খবর প্রতিদিন ২৪

৪৭তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে শামীম খান, জানালেন সাফল্যের গল্প



৪৭তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে শামীম খান, জানালেন সাফল্যের গল্প

গ্রামের সাধারণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা শামীম খানের। সেখান থেকেই তাঁর শিক্ষাজীবনের পথচলা শুরু। পরে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স) থেকে টেক্সটাইল প্রকৌশলে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরিবার, বন্ধুদের সহযোগিতা এবং ধারাবাহিক প্রস্তুতির মাধ্যমে ৪৭তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন তিনি। এই অর্জনকে শেষ গন্তব্য হিসেবে নয়, বরং মানুষের সেবা করার নতুন দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন শামীম খান।

সাফল্যের অনুভূতি, শৈশব, বুটেক্সের দিনগুলো, বিসিএস প্রস্তুতির কৌশল, ক্যাডার নির্বাচন, চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য পরামর্শ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খবর প্রতিদিন–এর সঙ্গে কথা বলেছেন ৪৭তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত বুটেক্সের সাবেক শিক্ষার্থী শামীম খান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মো. শাহরিয়ার ইসলাম।


প্রশ্ন: বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার অনুভূতি কেমন?

উত্তর: আলহামদুলিল্লাহ, আমি মহান আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে আমার বাবা-মা, পরিবার, শিক্ষক এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। আমার বাবা-মা, স্ত্রী ও বোনের চোখের আনন্দাশ্রুকেই আমি আমার সবচেয়ে বড় অর্জন মনে করি। তবে আমি এটিকে শেষ গন্তব্য হিসেবে দেখি না; বরং এটি মানুষের সেবা করার একটি বড় দায়িত্বের সূচনা বলে মনে করি।

প্রশ্ন: আপনার শৈশব ও শিক্ষাজীবন সম্পর্কে জানতে চাই। বুটেক্সের দিনগুলো কেমন ছিল?

উত্তর: আমি গ্রামের পরিবেশে বড় হয়েছি। ছোটবেলা থেকেই সাধারণ জীবনযাপন করেছি এবং গ্রামের মানুষের সুখ-দুঃখ খুব কাছ থেকে দেখেছি। ছোটবেলায় আমি বেশ দুরন্ত স্বভাবের ছিলাম। সারাদিন খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকতাম, এজন্য মায়ের বকুনি ও শাসনও কম খেতে হয়নি।

আমি গ্রাম থেকেই প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেছি। পরে উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স) থেকে টেক্সটাইল প্রকৌশলে স্নাতক সম্পন্ন করি। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে আমি অনেক মেধাবী ও ভালো বন্ধু পেয়েছি। তাঁদের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা ও বন্ধুত্ব আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অন্যতম বড় অর্জন।

প্রশ্ন: আপনার সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা কে ছিলেন?

উত্তর: আমার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা আমার বাবা-মা। তাঁরা সবসময় বলতেন, তোমার যেটা ভালো লাগে সেটা করো। চাকরির বিষয়ে তাঁরা কখনো কোনো চাপ প্রয়োগ করেননি। আমার মনে হয়, একজন চাকরিপ্রত্যাশীর জন্য পরিবারের এমন সহযোগিতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এ ছাড়া আমার বাবা সবসময় একটি কথা বলতেন, “মানুষ পারে না এমন কোনো কাজ নেই।” এই কথাটি আমাকে কঠিন পরিস্থিতিতেও আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে সাহায্য করেছে। কথাটি প্রচলিত হলেও বাবার মুখ থেকে শুনলে অন্যরকম অনুপ্রেরণা পেতাম।

প্রশ্ন: বিসিএস প্রস্তুতির জন্য বিশেষ কোনো কৌশল অনুসরণ করেছিলেন?

উত্তর: আমার প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল গ্রুপ স্টাডি। কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা, মডেল টেস্ট ও বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি নিতাম। পারস্পরিক সহযোগিতা আমাদের প্রস্তুতিকে অনেক কার্যকর করেছে।

আমি আমার বন্ধু রাজিব ফকির স্মরণ (৪৫তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডার), শামীম আহমেদ (৪৫তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডার), গাজী হাসিবুর রহমান (সোনালী ব্যাংকের সিনিয়র কর্মকর্তা) এবং বাসুদেব সূত্রধর (জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তা)-এর সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা ও পড়াশোনা করতাম।

প্রশ্ন: প্রস্তুতির সময়টা কেমন ছিল?

