৫২ বছর পর ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরাটা যে এতটা মহাকাব্যিক হবে, তা হয়তো ভাবেনি খোদ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) সমর্থকরাও। শক্তিশালী পর্তুগালকে ১-১ গোলে রুখে দিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে রূপকথার মতো সূচনা করলো মধ্য আফ্রিকার এই দেশটি। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর রেকর্ড গড়ার দিনে মাঠের লড়াইয়ে পর্তুগিজদের স্তব্ধ করে নতুন ইতিহাস লিখলো কঙ্গো।
বুধবার (১৭ জুন) টেক্সাসের হিউস্টনে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে শুরু থেকেই ছিল পর্তুগালের আধিপত্য। ম্যাচের মাত্র ষষ্ঠ মিনিটে পেদ্রো নেতোর দারুণ এক ক্রস থেকে নিখুঁত হেডে পর্তুগালকে এগিয়ে নেন জোয়াও নেভেস। তবে শুরুতে পিছিয়ে পড়েও দমে যায়নি কঙ্গো। ধীরে ধীরে গুছিয়ে উঠে আক্রমণ শানাতে থাকে তারা।
ম্যাচের প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে (৪৫+৪ মিনিট) আসে সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত। কর্নার থেকে উড়ে আসা বল ফার পোস্টে পেয়ে বুলেট গতির হেডে জাল খুঁজে নেন উইসা। আর এই গোলের মাধ্যমেই বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের প্রথম গোলের দেখা পায় ডিআর কঙ্গো।
মাঠে ‘অদৃশ্য’ রোনালদো, হতাশা সমর্থকদের
পর্তুগালকে জেতাতে এদিন মরিয়া চেষ্টা ছিল দলের, কিন্তু খোদ অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোই যেন ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে। পুরো ম্যাচে কঙ্গোর ডিফেন্সের কড়া পাহারায় গোলমুখে একটি শটও নিতে পারেননি সিআরসেভেন। পুরো ৯০ মিনিটে তার খেলা দেখে মনে হয়েছে তিনি যেন মাঠেই ছিলেন না!
ম্যাচে রোনালদো মোট ১৬টি ব্যাক পাস দিয়েছেন। দুইবার পায়ের শট নিলেও তা গোলবারের অনেক দূর দিয়ে বাইরে চলে যায়। মহাতারকার এমন নিষ্প্রভ পারফরম্যান্সে স্বাভাবিকভাবেই হতাশ পর্তুগিজ ভক্তরা।
দুঃস্বপ্নের রাতেও অনন্য কীর্তি
ম্যাচটি রোনালদোর জন্য পারফরম্যান্সের দিক থেকে ভুলে যাওয়ার মতো হলেও, ইতিহাসের পাতায় তার নাম ঠিকই স্বর্ণাক্ষরে লেখা হয়ে গেছে। লিওনেল মেসির পর দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে ষষ্ঠ বিশ্বকাপে খেলার অনন্য কীর্তি গড়েছেন তিনি। ২০০৬ সালে জার্মানি বিশ্বকাপ দিয়ে যাত্রা শুরু করে ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং সবশেষ ২০২৬—টানা ছয়টি বিশ্বকাপে মাঠে নামার এক অবিশ্বাস্য রেকর্ড নিজের করে নিলেন এই পর্তুগিজ মহাতারকা।
দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫ মিনিটে জোয়াও ক্যানসেলো বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়। শেষ পর্যন্ত কঙ্গোর জমাট রক্ষণ ভাঙতে না পারায় ১-১ গোলের ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় পর্তুগালকে। আর এক পয়েন্ট পাওয়ার আনন্দের পাশাপাশি ইতিহাস গড়ার গর্ব নিয়ে মাঠ ছাড়ে ডিআর কঙ্গো।
গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)
ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ জুন ২০২৬
৫২ বছর পর ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে ফেরাটা যে এতটা মহাকাব্যিক হবে, তা হয়তো ভাবেনি খোদ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) সমর্থকরাও। শক্তিশালী পর্তুগালকে ১-১ গোলে রুখে দিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে রূপকথার মতো সূচনা করলো মধ্য আফ্রিকার এই দেশটি। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর রেকর্ড গড়ার দিনে মাঠের লড়াইয়ে পর্তুগিজদের স্তব্ধ করে নতুন ইতিহাস লিখলো কঙ্গো।
বুধবার (১৭ জুন) টেক্সাসের হিউস্টনে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে শুরু থেকেই ছিল পর্তুগালের আধিপত্য। ম্যাচের মাত্র ষষ্ঠ মিনিটে পেদ্রো নেতোর দারুণ এক ক্রস থেকে নিখুঁত হেডে পর্তুগালকে এগিয়ে নেন জোয়াও নেভেস। তবে শুরুতে পিছিয়ে পড়েও দমে যায়নি কঙ্গো। ধীরে ধীরে গুছিয়ে উঠে আক্রমণ শানাতে থাকে তারা।
ম্যাচের প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে (৪৫+৪ মিনিট) আসে সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত। কর্নার থেকে উড়ে আসা বল ফার পোস্টে পেয়ে বুলেট গতির হেডে জাল খুঁজে নেন উইসা। আর এই গোলের মাধ্যমেই বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের প্রথম গোলের দেখা পায় ডিআর কঙ্গো।
মাঠে ‘অদৃশ্য’ রোনালদো, হতাশা সমর্থকদের
পর্তুগালকে জেতাতে এদিন মরিয়া চেষ্টা ছিল দলের, কিন্তু খোদ অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোই যেন ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে। পুরো ম্যাচে কঙ্গোর ডিফেন্সের কড়া পাহারায় গোলমুখে একটি শটও নিতে পারেননি সিআরসেভেন। পুরো ৯০ মিনিটে তার খেলা দেখে মনে হয়েছে তিনি যেন মাঠেই ছিলেন না!
ম্যাচে রোনালদো মোট ১৬টি ব্যাক পাস দিয়েছেন। দুইবার পায়ের শট নিলেও তা গোলবারের অনেক দূর দিয়ে বাইরে চলে যায়। মহাতারকার এমন নিষ্প্রভ পারফরম্যান্সে স্বাভাবিকভাবেই হতাশ পর্তুগিজ ভক্তরা।
দুঃস্বপ্নের রাতেও অনন্য কীর্তি
ম্যাচটি রোনালদোর জন্য পারফরম্যান্সের দিক থেকে ভুলে যাওয়ার মতো হলেও, ইতিহাসের পাতায় তার নাম ঠিকই স্বর্ণাক্ষরে লেখা হয়ে গেছে। লিওনেল মেসির পর দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে ষষ্ঠ বিশ্বকাপে খেলার অনন্য কীর্তি গড়েছেন তিনি। ২০০৬ সালে জার্মানি বিশ্বকাপ দিয়ে যাত্রা শুরু করে ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং সবশেষ ২০২৬—টানা ছয়টি বিশ্বকাপে মাঠে নামার এক অবিশ্বাস্য রেকর্ড নিজের করে নিলেন এই পর্তুগিজ মহাতারকা।
দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫ মিনিটে জোয়াও ক্যানসেলো বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়। শেষ পর্যন্ত কঙ্গোর জমাট রক্ষণ ভাঙতে না পারায় ১-১ গোলের ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় পর্তুগালকে। আর এক পয়েন্ট পাওয়ার আনন্দের পাশাপাশি ইতিহাস গড়ার গর্ব নিয়ে মাঠ ছাড়ে ডিআর কঙ্গো।
