রাজশাহীর তানোরে বিল কুমারী (শিবনদী) বিলের সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মানের দেড় দশক পার হলেও হয়নি পাকা। অথচ এই সড়কে প্রতি বছর নানাভাবে বরাদ্দ হলেও খানাখন্দ দূর হয়না। যার কারনে স্থানীয়রা এই সড়ককে অলৌকিক সড়ক হিসেবে পরিনত করেছেন। কারন সড়ক পাকা হলে তো প্রতি বছর বরাদ্দও হবে না। বরাদ্দ না হলে কর্তাদের পকেটও ভরবে না। ফলে, ইট সলিং হেয়ারিং বন্ডের ইট ভেঙ্গে ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় চরম দূর্ভোগ পোহাচ্ছেন চলাচলকারী অটো, অটো ভ্যান, ভুটভুটি ও মটরসাইকেলসহ ছোট বড় যান যানবাহন চালকরা। বেহাল দশার এই রাস্তাটি পাকা না হওয়ায় ভারি যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। অপর দিকে মুক্ত বাতাসে ঘুরাঘুরি করতে আসা দর্শনার্থী ও বিনোদন প্রেমীদের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। তানোর গোল্লাপাড়া বাজার থেকে সেতু পর্যন্ত এবং সেতু থেকে মোহনপুর সিমানার বাঁধ পর্যন্ত হেয়ারিংবন্ড করা রাস্তা চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। তবে, মোহনপুর সীমানার বাধ থেকে সইপাড়া পর্যন্ত রাস্তা পাকা করনের কাজ চলমান রয়েছে ।
অপর দিকে তানোর সীমানার রাস্তা (হেয়ারিংবন্ড) ইট ছলিংই রয়ে গেছে। সংযোগ সড়কটি পাকা না করায় এই সেতু নির্মানের পুরো সুফল পাচ্ছে না জনসাধারণ। যে উদ্যেশ্য সেতু নির্মান করা হয়েছিলো রাস্তার কারনে তা ঠিকমতো কাজে আসছে না। সংস্কারের পর সংস্কার চলছে কিন্তু অবস্থা একই থেকে যাচ্ছে। প্রতি বছরই বন্যার পানিতে সংযোগ সড়কের ভাঙ্গন থামছেই না। তাই জরুরী ভিত্তিতে রাস্তাটি পাকা কার্পেটিং করার দাবি জানিয়েছেন তানোর মোহনপুর উপজেলার লাখো মানুষ।
তানোর উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তানোর মোহনপুর বাসীর দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে ২০০৬ সালে ৫ কোটি টাকা ব্যয় ধরে শিব নদী বা বিল কুমারী বিলের মাঝখানে ২১০ মিটার দীর্ঘ সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। ২০১১/১২ সালে এর নির্মান কাজ শেষ হয়। এর পর সেতুর সংযোগ সড়কের নির্মানের কাজ করা হয় দু' পার্শ্ব থেকে মাটি কেটে করা হয় রাস্তা। তবে সিডিউলে অন্য জায়গা থেকে মাটি এনে রাস্তা নির্মানের কথা থাকলেও তা করা হয়নি। মাটির রাস্তা রেখেই ২০১৫ সালে সেতুটি চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয়। প্রায় ৬ মাস পর রাস্তাটি হেয়ারিং বন্ড ইট সলিং রাস্তা নির্মান করা হয়। ওই বছরই বন্যায় সেতুর দু পার্শ্বের সড়ক ভেঙ্গে যায়।
বিলের মধ্যে নতুন রাস্তা তৈরির জন্য দু' পার্শ্বে থেকে মাটি কেটে রাস্তা তৈরির ফলে বর্ষার বন্যায় ভেঙ্গে যায়। এভাবেই প্রতিবছরই গত প্রায় ১০ বছরে ২০/২৫ কোটি টাকা খচর হয়েছে। তবুও রাস্তাটি এখনো পাকা করণ করা হয়নি। সেতুর এক পাশে পৌর সদরের গোল্লাপাড়া বাজার, অন্যপাশে মোহনপুর উপজেলার শ্যামপুর বাজার। দুই এলাকার মানুষ যাতে সহজেই বাজারে যাতায়াত করতে পারেন।
