খবর প্রতিদিন ২৪

বহুদলীয় গণতন্ত্র ও উন্নয়নের অগ্রদূত জিয়াউর রহমান: বিএনপি ও সমসাময়িক রাজনীতির চালচিত্র



বহুদলীয় গণতন্ত্র ও উন্নয়নের অগ্রদূত জিয়াউর রহমান: বিএনপি ও সমসাময়িক রাজনীতির চালচিত্র

​বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন একটি দল, প্রতিষ্ঠার পর থেকে যার জনসমর্থন ও জনপ্রিয়তার গ্রাফ সবসময়ই ঊর্ধ্বমুখী। ১৯৭৮ সালে এক ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী হাত ধরে এই দলের জন্ম হয়েছিল। ক্ষমতার উচ্চ শিখরে অবস্থান করেও জিয়াউর রহমান দেশের শ্রেষ্ঠ মেধাবী ও সম্মানিত ব্যক্তিত্বদের এক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এসেছিলেন। তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল—একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠন, গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, বহুদলীয় গণতন্ত্রের চর্চা এবং সর্বোপরি দেশের মানুষের কল্যাণ সাধন। এই মহান ব্রত নিয়ে তিনি নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছিলেন এবং দিন-রাত টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া ছুটে বেরিয়েছেন।

​তৃণমূল উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক বিপ্লব

​শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শুধু রাজনীতিতেই নয়, দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংস্কারে এক যুগান্তকারী বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন। তাঁর গৃহীত পদক্ষেপগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল:

​খাল খনন ও কৃষি বিপ্লব: দেশজুড়ে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটিয়ে খাদ্য উৎপাদন দ্বিগুণ করেছিলেন।

​পরিবেশ রক্ষা: দেশব্যাপী সামাজিক বনায়ন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে একটি আন্দোলনে রূপ দেন।

​নারীর ক্ষমতায়ন ও স্বাবলম্বিতা: দেশের উন্নয়নে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের সম্পৃক্ত করা ছিল তাঁর দূরদর্শী চিন্তার ফসল। মা-বোনদের হাঁস-মুরগি পালন, কুটির শিল্পসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করে তিনি গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক অভূতপূর্ব জোয়ার এনেছিলেন।

​"জিয়াউর রহমানের উন্নয়ন দর্শন ছিল মূলত উৎপাদনমুখী এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়।"

​আঞ্চলিক ভূরাজনীতি ও সার্ক গঠন

​বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে এক মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার পেছনে জিয়াউর রহমানের পররাষ্ট্রনীতি ছিল অনন্য। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে হলে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা অপরিহার্য।

​এই দূরদর্শী চিন্তা থেকেই তিনি দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক - SAARC) গঠনের উদ্যোগ নেন এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোকে উৎসাহিত করেন। তাঁর এই কূটনৈতিক দূরদর্শিতার কারণেই বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।

​উপসংহার:

সংক্ষেপে বলতে গেলে, জিয়াউর রহমানের আদর্শ, বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তন এবং তৃণমূলমুখী উন্নয়নই আজ অবধি বিএনপির জনপ্রিয়তার মূল ভিত্তি। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে নানা ঝড়-ঝাপটা সত্ত্বেও জনগণের মাঝে দলটির গ্রহণযোগ্যতা অক্ষুণ্ণ থাকার পেছনে রয়েছে এই ঐতিহাসিক ও কালজয়ী অবদান।

লেখক:মো.মামুনুর হাসান টিপু বিশিষ্ট সাংবাদিক

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: /৫ ( ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

খবর প্রতিদিন ২৪

শনিবার, ২০ জুন ২০২৬


বহুদলীয় গণতন্ত্র ও উন্নয়নের অগ্রদূত জিয়াউর রহমান: বিএনপি ও সমসাময়িক রাজনীতির চালচিত্র

প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬

featured Image

​বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন একটি দল, প্রতিষ্ঠার পর থেকে যার জনসমর্থন ও জনপ্রিয়তার গ্রাফ সবসময়ই ঊর্ধ্বমুখী। ১৯৭৮ সালে এক ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী হাত ধরে এই দলের জন্ম হয়েছিল। ক্ষমতার উচ্চ শিখরে অবস্থান করেও জিয়াউর রহমান দেশের শ্রেষ্ঠ মেধাবী ও সম্মানিত ব্যক্তিত্বদের এক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে এসেছিলেন। তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল—একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠন, গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, বহুদলীয় গণতন্ত্রের চর্চা এবং সর্বোপরি দেশের মানুষের কল্যাণ সাধন। এই মহান ব্রত নিয়ে তিনি নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছিলেন এবং দিন-রাত টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া ছুটে বেরিয়েছেন।

​তৃণমূল উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক বিপ্লব

​শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শুধু রাজনীতিতেই নয়, দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংস্কারে এক যুগান্তকারী বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন। তাঁর গৃহীত পদক্ষেপগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল:

​খাল খনন ও কৃষি বিপ্লব: দেশজুড়ে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটিয়ে খাদ্য উৎপাদন দ্বিগুণ করেছিলেন।

​পরিবেশ রক্ষা: দেশব্যাপী সামাজিক বনায়ন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে একটি আন্দোলনে রূপ দেন।

​নারীর ক্ষমতায়ন ও স্বাবলম্বিতা: দেশের উন্নয়নে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের সম্পৃক্ত করা ছিল তাঁর দূরদর্শী চিন্তার ফসল। মা-বোনদের হাঁস-মুরগি পালন, কুটির শিল্পসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করে তিনি গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক অভূতপূর্ব জোয়ার এনেছিলেন।

​"জিয়াউর রহমানের উন্নয়ন দর্শন ছিল মূলত উৎপাদনমুখী এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়।"

​আঞ্চলিক ভূরাজনীতি ও সার্ক গঠন

​বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে এক মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার পেছনে জিয়াউর রহমানের পররাষ্ট্রনীতি ছিল অনন্য। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে হলে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা অপরিহার্য।

​এই দূরদর্শী চিন্তা থেকেই তিনি দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক - SAARC) গঠনের উদ্যোগ নেন এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোকে উৎসাহিত করেন। তাঁর এই কূটনৈতিক দূরদর্শিতার কারণেই বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।

​উপসংহার:

সংক্ষেপে বলতে গেলে, জিয়াউর রহমানের আদর্শ, বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তন এবং তৃণমূলমুখী উন্নয়নই আজ অবধি বিএনপির জনপ্রিয়তার মূল ভিত্তি। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে নানা ঝড়-ঝাপটা সত্ত্বেও জনগণের মাঝে দলটির গ্রহণযোগ্যতা অক্ষুণ্ণ থাকার পেছনে রয়েছে এই ঐতিহাসিক ও কালজয়ী অবদান।

লেখক:মো.মামুনুর হাসান টিপু বিশিষ্ট সাংবাদিক


খবর প্রতিদিন ২৪

প্রকাশক
মোঃ মামুনুর হাসান (টিপু)
সম্পাদক
খন্দকার আমিনুর রহমান
বার্তা সম্পাদক
মোঃ তরিকুল ইসলাম
উপদেষ্টা মন্ডলীর সভাপতি
বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. এস এম জাহাঙ্গীর আলম [পরিচালক] বাংলাদেশ স্যাটেলাইট
আইন উপদেষ্টা
মুহাম্মদ গোলাম হোসেন (এডভোকেট বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট)

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
বহুদলীয় গণতন্ত্র ও উন্নয়নের অগ্রদূত জিয়াউর রহমান: বিএনপি ও সমসাময়িক রাজনীতির চালচিত্র
0:00 / 0:00
1x