উত্তর: প্রস্তুতির সময়টি ছিল চ্যালেঞ্জিং, কিন্তু একই সঙ্গে অনেক শিক্ষণীয়। অনেক সময় মানসিক চাপ, অনিশ্চয়তা এবং ক্লান্তি এসেছে। আমরা বন্ধুরা একসঙ্গে প্রস্তুতি নিয়েছি বলে খুব বেশি কষ্ট হয়নি।

প্রশ্ন: আপনার পরিবার সম্পর্কে কিছু বলুন।

উত্তর: আমি একটি গ্রামের সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে বড় হয়েছি। আমার মা-বাবা দুজনই মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করতে পারেননি। তবে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ সীমিত পেলেও আমাকে শিক্ষিত করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন।

আমার একজন বড় বোন রয়েছেন। আর আমি গত বছর এপ্রিলে বিয়ে করেছি। এই হলো আমার ছোট পরিবার।

প্রশ্ন: প্রশাসন ক্যাডার বেছে নেওয়ার কারণ কী?

উত্তর: নিজের আগ্রহ, দক্ষতা এবং দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য বিবেচনা করে প্রশাসন ক্যাডার বেছে নিয়েছি। এখানে সরাসরি জনগণের সঙ্গে কাজ করার, নীতি বাস্তবায়নের এবং দেশের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।

আমার মতে, ক্যাডার চয়েজের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত আগ্রহ, কাজের ধরন, দায়িত্ব, ক্যারিয়ার উন্নয়নের সুযোগ এবং নিজের দক্ষতার সঙ্গে সামঞ্জস্যকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। অন্যের পছন্দ বা সামাজিক ধারণার চেয়ে নিজের যোগ্যতা ও আগ্রহকে প্রাধান্য দেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশ্ন: বিসিএসপ্রত্যাশীদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?

উত্তর: আমি বলব, সবার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভালো ফল করার চেষ্টা করুন এবং চতুর্থ বর্ষ থেকেই ধীরে ধীরে প্রস্তুতি শুরু করুন। প্রতিদিন সংবাদপত্র পড়ুন, বাংলা ও ইংরেজিতে দক্ষতা বাড়ান, নিয়মিত বই পড়ুন এবং লেখার অভ্যাস গড়ে তুলুন। শুধু তথ্য মুখস্থ না করে বিষয়গুলো বোঝার চেষ্টা করুন। সবচেয়ে বড় কথা, সৃষ্টিকর্তার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করুন, ধারাবাহিকতা বজায় রাখুন এবং নিজের ওপর বিশ্বাস রাখুন।

প্রশ্ন: চাকরিপ্রত্যাশীদের বিসিএসকে একমাত্র লক্ষ্য বানানো কি ঠিক?

উত্তর: আমার মতে, বিসিএস একটি অত্যন্ত ভালো ক্যারিয়ার, কিন্তু এটিকে একমাত্র লক্ষ্য বানানো উচিত নয়। একজন চাকরিপ্রত্যাশীর বিকল্প পরিকল্পনা বা পরিকল্পনা–বি থাকা প্রয়োজন। এতে মানসিক চাপ কমে এবং ক্যারিয়ার নিয়ে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়। নিজের দক্ষতা বাড়ানোর ওপর সবসময় গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

প্রশ্ন: ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

উত্তর: একজন সৎ, দক্ষ এবং জনবান্ধব প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করতে চাই। মানুষের সমস্যা মনোযোগ দিয়ে শুনতে, দ্রুত ও কার্যকরভাবে সমাধানের চেষ্টা করতে এবং প্রশাসনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সেবার মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চাই। পাশাপাশি নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও অধ্যয়নের মাধ্যমে নিজেকে আরও দক্ষ করে গড়ে তুলতে চাই।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: /৫ ( ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

খবর প্রতিদিন ২৪

বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬


৪৭তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে শামীম খান, জানালেন সাফল্যের গল্প

