ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে ও নরওয়ের আর্লিং হলান্ড দুজনই জোড়া গোল করলেন বিশ্বকাপে, তখন দেখার বিষয় ছিল পরের ম্যাচে নেমে লিওনেল মেসি কী করেন।আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে জয় পাওয়া ম্যাচে তিনি বিশ্বকাপে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিক করেন এবং ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা হট ফেবারিটের মতোই বিশ্বকাপ শুরু করেছে।
এই হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে ৩৮ বছর বয়সী মেসি কানসাস সিটিতে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১৬ গোলের রেকর্ডে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার পাশে বসেছেন। তিন গোলের মধ্যে দ্বিতীয় গোলটি করে তিনি ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিওর বিশ্বকাপ গোলসংখ্যাকেও স্পর্শ করেন।
গ্রুপ ‘জে’-তে আর্জেন্টিনার বাকি দুই প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া ও জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচে মেসির সামনে এককভাবে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে তাকে নজর রাখতে হবে এমবাপ্পের দিকেও। সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোল করে ফরাসি তারকা বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১৪-তে নিয়ে গেছেন এবং আগামী মঙ্গলবার (২৩ জুন) ইরাকের বিপক্ষেও সেই সংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ পাবেন।
ঐতিহাসিক এই রাতের সাক্ষী হওয়ার পর ব্রাজিলের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার রোনালদো মেসির প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন। তার মতে, সর্বকালের সেরা ফুটবলার কে—এই বিতর্কের অবসান হওয়া উচিত।
রোনালদো বলেন, মেসি যখনই মাঠে নামে, তখনই সবকিছু ইতিহাসের অংশ হয়ে যায় এবং আরও সুন্দর হয়ে ওঠে। এখন সময় এসেছে বিশ্ব ফুটবল সত্যটা মেনে নেওয়ার; সে-ই সর্বকালের সেরা ফুটবলার।
রোনালদো যোগ করেন, মাঠে সে যা করে, তা সব যুক্তিকে অতিক্রম করে। এই বয়সেও যেভাবে শান্ত ও নিখুঁতভাবে খেলছে, তা ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এক বিশেষ সৌভাগ্যের বিষয়। প্রতি মৌসুমে এবং বিশ্বকাপেও সে নিজের সেরাটা দিয়ে যাচ্ছে, অথচ এখনও তাকে নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। এটি এমন এক ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় রাত, যা চিরদিন ইতিহাসে লেখা থাকবে।
দীর্ঘদিন ধরেই মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর মধ্যে সর্বকালের সেরা ফুটবলার হওয়ার বিতর্ক চলে আসছে। ৪১ বছর ১৩২ দিন বয়সী রোনালদো মেসির চেয়ে দুই বছরেরও বেশি বড় এবং তিনি গত রাতে (১৭ জুন) ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছেন। ক্যারিয়ারে পাঁচটি ব্যালন ডি’অর জয়ী রোনালদোরও শক্তিশালী দাবি রয়েছে। তবে বিশ্বকাপে পর্তুগালের হয়ে তিনি এখন পর্যন্ত মাত্র আটটি গোল করেছেন।
ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে ৯৭৩টি সিনিয়র গোল করা পর্তুগিজ মহাতারকার আন্তর্জাতিক গোলসংখ্যা ১৪৩, যা মেসির চেয়ে ২৩টি বেশি। তবুও রোনালদো নাজারিওর মতে, মেসির দীর্ঘস্থায়ী ধারাবাহিকতাই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি আরও বলেন, রেকর্ড ভাঙার জন্যই তৈরি হয়, আর সেটি মেসি ভাঙবে, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। আর্জেন্টিনা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। দলটি অসাধারণ, কিন্তু এখনও পার্থক্য গড়ে দেয় মেসিই। এই বয়সেও তার জয়ের ক্ষুধা এবং মানসিকতা তাকে সবার থেকে আলাদা করে রেখেছে।
