রক্তের টান আর বোনের প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসা জয় করল মৃত্যুকে। লিভার সিরোসিসের মতো মরণব্যাধির কাছে হার মানেনি দুই বোনের আত্মিক বন্ধন। মৃত্যুর প্রহর গুনতে থাকা ছোট বোনকে বাঁচাতে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লিভারের একাংশ দান করলেন বড় বোন। গত শনিবার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) দীর্ঘ ও জটিল এক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এই সফল লিভার প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়। ভালোবাসার এই অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার আয়েশা সিদ্দিকা আঁখি।
আক্ষেপ মেটানো সেই ‘ভাই-বোন’
শরণখোলা উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আলমগীর তালুকদারের ছোট মেয়ে ইসমত আরা ইতি দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিসে ভুগছিলেন। শরণখোলা সরকারি ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ইতির জীবন যখন প্রদীপ নেভার শামিল, তখনই চিকিৎসকরা জানান—লিভার প্রতিস্থাপন ছাড়া তাকে বাঁচানো অসম্ভব।
এই সংকটে পরম মমতায় এগিয়ে আসেন বড় বোন আয়েশা সিদ্দিকা আঁখি। নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির সিএসই বিভাগের এই শিক্ষার্থী নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে স্বেচ্ছায় ছোট বোনকে লিভারের অংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আঁখি এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে জানান, ছোটবেলায় ভাই না থাকার আক্ষেপ ঘোচাতে তিনি বোনদের বলতেন—তিনিই তাদের ভাই, তিনিই বোন। একজন ভাই বোনের জন্য যা করে, তিনিও আজীবন তা-ই করবেন। নিজের লিভার দানকে কোনো ‘ত্যাগ’ নয়, বরং নিজের দায়িত্ব ও ভালোবাসা হিসেবেই দেখছেন আঁখি।
মানবতার এক মহৎ জয়গান
বিগত পাঁচ মাস ধরে হাসপাতাল, পরীক্ষা-নিরীক্ষা আর রক্তের সন্ধানে এক কঠিন লড়াই চালিয়েছে পরিবারটি। লিভার সিরোসিসের মতো ব্যয়বহুল চিকিৎসা এই সাধারণ পরিবারের পক্ষে অসম্ভব ছিল। কিন্তু ইতিকে বাঁচাতে এগিয়ে আসে স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষ। স্থানীয় সংবাদকর্মী, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও নেটিজেনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জোরালো ক্যাম্পেইন চালিয়ে অর্থ সংগ্রহ করেন। দেশ-বিদেশের বহু হৃদয়বান মানুষের আর্থিক সহায়তা ও স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই এই ব্যয়বহুল অস্ত্রোপচার সম্ভব হয়েছে।
এক নতুন ভোরের অপেক্ষা
দীর্ঘ ও জটিল অস্ত্রোপচার সফল হওয়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুই বোনই বর্তমানে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং ভালো আছেন। উৎকণ্ঠার প্রহর শেষে অপারেশন সফল হওয়ায় ইতির পরিবার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের লিভার ট্রান্সপ্লান্ট টিমের চিকিৎসক, নার্সসহ সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।
বড় বোনের লিভারের অংশ নিয়ে ছোট বোন ইতি আবার ফিরে পাক তার স্বাভাবিক জীবন, আর আঁখির এই সাহসী গল্প অনুপ্রেরণা হয়ে থাকুক—আজ এটাই সবার প্রার্থনা।
গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)
ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬
রক্তের টান আর বোনের প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসা জয় করল মৃত্যুকে। লিভার সিরোসিসের মতো মরণব্যাধির কাছে হার মানেনি দুই বোনের আত্মিক বন্ধন। মৃত্যুর প্রহর গুনতে থাকা ছোট বোনকে বাঁচাতে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লিভারের একাংশ দান করলেন বড় বোন। গত শনিবার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) দীর্ঘ ও জটিল এক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এই সফল লিভার প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়। ভালোবাসার এই অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার আয়েশা সিদ্দিকা আঁখি।
আক্ষেপ মেটানো সেই ‘ভাই-বোন’
শরণখোলা উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আলমগীর তালুকদারের ছোট মেয়ে ইসমত আরা ইতি দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিসে ভুগছিলেন। শরণখোলা সরকারি ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ইতির জীবন যখন প্রদীপ নেভার শামিল, তখনই চিকিৎসকরা জানান—লিভার প্রতিস্থাপন ছাড়া তাকে বাঁচানো অসম্ভব।
এই সংকটে পরম মমতায় এগিয়ে আসেন বড় বোন আয়েশা সিদ্দিকা আঁখি। নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির সিএসই বিভাগের এই শিক্ষার্থী নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে স্বেচ্ছায় ছোট বোনকে লিভারের অংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আঁখি এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে জানান, ছোটবেলায় ভাই না থাকার আক্ষেপ ঘোচাতে তিনি বোনদের বলতেন—তিনিই তাদের ভাই, তিনিই বোন। একজন ভাই বোনের জন্য যা করে, তিনিও আজীবন তা-ই করবেন। নিজের লিভার দানকে কোনো ‘ত্যাগ’ নয়, বরং নিজের দায়িত্ব ও ভালোবাসা হিসেবেই দেখছেন আঁখি।
মানবতার এক মহৎ জয়গান
বিগত পাঁচ মাস ধরে হাসপাতাল, পরীক্ষা-নিরীক্ষা আর রক্তের সন্ধানে এক কঠিন লড়াই চালিয়েছে পরিবারটি। লিভার সিরোসিসের মতো ব্যয়বহুল চিকিৎসা এই সাধারণ পরিবারের পক্ষে অসম্ভব ছিল। কিন্তু ইতিকে বাঁচাতে এগিয়ে আসে স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষ। স্থানীয় সংবাদকর্মী, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও নেটিজেনরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জোরালো ক্যাম্পেইন চালিয়ে অর্থ সংগ্রহ করেন। দেশ-বিদেশের বহু হৃদয়বান মানুষের আর্থিক সহায়তা ও স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই এই ব্যয়বহুল অস্ত্রোপচার সম্ভব হয়েছে।
এক নতুন ভোরের অপেক্ষা
দীর্ঘ ও জটিল অস্ত্রোপচার সফল হওয়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুই বোনই বর্তমানে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং ভালো আছেন। উৎকণ্ঠার প্রহর শেষে অপারেশন সফল হওয়ায় ইতির পরিবার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের লিভার ট্রান্সপ্লান্ট টিমের চিকিৎসক, নার্সসহ সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।
বড় বোনের লিভারের অংশ নিয়ে ছোট বোন ইতি আবার ফিরে পাক তার স্বাভাবিক জীবন, আর আঁখির এই সাহসী গল্প অনুপ্রেরণা হয়ে থাকুক—আজ এটাই সবার প্রার্থনা।
