গ্রুপ পর্বের পর্দা এখনও পুরোপুরি নামেনি, অথচ এর মাঝেই ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে শুরু হয়ে গেছে এক অবিশ্বাস্য গোল-উৎসব। ফুটবল বিশ্বের তিন মহাতারকা—লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং আর্লিং হালান্ড—গোল্ডেন বুটের লড়াইটাকে এমন এক চূড়ায় নিয়ে গেছেন, যা ফুটবল বিশ্ব শেষবার দেখেছিল সাত দশক আগে।
টুর্নামেন্টে মাত্র দুটি করে ম্যাচ শেষেই শুরু হয়ে গেছে ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলবন্যার মহড়া। ১৯৫৪ সালের সুইজারল্যান্ড বিশ্বকাপের পর এই প্রথম কোনো বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচ শেষে তিন-তিনজন খেলোয়াড়ের গোলসংখ্যা চার বা তার বেশি।
শীর্ষে ‘বুড়ো হাড়ের ভেলকি’
বয়সকে স্রেফ একটি সংখ্যা বানিয়ে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবার সামনে আছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। দুই ম্যাচেই তার নামের পাশে জ্বলজ্বল করছে ৫টি গোল। শুধু তা-ই নয়, অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে তিনি ভেঙে দিয়েছেন বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। ২৮ ম্যাচে ১৮ গোল করে এখন ফুটবল ইতিহাসের এককভাবে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা লিওনেল মেসি।
রেকর্ডে এমবাপ্পে, অভিষেকেই উড়ছেন হালান্ড
মেসিকে একদম ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আর্লিং হালান্ড। দুজনেরই গোলসংখ্যা ৪টি করে। ইরাকের বিপক্ষে জোড়া গোল করে ফরাসি তারকা এমবাপ্পে ছুঁয়ে ফেলেছেন জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের ঐতিহাসিক কীর্তি।
অন্যদিকে, নিজের প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে এসেই রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছেন নরওয়েজিয়ান গোলমেশিন আর্লিং হালান্ড। সেনেগালের বিপক্ষে তার জোড়া গোলেই নরওয়ের ‘শেষ ৩২’ নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা।
পিছিয়ে নেই হ্যারি কেইনও
এই ত্রিমুখী লড়াইয়ের ঠিক পেছনেই ওত পেতে আছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন। প্রথম ম্যাচেই জোড়া গোল করা এই ইংলিশ স্ট্রাইকারের সামনেও সুযোগ রয়েছে যেকোনো মুহূর্তে ব্যবধান কমিয়ে শীর্ষে চলে আসার।
নতুন ফরম্যাট, গোলের নতুন দিগন্ত
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, ৪৮ দলের নতুন ও বর্ধিত ফরম্যাটের কারণেই এবারের বিশ্বকাপে গোলের বন্যা দেখা যাচ্ছে। ম্যাচ সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় স্ট্রাইকাররা নিজেদের ঝুলিতে আরও বেশি গোল পুরে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
এখন মূল প্রশ্ন হলো—শেষ পর্যন্ত কার মাথায় উঠবে সর্বোচ্চ গোলদাতার মুকুট? মেসির জাদুকরী অভিজ্ঞতা, এমবাপ্পের অতিমানবীয় গতি নাকি হালান্ডের নিখুঁত ফিনিশিং? উত্তর যার পক্ষেই যাক, ২০২৬ বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটের এই লড়াই যে ফুটবল ইতিহাসের পাতায় আলাদা করে লেখা থাকবে, তা বলাই বাহুল্য।
গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)
ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুন ২০২৬
গ্রুপ পর্বের পর্দা এখনও পুরোপুরি নামেনি, অথচ এর মাঝেই ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে শুরু হয়ে গেছে এক অবিশ্বাস্য গোল-উৎসব। ফুটবল বিশ্বের তিন মহাতারকা—লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং আর্লিং হালান্ড—গোল্ডেন বুটের লড়াইটাকে এমন এক চূড়ায় নিয়ে গেছেন, যা ফুটবল বিশ্ব শেষবার দেখেছিল সাত দশক আগে।
টুর্নামেন্টে মাত্র দুটি করে ম্যাচ শেষেই শুরু হয়ে গেছে ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলবন্যার মহড়া। ১৯৫৪ সালের সুইজারল্যান্ড বিশ্বকাপের পর এই প্রথম কোনো বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচ শেষে তিন-তিনজন খেলোয়াড়ের গোলসংখ্যা চার বা তার বেশি।
শীর্ষে ‘বুড়ো হাড়ের ভেলকি’
বয়সকে স্রেফ একটি সংখ্যা বানিয়ে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবার সামনে আছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। দুই ম্যাচেই তার নামের পাশে জ্বলজ্বল করছে ৫টি গোল। শুধু তা-ই নয়, অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে তিনি ভেঙে দিয়েছেন বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। ২৮ ম্যাচে ১৮ গোল করে এখন ফুটবল ইতিহাসের এককভাবে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা লিওনেল মেসি।
রেকর্ডে এমবাপ্পে, অভিষেকেই উড়ছেন হালান্ড
মেসিকে একদম ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আর্লিং হালান্ড। দুজনেরই গোলসংখ্যা ৪টি করে। ইরাকের বিপক্ষে জোড়া গোল করে ফরাসি তারকা এমবাপ্পে ছুঁয়ে ফেলেছেন জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের ঐতিহাসিক কীর্তি।
অন্যদিকে, নিজের প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে এসেই রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছেন নরওয়েজিয়ান গোলমেশিন আর্লিং হালান্ড। সেনেগালের বিপক্ষে তার জোড়া গোলেই নরওয়ের ‘শেষ ৩২’ নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা।
পিছিয়ে নেই হ্যারি কেইনও
এই ত্রিমুখী লড়াইয়ের ঠিক পেছনেই ওত পেতে আছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন। প্রথম ম্যাচেই জোড়া গোল করা এই ইংলিশ স্ট্রাইকারের সামনেও সুযোগ রয়েছে যেকোনো মুহূর্তে ব্যবধান কমিয়ে শীর্ষে চলে আসার।
নতুন ফরম্যাট, গোলের নতুন দিগন্ত
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, ৪৮ দলের নতুন ও বর্ধিত ফরম্যাটের কারণেই এবারের বিশ্বকাপে গোলের বন্যা দেখা যাচ্ছে। ম্যাচ সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় স্ট্রাইকাররা নিজেদের ঝুলিতে আরও বেশি গোল পুরে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
এখন মূল প্রশ্ন হলো—শেষ পর্যন্ত কার মাথায় উঠবে সর্বোচ্চ গোলদাতার মুকুট? মেসির জাদুকরী অভিজ্ঞতা, এমবাপ্পের অতিমানবীয় গতি নাকি হালান্ডের নিখুঁত ফিনিশিং? উত্তর যার পক্ষেই যাক, ২০২৬ বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটের এই লড়াই যে ফুটবল ইতিহাসের পাতায় আলাদা করে লেখা থাকবে, তা বলাই বাহুল্য।