২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে হেরে গিয়েছিল। কিন্তু পরে মেসির নেতৃত্বে দলটি ঘুরে দাঁড়িয়ে কাতারে বিশ্বকাপ জয় করে।
এবার অবশ্য শুরু থেকেই কোনো বিপদে পড়তে হয়নি আলবিসেলেস্তেদের। মেসির জন্য দিনটি আরও বিশেষ ছিল, কারণ ঠিক ২০ বছর আগে ২০০৬ বিশ্বকাপে ১৮ বছর বয়সে অভিষেকে আর্জেন্টিনার সর্বকনিষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলোয়াড় হয়েছিলেন। আর এবার তিনি দেশের হয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বয়স্ক গোলদাতার কীর্তি গড়লেন।
ম্যাচ শেষে আলজেরিয়ার কোচ ভ্লাদিমির পেটকোভিচ বলেন, ক্লাস কখনও হারায় না। কারণ আমরা এখানে কোনো সাধারণ ফুটবলারের কথা বলছি না; আমরা এমন একজনের কথা বলছি, যিনি ক্যারিয়ারে সাত বা আটবার ব্যালন ডি’অর জিতেছেন। দুর্ভাগ্যবশত প্রথম ও দ্বিতীয় গোলের ক্ষেত্রে আমরা তাকে সুযোগ করে দিয়েছি, ফলে গোল করা তার জন্য সহজ হয়েছে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে মেসির চিন্তাশক্তি এতটাই পরিষ্কার যে সে অনেক কিছুই অন্যদের চেয়ে সহজে করতে পারে। আজ আর্জেন্টিনা ১০টি শট নিয়েছে, যার মধ্যে সাতটিই ছিল মেসির। তার সৌভাগ্য হলো পুরো আর্জেন্টিনা দল তাকে ঘিরে খেলে এবং সমর্থন দেয়। আর বহু বছর ধরে, বরং কয়েক দশক ধরে, সে অবিশ্বাস্য সব কাজ করে যাচ্ছে।
গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)
ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুন ২০২৬
ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে ও নরওয়ের আর্লিং হলান্ড দুজনই জোড়া গোল করলেন বিশ্বকাপে, তখন দেখার বিষয় ছিল পরের ম্যাচে নেমে লিওনেল মেসি কী করেন।আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে জয় পাওয়া ম্যাচে তিনি বিশ্বকাপে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিক করেন এবং ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা হট ফেবারিটের মতোই বিশ্বকাপ শুরু করেছে।
এই হ্যাটট্রিকের মাধ্যমে ৩৮ বছর বয়সী মেসি কানসাস সিটিতে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১৬ গোলের রেকর্ডে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার পাশে বসেছেন। তিন গোলের মধ্যে দ্বিতীয় গোলটি করে তিনি ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিওর বিশ্বকাপ গোলসংখ্যাকেও স্পর্শ করেন।
গ্রুপ ‘জে’-তে আর্জেন্টিনার বাকি দুই প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া ও জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচে মেসির সামনে এককভাবে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে তাকে নজর রাখতে হবে এমবাপ্পের দিকেও। সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোল করে ফরাসি তারকা বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১৪-তে নিয়ে গেছেন এবং আগামী মঙ্গলবার (২৩ জুন) ইরাকের বিপক্ষেও সেই সংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ পাবেন।
