নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে থানাকেন্দ্রিক চাঁদাবাজি, ঘুষ বাণিজ্য ও মাসোহারা আদায়ে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর থানার অধীন বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটে ঘুষ আদায়, মাদক কারবারিদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা নেওয়া এবং বিভিন্ন সেবার নামে অর্থ আদায়ের প্রবণতা বেড়েছে। যদিও এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন ওসি।
সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগটি উঠেছে সদর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের ইকরতাড়া গ্রামের বাসিন্দা ফ্রিল্যান্সার সিহাব হোসেনকে ঘিরে। অভিযোগ রয়েছে, গত ২২ জুন সদর মডেল থানার এএসআই জাকারিয়া অর্থ পাচারের অভিযোগ তুলে সিহাবের বাড়িতে গিয়ে তাকে হাতকড়া পরান। পরে বিষয়টি মীমাংসার নামে সিহাবের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে প্রায় এক লাখ টাকা সমমূল্যের ডলার অন্য একটি অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে নিয়মিত মোটা অঙ্কের অর্থ দেওয়ার জন্যও চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
সিহাবের এক ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পুরো ঘটনাটি ওসির জ্ঞাতসারেই ঘটেছে। তবে অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর পুলিশ সুপারের নির্দেশে এএসআই জাকারিয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও ওসির বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এদিকে সদর উপজেলার হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়নের ভীমপুর গ্রামের বাসিন্দা আতিকুর রহমান অভিযোগ করেন, জমি-সংক্রান্ত একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) তদন্তের সময় ভীমপুর তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই চন্দন তার কাছ থেকে দুই হাজার টাকা নেন। পরে তদন্ত প্রতিবেদন অনুকূলে দেওয়ার কথা বলে ওসির নামে আরও পাঁচ হাজার টাকা দাবি করা হয়। দাবি করা অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে নানাভাবে হয়রানি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
শুধু পৃথক অভিযোগই নয়, শহরের কয়েকটি এলাকায় মাদক ও জুয়ার আসর নিয়েও পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। শহরের বাসিন্দা ইশাতির রাদি দাবি করেন, কালিতলা, হাট নওগাঁ ও গোস্তহাটিসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হলেও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা নেওয়ার কারণে কার্যকর অভিযান পরিচালনা করা হয় না। নির্ধারিত অর্থ না দিলে তবেই অভিযানে নামে পুলিশ—এমন অভিযোগও করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এএসআই জাকারিয়া প্রথমে সাক্ষাতে কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করলেও পরে আর ফোন রিসিভ করেননি। তবে এএসআই চন্দন তার বিরুদ্ধে আনা ঘুষ দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
নওগাঁ সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, “এএসআই জাকারিয়ার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে, সেদিন আমি ছুটিতে ছিলাম। ভীমপুর তদন্ত কেন্দ্র ও কালিতলা পুলিশ ফাঁড়ি নিয়ে যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে, সেগুলোর সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।”
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, “এএসআই জাকারিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কালিতলা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জকেও সম্প্রতি প্রত্যাহার করা হয়েছে।”
ওসির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে ভুক্তভোগীরা লিখিতভাবে জানাতে পারেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত চলমান রয়েছে।
গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)
ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুলাই ২০২৬
নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে থানাকেন্দ্রিক চাঁদাবাজি, ঘুষ বাণিজ্য ও মাসোহারা আদায়ে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর থানার অধীন বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটে ঘুষ আদায়, মাদক কারবারিদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা নেওয়া এবং বিভিন্ন সেবার নামে অর্থ আদায়ের প্রবণতা বেড়েছে। যদিও এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন ওসি।
সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগটি উঠেছে সদর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের ইকরতাড়া গ্রামের বাসিন্দা ফ্রিল্যান্সার সিহাব হোসেনকে ঘিরে। অভিযোগ রয়েছে, গত ২২ জুন সদর মডেল থানার এএসআই জাকারিয়া অর্থ পাচারের অভিযোগ তুলে সিহাবের বাড়িতে গিয়ে তাকে হাতকড়া পরান। পরে বিষয়টি মীমাংসার নামে সিহাবের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে প্রায় এক লাখ টাকা সমমূল্যের ডলার অন্য একটি অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে নিয়মিত মোটা অঙ্কের অর্থ দেওয়ার জন্যও চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
সিহাবের এক ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পুরো ঘটনাটি ওসির জ্ঞাতসারেই ঘটেছে। তবে অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর পুলিশ সুপারের নির্দেশে এএসআই জাকারিয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও ওসির বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এদিকে সদর উপজেলার হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়নের ভীমপুর গ্রামের বাসিন্দা আতিকুর রহমান অভিযোগ করেন, জমি-সংক্রান্ত একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) তদন্তের সময় ভীমপুর তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই চন্দন তার কাছ থেকে দুই হাজার টাকা নেন। পরে তদন্ত প্রতিবেদন অনুকূলে দেওয়ার কথা বলে ওসির নামে আরও পাঁচ হাজার টাকা দাবি করা হয়। দাবি করা অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে নানাভাবে হয়রানি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
শুধু পৃথক অভিযোগই নয়, শহরের কয়েকটি এলাকায় মাদক ও জুয়ার আসর নিয়েও পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। শহরের বাসিন্দা ইশাতির রাদি দাবি করেন, কালিতলা, হাট নওগাঁ ও গোস্তহাটিসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হলেও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা নেওয়ার কারণে কার্যকর অভিযান পরিচালনা করা হয় না। নির্ধারিত অর্থ না দিলে তবেই অভিযানে নামে পুলিশ—এমন অভিযোগও করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এএসআই জাকারিয়া প্রথমে সাক্ষাতে কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করলেও পরে আর ফোন রিসিভ করেননি। তবে এএসআই চন্দন তার বিরুদ্ধে আনা ঘুষ দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
নওগাঁ সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, “এএসআই জাকারিয়ার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে, সেদিন আমি ছুটিতে ছিলাম। ভীমপুর তদন্ত কেন্দ্র ও কালিতলা পুলিশ ফাঁড়ি নিয়ে যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে, সেগুলোর সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।”
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, “এএসআই জাকারিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কালিতলা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জকেও সম্প্রতি প্রত্যাহার করা হয়েছে।”
ওসির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে ভুক্তভোগীরা লিখিতভাবে জানাতে পারেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত চলমান রয়েছে।
