মেসি ২০ বছর আগে ঠিক এই দিনেই বিশ্বমঞ্চে অভিষেক হয়েছিল তাঁর। দুই দশক পর সেই বিশেষ দিনটিকেই ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় রাত বানিয়ে রাখলেন লিওনেল মেসি। নিজের ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচে দেখা পেলেন ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিকের। আলবিসেলেস্তেদের চতুর্থ বিশ্বকাপ জয়ের অভিযানও শুরু হলো আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের দুর্দান্ত এক জয়ে।
এই জাদুকরী পারফরম্যান্সে ফুটবল ইতিহাসের আরেকটি চূড়ায় পা রাখলেন আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী মহাতারকা। বিশ্বকাপের মঞ্চে এটি মেসির ১৬তম গোল, যার মাধ্যমে তিনি ছুঁয়ে ফেললেন জার্মানির কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড।
প্রথমার্ধে মেসির ‘২৫ গজি’ ম্যাজিক
কানসাস সিটির ‘জে’ গ্রুপের এই ম্যাচে শুরুতেই অবশ্য ধাক্কা খেয়েছিল আর্জেন্টিনা। ম্যাচের মাত্র ৫ম মিনিটে মেসির করা একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়। তবে মেসিকে কি আর আটকে রাখা যায়? ১৭তম মিনিটে রদ্রিগো দে পলের পাস ধরে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে বুলেট গতির এক শট নেন মেসি। আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদান—যিনি ফরাসি কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের ছেলে—দুই হাত দিয়ে বল ছোঁয়ালেও মেসির সেই শক্তিশালী শটের গতি রোধ করতে পারেননি। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
দুর্বল পায়ে ১৫, নিখুঁত শটে ১৬!
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার আরও বাড়ায় আর্জেন্টিনা। ৬০তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এলএম১০। লিভারপুল মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের ২৫ গজ দূর থেকে নেওয়া শট আলজেরিয়ান কিপারের বুকে লেগে সামনে চলে আসে। শিকারী চিতার মতো ওঁৎ পেতে থাকা মেসি তাঁর তথাকথিত দুর্বল ডান পায়ের টোকায় বল জালে জড়ান (২-০)।
৭৬তম মিনিটে আসে সেই ঐতিহাসিক ক্ষণ। বদলি খেলোয়াড় নিকো গঞ্জালেসের অ্যাসিস্ট থেকে চোখধাঁধানো এক শটে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন মেসি। দেশের জার্সিতে এটি তাঁর ১২০তম গোল। ৩-০ গোলে দলের জয় নিশ্চিত হওয়ার পর ৭৯তম মিনিটে গ্যালারির করতালির মাঝে মেসিকে তুলে নেন কোচ, মাঠে নামেন নিকো পাজ।
রেকর্ডের পাতায় লিওনেল মেসি:
৬: বিশ্বের প্রথম ফুটবলার হিসেবে রেকর্ড ৬টি বিশ্বকাপ খেলার কীর্তি।
২০০: ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও বাদের আল-মুতওয়ার পর তৃতীয় ফুটবলার হিসেবে ২০০ আন্তর্জাতিক ম্যাচের মাইলফলক।
১৬: মিরোস্লাভ ক্লোসার সাথে যৌথভাবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড।
১: বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটিই মেসির প্রথম হ্যাটট্রিক।
পরবর্তী লক্ষ্য একক রেকর্ড
ম্যাচে আলজেরিয়ারও একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হলে শেষ পর্যন্ত ৩-০ ব্যবধান নিয়েই মাঠ ছাড়ে স্কালোনির দল। আগামী সোমবার গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। সেদিন আর মাত্র একটি গোল করলেই ক্লোসাকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসের একক শীর্ষ গোলদাতা হয়ে যাবেন লিওনেল মেসি। কানসাসের রাত তো কেবল শুরু, ফুটবল বিশ্ব এখন অপেক্ষা করছে সোমবারের সেই মহাকাব্যিক ক্ষণের জন্য!