ঐতিহাসিক এই রাতের সাক্ষী হওয়ার পর ব্রাজিলের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার রোনালদো মেসির প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন। তার মতে, সর্বকালের সেরা ফুটবলার কে—এই বিতর্কের অবসান হওয়া উচিত।
রোনালদো বলেন, মেসি যখনই মাঠে নামে, তখনই সবকিছু ইতিহাসের অংশ হয়ে যায় এবং আরও সুন্দর হয়ে ওঠে। এখন সময় এসেছে বিশ্ব ফুটবল সত্যটা মেনে নেওয়ার; সে-ই সর্বকালের সেরা ফুটবলার।
রোনালদো যোগ করেন, মাঠে সে যা করে, তা সব যুক্তিকে অতিক্রম করে। এই বয়সেও যেভাবে শান্ত ও নিখুঁতভাবে খেলছে, তা ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এক বিশেষ সৌভাগ্যের বিষয়। প্রতি মৌসুমে এবং বিশ্বকাপেও সে নিজের সেরাটা দিয়ে যাচ্ছে, অথচ এখনও তাকে নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। এটি এমন এক ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় রাত, যা চিরদিন ইতিহাসে লেখা থাকবে।
দীর্ঘদিন ধরেই মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর মধ্যে সর্বকালের সেরা ফুটবলার হওয়ার বিতর্ক চলে আসছে। ৪১ বছর ১৩২ দিন বয়সী রোনালদো মেসির চেয়ে দুই বছরেরও বেশি বড় এবং তিনি গত রাতে (১৭ জুন) ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছেন। ক্যারিয়ারে পাঁচটি ব্যালন ডি’অর জয়ী রোনালদোরও শক্তিশালী দাবি রয়েছে। তবে বিশ্বকাপে পর্তুগালের হয়ে তিনি এখন পর্যন্ত মাত্র আটটি গোল করেছেন।
ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে ৯৭৩টি সিনিয়র গোল করা পর্তুগিজ মহাতারকার আন্তর্জাতিক গোলসংখ্যা ১৪৩, যা মেসির চেয়ে ২৩টি বেশি। তবুও রোনালদো নাজারিওর মতে, মেসির দীর্ঘস্থায়ী ধারাবাহিকতাই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি আরও বলেন, রেকর্ড ভাঙার জন্যই তৈরি হয়, আর সেটি মেসি ভাঙবে, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। আর্জেন্টিনা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। দলটি অসাধারণ, কিন্তু এখনও পার্থক্য গড়ে দেয় মেসিই। এই বয়সেও তার জয়ের ক্ষুধা এবং মানসিকতা তাকে সবার থেকে আলাদা করে রেখেছে।
২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে হেরে গিয়েছিল। কিন্তু পরে মেসির নেতৃত্বে দলটি ঘুরে দাঁড়িয়ে কাতারে বিশ্বকাপ জয় করে।
এবার অবশ্য শুরু থেকেই কোনো বিপদে পড়তে হয়নি আলবিসেলেস্তেদের। মেসির জন্য দিনটি আরও বিশেষ ছিল, কারণ ঠিক ২০ বছর আগে ২০০৬ বিশ্বকাপে ১৮ বছর বয়সে অভিষেকে আর্জেন্টিনার সর্বকনিষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলোয়াড় হয়েছিলেন। আর এবার তিনি দেশের হয়ে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বয়স্ক গোলদাতার কীর্তি গড়লেন।
ম্যাচ শেষে আলজেরিয়ার কোচ ভ্লাদিমির পেটকোভিচ বলেন, ক্লাস কখনও হারায় না। কারণ আমরা এখানে কোনো সাধারণ ফুটবলারের কথা বলছি না; আমরা এমন একজনের কথা বলছি, যিনি ক্যারিয়ারে সাত বা আটবার ব্যালন ডি’অর জিতেছেন। দুর্ভাগ্যবশত প্রথম ও দ্বিতীয় গোলের ক্ষেত্রে আমরা তাকে সুযোগ করে দিয়েছি, ফলে গোল করা তার জন্য সহজ হয়েছে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে মেসির চিন্তাশক্তি এতটাই পরিষ্কার যে সে অনেক কিছুই অন্যদের চেয়ে সহজে করতে পারে। আজ আর্জেন্টিনা ১০টি শট নিয়েছে, যার মধ্যে সাতটিই ছিল মেসির। তার সৌভাগ্য হলো পুরো আর্জেন্টিনা দল তাকে ঘিরে খেলে এবং সমর্থন দেয়। আর বহু বছর ধরে, বরং কয়েক দশক ধরে, সে অবিশ্বাস্য সব কাজ করে যাচ্ছে।