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুলাই ২০২৬

featured Image

গ্রামের সাধারণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা শামীম খানের। সেখান থেকেই তাঁর শিক্ষাজীবনের পথচলা শুরু। পরে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স) থেকে টেক্সটাইল প্রকৌশলে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরিবার, বন্ধুদের সহযোগিতা এবং ধারাবাহিক প্রস্তুতির মাধ্যমে ৪৭তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন তিনি। এই অর্জনকে শেষ গন্তব্য হিসেবে নয়, বরং মানুষের সেবা করার নতুন দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন শামীম খান।

সাফল্যের অনুভূতি, শৈশব, বুটেক্সের দিনগুলো, বিসিএস প্রস্তুতির কৌশল, ক্যাডার নির্বাচন, চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য পরামর্শ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খবর প্রতিদিন–এর সঙ্গে কথা বলেছেন ৪৭তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত বুটেক্সের সাবেক শিক্ষার্থী শামীম খান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মো. শাহরিয়ার ইসলাম।


প্রশ্ন: বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার অনুভূতি কেমন?

উত্তর: আলহামদুলিল্লাহ, আমি মহান আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে আমার বাবা-মা, পরিবার, শিক্ষক এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। আমার বাবা-মা, স্ত্রী ও বোনের চোখের আনন্দাশ্রুকেই আমি আমার সবচেয়ে বড় অর্জন মনে করি। তবে আমি এটিকে শেষ গন্তব্য হিসেবে দেখি না; বরং এটি মানুষের সেবা করার একটি বড় দায়িত্বের সূচনা বলে মনে করি।

প্রশ্ন: আপনার শৈশব ও শিক্ষাজীবন সম্পর্কে জানতে চাই। বুটেক্সের দিনগুলো কেমন ছিল?

উত্তর: আমি গ্রামের পরিবেশে বড় হয়েছি। ছোটবেলা থেকেই সাধারণ জীবনযাপন করেছি এবং গ্রামের মানুষের সুখ-দুঃখ খুব কাছ থেকে দেখেছি। ছোটবেলায় আমি বেশ দুরন্ত স্বভাবের ছিলাম। সারাদিন খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকতাম, এজন্য মায়ের বকুনি ও শাসনও কম খেতে হয়নি।

আমি গ্রাম থেকেই প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেছি। পরে উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স) থেকে টেক্সটাইল প্রকৌশলে স্নাতক সম্পন্ন করি। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে আমি অনেক মেধাবী ও ভালো বন্ধু পেয়েছি। তাঁদের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা ও বন্ধুত্ব আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অন্যতম বড় অর্জন।

প্রশ্ন: আপনার সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা কে ছিলেন?

উত্তর: আমার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা আমার বাবা-মা। তাঁরা সবসময় বলতেন, তোমার যেটা ভালো লাগে সেটা করো। চাকরির বিষয়ে তাঁরা কখনো কোনো চাপ প্রয়োগ করেননি। আমার মনে হয়, একজন চাকরিপ্রত্যাশীর জন্য পরিবারের এমন সহযোগিতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এ ছাড়া আমার বাবা সবসময় একটি কথা বলতেন, “মানুষ পারে না এমন কোনো কাজ নেই।” এই কথাটি আমাকে কঠিন পরিস্থিতিতেও আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে সাহায্য করেছে। কথাটি প্রচলিত হলেও বাবার মুখ থেকে শুনলে অন্যরকম অনুপ্রেরণা পেতাম।

প্রশ্ন: বিসিএস প্রস্তুতির জন্য বিশেষ কোনো কৌশল অনুসরণ করেছিলেন?

উত্তর: আমার প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল গ্রুপ স্টাডি। কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা, মডেল টেস্ট ও বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি নিতাম। পারস্পরিক সহযোগিতা আমাদের প্রস্তুতিকে অনেক কার্যকর করেছে।

আমি আমার বন্ধু রাজিব ফকির স্মরণ (৪৫তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডার), শামীম আহমেদ (৪৫তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডার), গাজী হাসিবুর রহমান (সোনালী ব্যাংকের সিনিয়র কর্মকর্তা) এবং বাসুদেব সূত্রধর (জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তা)-এর সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা ও পড়াশোনা করতাম।

প্রশ্ন: প্রস্তুতির সময়টা কেমন ছিল?

