বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) আবাসিক হলগুলোতে চুরির ঘটনা যেন থামছেই না। সম্প্রতি জি.এম.এ.জি. ওসমানী হল ও বীর প্রতীক ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম হলে চুরির ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার শহীদ আজিজ হলে এক শিক্ষার্থীর ল্যাপটপ চুরির ঘটনা ঘটেছে। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে। একই সঙ্গে হলগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক তদারকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
ভুক্তভোগী ও হল সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল ৭টা ৫২ মিনিটে শহীদ আজিজ হলের ৩১১ নম্বর কক্ষ থেকে ৪৮তম ব্যাচের ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী অনয় রেজার একটি ল্যাপটপ চুরি হয়। ঘটনার পর হলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এক সন্দেহভাজন ব্যক্তি হলের একাধিক কক্ষে প্রবেশ করে। পরে ৩১১ নম্বর কক্ষ থেকে বের হওয়ার সময় তার কাছে একটি ল্যাপটপ ব্যাগ দেখা যায়।
ভুক্তভোগী অনয় রেজার অভিযোগ, "সন্দেহভাজন ব্যক্তি হলের নিরাপত্তারক্ষীর সামন দিয়েই কোনো ধরনের বাধা বা পরিচয় যাচাই ছাড়াই হলে প্রবেশ করে এবং চুরির পর একইভাবে অনায়াসে বেরিয়ে যায়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, আমার রুমসহ হলের অনেক রুমে চোর ঢুকেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমার রুম থেকেই ল্যাপটপ নিয়ে বের হয়েছে। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, হলের গেটে দায়িত্বরত নিরাপত্তারক্ষী তখন মোবাইল ফোন নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। তিনি ওই ব্যক্তিকে কিছুই জিজ্ঞাসা করেননি। চুরির পরও সে সহজেই বেরিয়ে গেছে।"
তিনি আরও বলেন, "হলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার এমন বেহাল অবস্থার কারণেই আজ আমার ল্যাপটপ চুরি হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে আরও বড় ধরনের অপরাধ ঘটলেও কেউ টের পাবে না। আমি আমার ক্ষতির যথাযথ ক্ষতিপূরণ চাই এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকর সংস্কার দাবি করছি।"
চুরির ঘটনার পর শহীদ আজিজ হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিভিন্ন দুর্বলতা তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ৪৯তম ব্যাচের হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মো. সজিব হাসান জানান, "বুটেক্সের হলগুলোতে চুরির ঘটনা এখন আর নতুন নয়। প্রায় প্রতিদিনই বহিরাগতদের হলে প্রবেশ করতে দেখা যায়। কখনো জামাকাপড়, কখনো ব্যক্তিগত ব্যবহার্য জিনিসপত্র চুরি হচ্ছে। অথচ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। নিরাপত্তাকর্মীরা অধিকাংশ সময় মোবাইল ফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। কে হলে প্রবেশ করছে বা বের হচ্ছে, সেদিকে তাদের নজর থাকে না। অনেক বহিরাগতকে হলের ভেতরে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। "
৪৯তম ব্যাচের আরেক আবাসিক শিক্ষার্থী মো. মামিরুল ইসলাম বলেন, "যারা বর্তমানে নিরাপত্তারক্ষীর দায়িত্বে আছেন, তাদের অনেকেই এ কাজের জন্য উপযুক্ত নন। একজন শিক্ষার্থী অনেক কষ্ট করে ল্যাপটপ কেনে। নিরাপত্তারক্ষীদের গাফিলতির কারণে যদি সেই সম্পদ চুরি হয়, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থী অবশ্যই ক্ষতিপূরণের দাবিদার। একই সঙ্গে দায়িত্বে অবহেলার জন্য সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।"
এছাড়া ৫১তম ব্যাচের আবাসিক শিক্ষার্থী মো. তামিম ভুইয়া অভিযোগ করেন, "দারোয়ানদের বিরুদ্ধে একাধিকবার হল প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে। কিন্তু দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের এই উদাসীনতার কারণেই আজ এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আরও কয়েকটি বড় ঘটনা ঘটলে হয়তো তখন সবার টনক নড়বে।"
এবিষয়ে শহীদ আজিজ হলের সহকারী হল প্রভোস্ট মো. সোহাগ বাবুর সাথে সাংবাদিক যোগাযোগ করলে তাঁর কাছ থেকে সদুত্তর পাওয়া যায়নি। তিনি জানান, “আজ বুধবার সন্ধ্যায় হলের সকল শিক্ষার্থীদের সাথে বসবো। তখন হলের নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনা করবো। এর পূর্বে আমি কিছু বলতে চাচ্ছি না।”
উল্লেখ্য, গত জুন মাসে জি.এম.এ.জি. ওসমানী হলে দুই শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন চুরি হয়। ওই ঘটনায়ও সিসিটিভি ফুটেজে এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে হলে প্রবেশ করতে দেখা যায়। এরও আগে বীর প্রতীক ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম হলে একটি ল্যাপটপ, একটি মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ চুরির অভিযোগ ওঠে। এছাড়াও এর আগে আজিজ হলের ২১৩ নম্বর রুম থেকে একটি মোবাইল চুরির ঘটনা ঘটে। তবে ওই তিন ঘটনার কোনোটিরই সন্তোষজনক সমাধান এখনো হয়নি বলে অভিযোগ করে শিক্ষার্থীদের।
গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)
ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুলাই ২০২৬
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) আবাসিক হলগুলোতে চুরির ঘটনা যেন থামছেই না। সম্প্রতি জি.এম.এ.জি. ওসমানী হল ও বীর প্রতীক ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম হলে চুরির ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার শহীদ আজিজ হলে এক শিক্ষার্থীর ল্যাপটপ চুরির ঘটনা ঘটেছে। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে। একই সঙ্গে হলগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক তদারকি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
ভুক্তভোগী ও হল সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল ৭টা ৫২ মিনিটে শহীদ আজিজ হলের ৩১১ নম্বর কক্ষ থেকে ৪৮তম ব্যাচের ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী অনয় রেজার একটি ল্যাপটপ চুরি হয়। ঘটনার পর হলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এক সন্দেহভাজন ব্যক্তি হলের একাধিক কক্ষে প্রবেশ করে। পরে ৩১১ নম্বর কক্ষ থেকে বের হওয়ার সময় তার কাছে একটি ল্যাপটপ ব্যাগ দেখা যায়।
ভুক্তভোগী অনয় রেজার অভিযোগ, "সন্দেহভাজন ব্যক্তি হলের নিরাপত্তারক্ষীর সামন দিয়েই কোনো ধরনের বাধা বা পরিচয় যাচাই ছাড়াই হলে প্রবেশ করে এবং চুরির পর একইভাবে অনায়াসে বেরিয়ে যায়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, আমার রুমসহ হলের অনেক রুমে চোর ঢুকেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমার রুম থেকেই ল্যাপটপ নিয়ে বের হয়েছে। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, হলের গেটে দায়িত্বরত নিরাপত্তারক্ষী তখন মোবাইল ফোন নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। তিনি ওই ব্যক্তিকে কিছুই জিজ্ঞাসা করেননি। চুরির পরও সে সহজেই বেরিয়ে গেছে।"
তিনি আরও বলেন, "হলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার এমন বেহাল অবস্থার কারণেই আজ আমার ল্যাপটপ চুরি হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে আরও বড় ধরনের অপরাধ ঘটলেও কেউ টের পাবে না। আমি আমার ক্ষতির যথাযথ ক্ষতিপূরণ চাই এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকর সংস্কার দাবি করছি।"
চুরির ঘটনার পর শহীদ আজিজ হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিভিন্ন দুর্বলতা তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ৪৯তম ব্যাচের হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মো. সজিব হাসান জানান, "বুটেক্সের হলগুলোতে চুরির ঘটনা এখন আর নতুন নয়। প্রায় প্রতিদিনই বহিরাগতদের হলে প্রবেশ করতে দেখা যায়। কখনো জামাকাপড়, কখনো ব্যক্তিগত ব্যবহার্য জিনিসপত্র চুরি হচ্ছে। অথচ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। নিরাপত্তাকর্মীরা অধিকাংশ সময় মোবাইল ফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। কে হলে প্রবেশ করছে বা বের হচ্ছে, সেদিকে তাদের নজর থাকে না। অনেক বহিরাগতকে হলের ভেতরে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। "
৪৯তম ব্যাচের আরেক আবাসিক শিক্ষার্থী মো. মামিরুল ইসলাম বলেন, "যারা বর্তমানে নিরাপত্তারক্ষীর দায়িত্বে আছেন, তাদের অনেকেই এ কাজের জন্য উপযুক্ত নন। একজন শিক্ষার্থী অনেক কষ্ট করে ল্যাপটপ কেনে। নিরাপত্তারক্ষীদের গাফিলতির কারণে যদি সেই সম্পদ চুরি হয়, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থী অবশ্যই ক্ষতিপূরণের দাবিদার। একই সঙ্গে দায়িত্বে অবহেলার জন্য সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।"
এছাড়া ৫১তম ব্যাচের আবাসিক শিক্ষার্থী মো. তামিম ভুইয়া অভিযোগ করেন, "দারোয়ানদের বিরুদ্ধে একাধিকবার হল প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে। কিন্তু দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের এই উদাসীনতার কারণেই আজ এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আরও কয়েকটি বড় ঘটনা ঘটলে হয়তো তখন সবার টনক নড়বে।"
এবিষয়ে শহীদ আজিজ হলের সহকারী হল প্রভোস্ট মো. সোহাগ বাবুর সাথে সাংবাদিক যোগাযোগ করলে তাঁর কাছ থেকে সদুত্তর পাওয়া যায়নি। তিনি জানান, “আজ বুধবার সন্ধ্যায় হলের সকল শিক্ষার্থীদের সাথে বসবো। তখন হলের নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনা করবো। এর পূর্বে আমি কিছু বলতে চাচ্ছি না।”
উল্লেখ্য, গত জুন মাসে জি.এম.এ.জি. ওসমানী হলে দুই শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন চুরি হয়। ওই ঘটনায়ও সিসিটিভি ফুটেজে এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে হলে প্রবেশ করতে দেখা যায়। এরও আগে বীর প্রতীক ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম হলে একটি ল্যাপটপ, একটি মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ চুরির অভিযোগ ওঠে। এছাড়াও এর আগে আজিজ হলের ২১৩ নম্বর রুম থেকে একটি মোবাইল চুরির ঘটনা ঘটে। তবে ওই তিন ঘটনার কোনোটিরই সন্তোষজনক সমাধান এখনো হয়নি বলে অভিযোগ করে শিক্ষার্থীদের।