স্থানীয়রা বলছেন, সেতু ও সড়ক নির্মানের পর থেকে প্রতিবছরই ভেঙ্গে যাচ্ছিলো রাস্তা। তাই রাস্তা পাকা করা জরুরী। রাস্তাটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ায় দিনদিন দর্শনার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা বানিজ্যেও প্রভাব পড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আকতার, কাদের, আশরাফুলসহ অনেকে জানান, দুই উপজেলা বাসির মধ্যে যোগাযোগের সেতু বন্ধন তৈরি করার জন্যই বিগত চারদলীয় জোট সরকারের সময় প্রয়াত মন্ত্রী ব্যরিস্টার আমিনুল হক সেতু ও সংযোগ সড়কের কাজের উদ্বোধন করেন। পরে প্রেক্ষাপটে পরিবর্তন হয়। আ"লীগ সরকার গঠমের পর শুরু হয় সংযোগ সড়কের কাজ। দীর্ঘ সময় সংযোগ সড়কের কাজ করা হলেও শেষ হয়না। অথচ পদ্মা সেতু, চট্টগ্রাম ট্যানেল, মেট্রোরেলের মত বৃহৎ প্রকল্পের কাজ শেষ হলেও এই সংযোগ সড়কের কাজ শেষ হয়না। এক আজব ব্রীজের অলৌকিক সড়ক হিসেবে পরিচিত হয়ে পড়েছে। যে পরিমান অর্থ খরচ হয়েছে তা দিয়ে আরো কয়েকটা সেতু নির্মান করা হত।
অটো ভ্যান চালক, ইসলাম, বাবু, সাফিউলসহ অনেকে জানান, হেয়ারিংবন্ড ও ইট সলিং সংযোগ সড়কের কারনে ভাড়া মারা যায়না। অথচ প্রতিদিন দুই উপজেলার শতশত মানুষ এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। এরাস্তা দিয়ে ভাড়া নিয়ে যাওয়া মানেই গড়ির ক্ষতি করা। এজন্য অনেকে ভাড়া মারতে পারেনা। বিশেষ করে শুক্রবার ও মঙ্গলবার গোল্লাপাড়া হাটের দিন। হসটের দিনে মোহনপুর উপজেলা থেকে প্রচুর পরিমানে সবজি আসে। কিন্তু সংযোগ সড়কের কারনে ভাড়া দ্বিগুন গুনতে হয়। একারনে অনেকেই সবজি নিয়ে হাটে আসতে পারেনা। সেতুর পূর্ব দিকের মুখ থেকে ২০/৩০ হাত সড়কে প্রচুর ভাঙ্গন। ভেঙ্গে সরু হয়ে পড়েছে। সড়কের উত্তর ও দক্ষিণ দিকে ব্লক সরে গেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় এই ২০/২৫ সড়ক সংস্কার করা হয়। প্রায় দশ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হলেও কোন সুফল পাওয়া যায়নি।
এব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে তানোর উপজেলা প্রকৌশলী নুরুন্নাহার বলেন, সড়কটি পাকা করনের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)
ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬
রাজশাহীর তানোরে বিল কুমারী (শিবনদী) বিলের সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মানের দেড় দশক পার হলেও হয়নি পাকা। অথচ এই সড়কে প্রতি বছর নানাভাবে বরাদ্দ হলেও খানাখন্দ দূর হয়না। যার কারনে স্থানীয়রা এই সড়ককে অলৌকিক সড়ক হিসেবে পরিনত করেছেন। কারন সড়ক পাকা হলে তো প্রতি বছর বরাদ্দও হবে না। বরাদ্দ না হলে কর্তাদের পকেটও ভরবে না। ফলে, ইট সলিং হেয়ারিং বন্ডের ইট ভেঙ্গে ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় চরম দূর্ভোগ পোহাচ্ছেন চলাচলকারী অটো, অটো ভ্যান, ভুটভুটি ও মটরসাইকেলসহ ছোট বড় যান যানবাহন চালকরা। বেহাল দশার এই রাস্তাটি পাকা না হওয়ায় ভারি যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। অপর দিকে মুক্ত বাতাসে ঘুরাঘুরি করতে আসা দর্শনার্থী ও বিনোদন প্রেমীদের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। তানোর গোল্লাপাড়া বাজার থেকে সেতু পর্যন্ত এবং সেতু থেকে মোহনপুর সিমানার বাঁধ পর্যন্ত হেয়ারিংবন্ড করা রাস্তা চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। তবে, মোহনপুর সীমানার বাধ থেকে সইপাড়া পর্যন্ত রাস্তা পাকা করনের কাজ চলমান রয়েছে ।
অপর দিকে তানোর সীমানার রাস্তা (হেয়ারিংবন্ড) ইট ছলিংই রয়ে গেছে। সংযোগ সড়কটি পাকা না করায় এই সেতু নির্মানের পুরো সুফল পাচ্ছে না জনসাধারণ। যে উদ্যেশ্য সেতু নির্মান করা হয়েছিলো রাস্তার কারনে তা ঠিকমতো কাজে আসছে না। সংস্কারের পর সংস্কার চলছে কিন্তু অবস্থা একই থেকে যাচ্ছে। প্রতি বছরই বন্যার পানিতে সংযোগ সড়কের ভাঙ্গন থামছেই না। তাই জরুরী ভিত্তিতে রাস্তাটি পাকা কার্পেটিং করার দাবি জানিয়েছেন তানোর মোহনপুর উপজেলার লাখো মানুষ।
