জোনের ১৩৯ জন টিডিপি নারী সদস্যার বাছাইয়ের পর দ্বিতীয় ধাপে ০৯ জুলাই (বৃহস্পতিবার) ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও পশ্চিম জোনের ১৬১ টিডিপি(নারী) বিদেশ গমনেচ্ছুক প্রার্থীরা প্রথমে বাহিনীর সদর দপ্তর কর্তৃক নির্ধারিত 'স্বঘোষণা' (Self-Declaration) ফর্মে স্বাক্ষর করেন। প্রথাগত কাগজ-কলমের পরীক্ষার বদলে এখানে গুরুত্ব পেয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। পরীক্ষা কক্ষে দায়িত্বরত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকদের কঠোর নজরদারিতে প্রার্থীরা নিজ নিজ স্মার্টফোনের জিমেইল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে সরাসরি 'গুগল ফর্ম'-এর মাধ্যমে লাইভ লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন।
এছাড়া প্রার্থীদের নিখুঁতভাবে ওজন, উচ্চতা পরিমাপ ও দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষাসহ যাবতীয় শারীরিক যোগ্যতা যাচাই করা হয়। সম্মিলিত ৫টি কমিটির জুরি বোর্ডের সামনে সরাসরি ইন্টারভিউ বা সাক্ষাৎকারে অংশগ্রহণ করেন প্রার্থীরা। আধুনিক নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রার্থীদের প্রতিটি ধাপের পরীক্ষার মূল্যায়নের জন্য একটি বিশেষায়িত সফটওয়্যারে ইনপুট করা হচ্ছে। ফলে কোনো রকম মানুষের হস্তক্ষেপ বা কারচুপি ছাড়াই সফটওয়্যার স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেধা তালিকা ও মূল্যায়ন মান প্রস্তুত করা হয়েছে।
পুরো আয়োজনের মূল ভিত্তি ছিল 'বাছাইয়ে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ'। কোনো রকম তদবির বা আর্থিক লেনদেনের কিংবা স্বজনপ্রীতির সুযোগ না রেখে সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজড ও স্বয়ংক্রিয় মূল্যায়ন পদ্ধতি দেখে উচ্ছ্বসিত হয়েছেন ঢাকা মহানগরের ৪ টি জোনের আগত তরুণীরা। এই পদ্ধতি যোগ্য প্রার্থীদের কাছে ছিল উৎসাহব্যঞ্জক।
কেবল যোগ্য কর্মী বাছাই করাই এই উদ্যোগের শেষ কথা নয়; এর মান নিয়ন্ত্রণে আপসহীন অবস্থান নিয়েছে বাহিনী। মূল লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা। নির্বাচিত প্রার্থীদের ইউরোপের সমাজ, সংস্কৃতি ও কাজের পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে বিশেষ মডিউল। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের কঠিন চ্যালেঞ্জ জয়ে প্রার্থীদের পেশাদার দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি তাদের মাঝে দৃঢ় মানসিকতা গড়ে তুলতে দেয়া হবে উন্নত মানের প্রশিক্ষণ। এই কঠোর ও আন্তর্জাতিক মানের প্রস্তুতিই তাদের বিদেশে যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সফল হতে সাহায্য করবে।
ইউরোপে কর্মসংস্থানের স্বপ্ন দেখা এদেশের লাখো তরুণীর জন্য এই উদ্যোগ এখন এক নতুন সম্ভাবনা ও আশার আলো। প্রথাগত ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসনের চিরচেনা অন্ধকার পথের বাইরে এই নারীরা যখন বৈধ উপায়ে ইউরোপের মাটিতে পা রাখবেন, তখন তা দেশের অন্য নারীদের মাঝেও স্বপ্ন বোনার সাহস যোগাবে। দালালমুক্ত এবং সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে ইউরোপ যাওয়ার এই যুগান্তকারী মডেলটি সফল হলে তা দেশের সামগ্রিক জনশক্তি রপ্তানি খাতের জন্য একটি অনুকরণীয় ও বৈপ্লবিক দৃষ্টান্ত হিসেবে গণ্য হবে।
সবার আগে বাংলাদেশ গড়তে এই প্রকল্পের চূড়ান্ত বাস্তবায়ন শুধু একজন সাধারণ নারীর ইউরোপে কর্মসংস্থানে ভাগ্যবদল বা পারিবারিক সচ্ছলতাই আনবে না, বরং বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে আনবে গতি। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে উজ্জ্বল হবে দেশের ভাবমূর্তি ও সুনাম। ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের গণ্ডি পেরিয়ে এর সুফল ছড়িয়ে পড়বে বিশ্বমঞ্চে। এটি একই সাথে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং বাংলাদেশের নারী জাগরণ ও ক্ষমতায়নের এক অনন্য উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে, যার সুফল ভোগ করবে বাংলাদেশ।
গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)
ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ জুলাই ২০২৬
ইউরোপের বুকে কর্মসংস্থানের স্বপ্ন দেখেন বাংলাদেশের কোটি তরুণ-তরুণী। তবে এই সোনালী স্বপ্নের পেছনে ছুটে প্রতিনিয়ত শত শত তরুণ-তরুণী দালালের খপ্পরে পড়ছেন, আবার কেউ কেউ ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে অকালে প্রাণ হারিয়েছেন। চিরচেনা প্রতারণার বৃত্ত ভেঙে এবার সম্পূর্ণ নিরাপদ, আইনি ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ইউরোপের দেশ মলদোভায় দক্ষ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্যে ০৮ ও ০৯ জুলাই ডিজিটালাইজড পদ্ধতিতে বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। বাহিনীর ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের মাধ্যমে ঢাকা মহানগর আনসার (ডিএমএ) এর ৩০০ জন শহর প্রতিরক্ষা দল (টিডিপি) নারী সদস্যার বাছাই কার্যক্রম স্বচ্ছতার সাথে সম্পন্ন হয়েছে।
বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ মহোদয়ের দূরদর্শী নেতৃত্ব ও পরিকল্পনায় এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হচ্ছে। ৫টি শক্তিশালী বাছাই কমিটি নূন্যতম অনিয়মের সুযোগ বন্ধ করতে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতার সাথে প্রতিটি ধাপ তদারকি করছে। বাহিনীর সদর দপ্তরে কঠোর নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে এই প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়েছে, যা দেশের অভিবাসন খাতে এক নতুন সম্ভাবনা যোগ করেছে।
০৮ জুলাই (বুধবার) প্রথম ধাপে ঢাকা মহানগর আনসার উত্তর ও পূর্ব জোনের ১৩৯ জন টিডিপি নারী সদস্যার বাছাইয়ের পর দ্বিতীয় ধাপে ০৯ জুলাই (বৃহস্পতিবার) ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও পশ্চিম জোনের ১৬১ টিডিপি(নারী) বিদেশ গমনেচ্ছুক প্রার্থীরা প্রথমে বাহিনীর সদর দপ্তর কর্তৃক নির্ধারিত 'স্বঘোষণা' (Self-Declaration) ফর্মে স্বাক্ষর করেন। প্রথাগত কাগজ-কলমের পরীক্ষার বদলে এখানে গুরুত্ব পেয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। পরীক্ষা কক্ষে দায়িত্বরত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকদের কঠোর নজরদারিতে প্রার্থীরা নিজ নিজ স্মার্টফোনের জিমেইল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে সরাসরি 'গুগল ফর্ম'-এর মাধ্যমে লাইভ লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন।
এছাড়া প্রার্থীদের নিখুঁতভাবে ওজন, উচ্চতা পরিমাপ ও দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষাসহ যাবতীয় শারীরিক যোগ্যতা যাচাই করা হয়। সম্মিলিত ৫টি কমিটির জুরি বোর্ডের সামনে সরাসরি ইন্টারভিউ বা সাক্ষাৎকারে অংশগ্রহণ করেন প্রার্থীরা। আধুনিক নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রার্থীদের প্রতিটি ধাপের পরীক্ষার মূল্যায়নের জন্য একটি বিশেষায়িত সফটওয়্যারে ইনপুট করা হচ্ছে। ফলে কোনো রকম মানুষের হস্তক্ষেপ বা কারচুপি ছাড়াই সফটওয়্যার স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেধা তালিকা ও মূল্যায়ন মান প্রস্তুত করা হয়েছে।
পুরো আয়োজনের মূল ভিত্তি ছিল 'বাছাইয়ে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ'। কোনো রকম তদবির বা আর্থিক লেনদেনের কিংবা স্বজনপ্রীতির সুযোগ না রেখে সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজড ও স্বয়ংক্রিয় মূল্যায়ন পদ্ধতি দেখে উচ্ছ্বসিত হয়েছেন ঢাকা মহানগরের ৪ টি জোনের আগত তরুণীরা। এই পদ্ধতি যোগ্য প্রার্থীদের কাছে ছিল উৎসাহব্যঞ্জক।
কেবল যোগ্য কর্মী বাছাই করাই এই উদ্যোগের শেষ কথা নয়; এর মান নিয়ন্ত্রণে আপসহীন অবস্থান নিয়েছে বাহিনী। মূল লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা। নির্বাচিত প্রার্থীদের ইউরোপের সমাজ, সংস্কৃতি ও কাজের পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে বিশেষ মডিউল। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের কঠিন চ্যালেঞ্জ জয়ে প্রার্থীদের পেশাদার দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি তাদের মাঝে দৃঢ় মানসিকতা গড়ে তুলতে দেয়া হবে উন্নত মানের প্রশিক্ষণ। এই কঠোর ও আন্তর্জাতিক মানের প্রস্তুতিই তাদের বিদেশে যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সফল হতে সাহায্য করবে।
ইউরোপে কর্মসংস্থানের স্বপ্ন দেখা এদেশের লাখো তরুণীর জন্য এই উদ্যোগ এখন এক নতুন সম্ভাবনা ও আশার আলো। প্রথাগত ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসনের চিরচেনা অন্ধকার পথের বাইরে এই নারীরা যখন বৈধ উপায়ে ইউরোপের মাটিতে পা রাখবেন, তখন তা দেশের অন্য নারীদের মাঝেও স্বপ্ন বোনার সাহস যোগাবে। দালালমুক্ত এবং সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে ইউরোপ যাওয়ার এই যুগান্তকারী মডেলটি সফল হলে তা দেশের সামগ্রিক জনশক্তি রপ্তানি খাতের জন্য একটি অনুকরণীয় ও বৈপ্লবিক দৃষ্টান্ত হিসেবে গণ্য হবে।
সবার আগে বাংলাদেশ গড়তে এই প্রকল্পের চূড়ান্ত বাস্তবায়ন শুধু একজন সাধারণ নারীর ইউরোপে কর্মসংস্থানে ভাগ্যবদল বা পারিবারিক সচ্ছলতাই আনবে না, বরং বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে আনবে গতি। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে উজ্জ্বল হবে দেশের ভাবমূর্তি ও সুনাম। ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের গণ্ডি পেরিয়ে এর সুফল ছড়িয়ে পড়বে বিশ্বমঞ্চে। এটি একই সাথে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং বাংলাদেশের নারী জাগরণ ও ক্ষমতায়নের এক অনন্য উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে, যার সুফল ভোগ করবে বাংলাদেশ।