উত্তর: প্রস্তুতির সময়টি ছিল চ্যালেঞ্জিং, কিন্তু একই সঙ্গে অনেক শিক্ষণীয়। অনেক সময় মানসিক চাপ, অনিশ্চয়তা এবং ক্লান্তি এসেছে। আমরা বন্ধুরা একসঙ্গে প্রস্তুতি নিয়েছি বলে খুব বেশি কষ্ট হয়নি।

প্রশ্ন: আপনার পরিবার সম্পর্কে কিছু বলুন।

উত্তর: আমি একটি গ্রামের সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে বড় হয়েছি। আমার মা-বাবা দুজনই মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করতে পারেননি। তবে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ সীমিত পেলেও আমাকে শিক্ষিত করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন।

আমার একজন বড় বোন রয়েছেন। আর আমি গত বছর এপ্রিলে বিয়ে করেছি। এই হলো আমার ছোট পরিবার।

প্রশ্ন: প্রশাসন ক্যাডার বেছে নেওয়ার কারণ কী?

উত্তর: নিজের আগ্রহ, দক্ষতা এবং দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য বিবেচনা করে প্রশাসন ক্যাডার বেছে নিয়েছি। এখানে সরাসরি জনগণের সঙ্গে কাজ করার, নীতি বাস্তবায়নের এবং দেশের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।

আমার মতে, ক্যাডার চয়েজের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত আগ্রহ, কাজের ধরন, দায়িত্ব, ক্যারিয়ার উন্নয়নের সুযোগ এবং নিজের দক্ষতার সঙ্গে সামঞ্জস্যকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। অন্যের পছন্দ বা সামাজিক ধারণার চেয়ে নিজের যোগ্যতা ও আগ্রহকে প্রাধান্য দেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশ্ন: বিসিএসপ্রত্যাশীদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?

উত্তর: আমি বলব, সবার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভালো ফল করার চেষ্টা করুন এবং চতুর্থ বর্ষ থেকেই ধীরে ধীরে প্রস্তুতি শুরু করুন। প্রতিদিন সংবাদপত্র পড়ুন, বাংলা ও ইংরেজিতে দক্ষতা বাড়ান, নিয়মিত বই পড়ুন এবং লেখার অভ্যাস গড়ে তুলুন। শুধু তথ্য মুখস্থ না করে বিষয়গুলো বোঝার চেষ্টা করুন। সবচেয়ে বড় কথা, সৃষ্টিকর্তার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করুন, ধারাবাহিকতা বজায় রাখুন এবং নিজের ওপর বিশ্বাস রাখুন।

প্রশ্ন: চাকরিপ্রত্যাশীদের বিসিএসকে একমাত্র লক্ষ্য বানানো কি ঠিক?

উত্তর: আমার মতে, বিসিএস একটি অত্যন্ত ভালো ক্যারিয়ার, কিন্তু এটিকে একমাত্র লক্ষ্য বানানো উচিত নয়। একজন চাকরিপ্রত্যাশীর বিকল্প পরিকল্পনা বা পরিকল্পনা–বি থাকা প্রয়োজন। এতে মানসিক চাপ কমে এবং ক্যারিয়ার নিয়ে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়। নিজের দক্ষতা বাড়ানোর ওপর সবসময় গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

প্রশ্ন: ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

উত্তর: একজন সৎ, দক্ষ এবং জনবান্ধব প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করতে চাই। মানুষের সমস্যা মনোযোগ দিয়ে শুনতে, দ্রুত ও কার্যকরভাবে সমাধানের চেষ্টা করতে এবং প্রশাসনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সেবার মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চাই। পাশাপাশি নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও অধ্যয়নের মাধ্যমে নিজেকে আরও দক্ষ করে গড়ে তুলতে চাই।


খবর প্রতিদিন ২৪

প্রকাশক
মোঃ মামুনুর হাসান (টিপু)
সম্পাদক
খন্দকার আমিনুর রহমান
বার্তা সম্পাদক
মোঃ তরিকুল ইসলাম
উপদেষ্টা মন্ডলীর সভাপতি
বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. এস এম জাহাঙ্গীর আলম [পরিচালক] বাংলাদেশ স্যাটেলাইট
আইন উপদেষ্টা
মুহাম্মদ গোলাম হোসেন (এডভোকেট বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট)

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
৪৭তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে শামীম খান, জানালেন সাফল্যের গল্প
0:00 / 0:00
1x