তানোর উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তানোর মোহনপুর বাসীর দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে ২০০৬ সালে ৫ কোটি টাকা ব্যয় ধরে শিব নদী বা বিল কুমারী বিলের মাঝখানে ২১০ মিটার দীর্ঘ সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। ২০১১/১২ সালে এর নির্মান কাজ শেষ হয়। এর পর সেতুর সংযোগ সড়কের নির্মানের কাজ করা হয় দু' পার্শ্ব থেকে মাটি কেটে করা হয় রাস্তা। তবে সিডিউলে অন্য জায়গা থেকে মাটি এনে রাস্তা নির্মানের কথা থাকলেও তা করা হয়নি। মাটির রাস্তা রেখেই ২০১৫ সালে সেতুটি চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয়। প্রায় ৬ মাস পর রাস্তাটি হেয়ারিং বন্ড ইট সলিং রাস্তা নির্মান করা হয়। ওই বছরই বন্যায় সেতুর দু পার্শ্বের সড়ক ভেঙ্গে যায়।
বিলের মধ্যে নতুন রাস্তা তৈরির জন্য দু' পার্শ্বে থেকে মাটি কেটে রাস্তা তৈরির ফলে বর্ষার বন্যায় ভেঙ্গে যায়। এভাবেই প্রতিবছরই গত প্রায় ১০ বছরে ২০/২৫ কোটি টাকা খচর হয়েছে। তবুও রাস্তাটি এখনো পাকা করণ করা হয়নি। সেতুর এক পাশে পৌর সদরের গোল্লাপাড়া বাজার, অন্যপাশে মোহনপুর উপজেলার শ্যামপুর বাজার। দুই এলাকার মানুষ যাতে সহজেই বাজারে যাতায়াত করতে পারেন।
স্থানীয়রা বলছেন, সেতু ও সড়ক নির্মানের পর থেকে প্রতিবছরই ভেঙ্গে যাচ্ছিলো রাস্তা। তাই রাস্তা পাকা করা জরুরী। রাস্তাটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ায় দিনদিন দর্শনার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা বানিজ্যেও প্রভাব পড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আকতার, কাদের, আশরাফুলসহ অনেকে জানান, দুই উপজেলা বাসির মধ্যে যোগাযোগের সেতু বন্ধন তৈরি করার জন্যই বিগত চারদলীয় জোট সরকারের সময় প্রয়াত মন্ত্রী ব্যরিস্টার আমিনুল হক সেতু ও সংযোগ সড়কের কাজের উদ্বোধন করেন। পরে প্রেক্ষাপটে পরিবর্তন হয়। আ"লীগ সরকার গঠমের পর শুরু হয় সংযোগ সড়কের কাজ। দীর্ঘ সময় সংযোগ সড়কের কাজ করা হলেও শেষ হয়না। অথচ পদ্মা সেতু, চট্টগ্রাম ট্যানেল, মেট্রোরেলের মত বৃহৎ প্রকল্পের কাজ শেষ হলেও এই সংযোগ সড়কের কাজ শেষ হয়না। এক আজব ব্রীজের অলৌকিক সড়ক হিসেবে পরিচিত হয়ে পড়েছে। যে পরিমান অর্থ খরচ হয়েছে তা দিয়ে আরো কয়েকটা সেতু নির্মান করা হত।
অটো ভ্যান চালক, ইসলাম, বাবু, সাফিউলসহ অনেকে জানান, হেয়ারিংবন্ড ও ইট সলিং সংযোগ সড়কের কারনে ভাড়া মারা যায়না। অথচ প্রতিদিন দুই উপজেলার শতশত মানুষ এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। এরাস্তা দিয়ে ভাড়া নিয়ে যাওয়া মানেই গড়ির ক্ষতি করা। এজন্য অনেকে ভাড়া মারতে পারেনা। বিশেষ করে শুক্রবার ও মঙ্গলবার গোল্লাপাড়া হাটের দিন। হসটের দিনে মোহনপুর উপজেলা থেকে প্রচুর পরিমানে সবজি আসে। কিন্তু সংযোগ সড়কের কারনে ভাড়া দ্বিগুন গুনতে হয়। একারনে অনেকেই সবজি নিয়ে হাটে আসতে পারেনা। সেতুর পূর্ব দিকের মুখ থেকে ২০/৩০ হাত সড়কে প্রচুর ভাঙ্গন। ভেঙ্গে সরু হয়ে পড়েছে। সড়কের উত্তর ও দক্ষিণ দিকে ব্লক সরে গেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় এই ২০/২৫ সড়ক সংস্কার করা হয়। প্রায় দশ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হলেও কোন সুফল পাওয়া যায়নি।
এব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে তানোর উপজেলা প্রকৌশলী নুরুন্নাহার বলেন, সড়কটি পাকা করনের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