গড় রেটিং: ৪/৫ (২ ভোট)
ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬
মেসি ২০ বছর আগে ঠিক এই দিনেই বিশ্বমঞ্চে অভিষেক হয়েছিল তাঁর। দুই দশক পর সেই বিশেষ দিনটিকেই ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় রাত বানিয়ে রাখলেন লিওনেল মেসি। নিজের ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচে দেখা পেলেন ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিকের। আলবিসেলেস্তেদের চতুর্থ বিশ্বকাপ জয়ের অভিযানও শুরু হলো আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের দুর্দান্ত এক জয়ে।
এই জাদুকরী পারফরম্যান্সে ফুটবল ইতিহাসের আরেকটি চূড়ায় পা রাখলেন আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী মহাতারকা। বিশ্বকাপের মঞ্চে এটি মেসির ১৬তম গোল, যার মাধ্যমে তিনি ছুঁয়ে ফেললেন জার্মানির কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড।
প্রথমার্ধে মেসির ‘২৫ গজি’ ম্যাজিক
কানসাস সিটির ‘জে’ গ্রুপের এই ম্যাচে শুরুতেই অবশ্য ধাক্কা খেয়েছিল আর্জেন্টিনা। ম্যাচের মাত্র ৫ম মিনিটে মেসির করা একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়ে যায়। তবে মেসিকে কি আর আটকে রাখা যায়? ১৭তম মিনিটে রদ্রিগো দে পলের পাস ধরে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে বুলেট গতির এক শট নেন মেসি। আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদান—যিনি ফরাসি কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের ছেলে—দুই হাত দিয়ে বল ছোঁয়ালেও মেসির সেই শক্তিশালী শটের গতি রোধ করতে পারেননি। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
দুর্বল পায়ে ১৫, নিখুঁত শটে ১৬!
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার আরও বাড়ায় আর্জেন্টিনা। ৬০তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এলএম১০। লিভারপুল মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের ২৫ গজ দূর থেকে নেওয়া শট আলজেরিয়ান কিপারের বুকে লেগে সামনে চলে আসে। শিকারী চিতার মতো ওঁৎ পেতে থাকা মেসি তাঁর তথাকথিত দুর্বল ডান পায়ের টোকায় বল জালে জড়ান (২-০)।
৭৬তম মিনিটে আসে সেই ঐতিহাসিক ক্ষণ। বদলি খেলোয়াড় নিকো গঞ্জালেসের অ্যাসিস্ট থেকে চোখধাঁধানো এক শটে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন মেসি। দেশের জার্সিতে এটি তাঁর ১২০তম গোল। ৩-০ গোলে দলের জয় নিশ্চিত হওয়ার পর ৭৯তম মিনিটে গ্যালারির করতালির মাঝে মেসিকে তুলে নেন কোচ, মাঠে নামেন নিকো পাজ।
রেকর্ডের পাতায় লিওনেল মেসি:
৬: বিশ্বের প্রথম ফুটবলার হিসেবে রেকর্ড ৬টি বিশ্বকাপ খেলার কীর্তি।
২০০: ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও বাদের আল-মুতওয়ার পর তৃতীয় ফুটবলার হিসেবে ২০০ আন্তর্জাতিক ম্যাচের মাইলফলক।
১৬: মিরোস্লাভ ক্লোসার সাথে যৌথভাবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড।
১: বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটিই মেসির প্রথম হ্যাটট্রিক।
পরবর্তী লক্ষ্য একক রেকর্ড
ম্যাচে আলজেরিয়ারও একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হলে শেষ পর্যন্ত ৩-০ ব্যবধান নিয়েই মাঠ ছাড়ে স্কালোনির দল। আগামী সোমবার গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। সেদিন আর মাত্র একটি গোল করলেই ক্লোসাকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসের একক শীর্ষ গোলদাতা হয়ে যাবেন লিওনেল মেসি। কানসাসের রাত তো কেবল শুরু, ফুটবল বিশ্ব এখন অপেক্ষা করছে সোমবারের সেই মহাকাব্যিক ক্ষণের জন্য!
