দেশ ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে সুনাম কুড়ানো মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ‘হাজারী গুড়’ এবার পেল অফিশিয়াল স্বীকৃতি। জেলাটির শত বছরের গৌরব ও ঐতিহ্যের স্মারক এই গুড়কে আনুষ্ঠানিকভাবে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্ক অধিদপ্তর (ডিপিডিটি) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সনদ ইস্যু করেছে। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের স্বাক্ষর করা জিআই (আর) ফরম-১ অনুযায়ী, ‘জেলা প্রশাসক, মানিকগঞ্জ’-এর নামে ৩০ শ্রেণীতে জিআই-৬২ নম্বরে পণ্যটি নিবন্ধিত হয়েছে। এই নিবন্ধনের কার্যকারিতা ধরা হয়েছে ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ থেকে।
স্বাদ ও সুবাসের ২০০ বছর
মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা অঞ্চলে উৎপাদিত এই হাজারী গুড়ের ইতিহাস প্রায় দুই শতকের। সম্পূর্ণ নিজস্ব ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে তৈরি এই গুড়ের লোভনীয় স্বাদ আর মন মাতানো সুগন্ধ একে অন্য যেকোনো গুড়ের চেয়ে অনন্য করে তুলেছে। শীতকালীন এই বিশেষ সুস্বাদু গুড়ের কদর এখন আর কেবল দেশের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং প্রবাসী বাঙালি ও বিদেশি ভোজনরসিকদের কল্যাণে এর খ্যাতি এখন বিশ্বজুড়ে।
অর্থনীতিতে নতুন দিগন্তের সম্ভাবনা
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অফিশিয়াল জিআই স্বীকৃতি পাওয়ার ফলে হাজারী গুড়ের ব্র্যান্ডিং এখন আন্তর্জাতিক স্তরে পৌঁছাবে। এর ফলে:
রপ্তানির সুযোগ বৃদ্ধি: নকল বা ভেজাল গুড়ের ভিড়ে আসল হাজারী গুড় চেনা সহজ হবে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে এর রপ্তানি ও বিপণন বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
স্থানীয় অর্থনীতির চাঙ্গা ভাব: সঠিক মূল্য প্রাপ্তির মাধ্যমে ঝিটকা অঞ্চলের শিউলি (গাছি) ও গুড় প্রস্তুতকারক কারিগরদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।
কর্মসংস্থান সৃষ্টি: এই শিল্পের বাণিজ্যিক সম্প্রসারণের ফলে স্থানীয় তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের বড় সুযোগ তৈরি হবে।
হাজারী গুড়ের এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি শুধু মানিকগঞ্জ নয়, বরং সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী লোকজ খাদ্য সংস্কৃতিকে বিশ্ব দরবারে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল।
গড় রেটিং: ১/৫ (১ ভোট)
ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ জুন ২০২৬
দেশ ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে সুনাম কুড়ানো মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ‘হাজারী গুড়’ এবার পেল অফিশিয়াল স্বীকৃতি। জেলাটির শত বছরের গৌরব ও ঐতিহ্যের স্মারক এই গুড়কে আনুষ্ঠানিকভাবে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্ক অধিদপ্তর (ডিপিডিটি) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সনদ ইস্যু করেছে। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের স্বাক্ষর করা জিআই (আর) ফরম-১ অনুযায়ী, ‘জেলা প্রশাসক, মানিকগঞ্জ’-এর নামে ৩০ শ্রেণীতে জিআই-৬২ নম্বরে পণ্যটি নিবন্ধিত হয়েছে। এই নিবন্ধনের কার্যকারিতা ধরা হয়েছে ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ থেকে।
স্বাদ ও সুবাসের ২০০ বছর
মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা অঞ্চলে উৎপাদিত এই হাজারী গুড়ের ইতিহাস প্রায় দুই শতকের। সম্পূর্ণ নিজস্ব ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে তৈরি এই গুড়ের লোভনীয় স্বাদ আর মন মাতানো সুগন্ধ একে অন্য যেকোনো গুড়ের চেয়ে অনন্য করে তুলেছে। শীতকালীন এই বিশেষ সুস্বাদু গুড়ের কদর এখন আর কেবল দেশের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং প্রবাসী বাঙালি ও বিদেশি ভোজনরসিকদের কল্যাণে এর খ্যাতি এখন বিশ্বজুড়ে।
অর্থনীতিতে নতুন দিগন্তের সম্ভাবনা
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অফিশিয়াল জিআই স্বীকৃতি পাওয়ার ফলে হাজারী গুড়ের ব্র্যান্ডিং এখন আন্তর্জাতিক স্তরে পৌঁছাবে। এর ফলে:
রপ্তানির সুযোগ বৃদ্ধি: নকল বা ভেজাল গুড়ের ভিড়ে আসল হাজারী গুড় চেনা সহজ হবে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে এর রপ্তানি ও বিপণন বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
স্থানীয় অর্থনীতির চাঙ্গা ভাব: সঠিক মূল্য প্রাপ্তির মাধ্যমে ঝিটকা অঞ্চলের শিউলি (গাছি) ও গুড় প্রস্তুতকারক কারিগরদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।
কর্মসংস্থান সৃষ্টি: এই শিল্পের বাণিজ্যিক সম্প্রসারণের ফলে স্থানীয় তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের বড় সুযোগ তৈরি হবে।
হাজারী গুড়ের এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি শুধু মানিকগঞ্জ নয়, বরং সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী লোকজ খাদ্য সংস্কৃতিকে বিশ্ব দরবারে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল।
