খবর প্রতিদিন ২৪

একাধিক মানববন্ধন-লিখিত অভিযোগের পরেও অবৈধ বালু উত্তোলনে প্রশাসনের কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেই



একাধিক মানববন্ধন-লিখিত অভিযোগের পরেও অবৈধ বালু উত্তোলনে প্রশাসনের কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেই

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার যমুনা নদীর দুর্গম আলোকদিয়া চরে একাধিক লিখিত অভিযোগ, মানববন্ধন এবং জনবসতি ও ফসলি জমি রক্ষায় আন্দোলনের পরও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দেশের প্রচলিত বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর সুস্পষ্ট বিধান উপেক্ষা করে প্রভাবশালী একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে। এতে বসতবাড়ি, কৃষিজমি এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।বুধবার (৮ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, আলোকদিয়া চর এলাকায় জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ৭ ও ৮ নম্বর টাওয়ার সংলগ্ন জনবসতি ও বসতবাড়ির পাশ থেকে প্রায় ৯টি ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন চলছে। 

একই সময়ে তিনটি নৌকায় অবস্থানরত কয়েকজন যুবককে ড্রেজারগুলোর নিরাপত্তা দিতে দেখা যায়। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, ড্রেজার পাহারায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা অস্ত্রধারী এবং অবৈধ বালু উত্তোলনকারী চক্র তাদের ভাড়া করে এনেছে। যদিও এ অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এলাকাবাসী জানান, নিজেদের বসতবাড়ি, ফসলি জমি এবং নদীভাঙনের ঝুঁকি থেকে রক্ষার দাবিতে তারা ইতোমধ্যে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে একাধিক লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে একাধিক মানববন্ধনও পালন করেছেন। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে দৃশ্যমান ও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয়রা বলেন, "প্রশাসনের নীরবতায় অবৈধ বালু উত্তোলনকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আমাদের জীবন, বসতভিটা ও কৃষিজমি হুমকির মুখে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। সম্মিলিতভাবে প্রধান উপদেষ্টার (অথবা সরকারপ্রধানের, সময়োপযোগী পদবি অনুযায়ী) নিকট স্মারকলিপি দেওয়ারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।"আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন,২০১০ অনুযায়ী জনবসতিপূর্ণ এলাকা,গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা, সেতু, বাঁধ, বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামোসহ সংরক্ষিত এলাকার নিকট থেকে বালু উত্তোলনের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। আইনের ব্যত্যয় ঘটলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণ, অবৈধ ড্রেজার জব্দ এবং দণ্ড আরোপের বিধানও রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তার স্টাফ ফোন রিসিভ করে জানান, জেলা প্রশাসক ব্যস্ত রয়েছেন। তবে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসক ইতোমধ্যে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিকে স্থানীয়দের প্রশ্ন, প্রশাসনের নির্দেশনা যদি বাস্তবায়িত হয়ে থাকে, তাহলে এখনো কীভাবে প্রকাশ্যে একাধিক ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে? তারা অবিলম্বে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ ড্রেজার জব্দ, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: /৫ ( ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

খবর প্রতিদিন ২৪

বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬


একাধিক মানববন্ধন-লিখিত অভিযোগের পরেও অবৈধ বালু উত্তোলনে প্রশাসনের কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেই

প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুলাই ২০২৬

featured Image

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার যমুনা নদীর দুর্গম আলোকদিয়া চরে একাধিক লিখিত অভিযোগ, মানববন্ধন এবং জনবসতি ও ফসলি জমি রক্ষায় আন্দোলনের পরও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দেশের প্রচলিত বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর সুস্পষ্ট বিধান উপেক্ষা করে প্রভাবশালী একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে। এতে বসতবাড়ি, কৃষিজমি এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।বুধবার (৮ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, আলোকদিয়া চর এলাকায় জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ৭ ও ৮ নম্বর টাওয়ার সংলগ্ন জনবসতি ও বসতবাড়ির পাশ থেকে প্রায় ৯টি ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলন চলছে। 

একই সময়ে তিনটি নৌকায় অবস্থানরত কয়েকজন যুবককে ড্রেজারগুলোর নিরাপত্তা দিতে দেখা যায়। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, ড্রেজার পাহারায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা অস্ত্রধারী এবং অবৈধ বালু উত্তোলনকারী চক্র তাদের ভাড়া করে এনেছে। যদিও এ অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এলাকাবাসী জানান, নিজেদের বসতবাড়ি, ফসলি জমি এবং নদীভাঙনের ঝুঁকি থেকে রক্ষার দাবিতে তারা ইতোমধ্যে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে একাধিক লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে একাধিক মানববন্ধনও পালন করেছেন। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে দৃশ্যমান ও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয়রা বলেন, "প্রশাসনের নীরবতায় অবৈধ বালু উত্তোলনকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আমাদের জীবন, বসতভিটা ও কৃষিজমি হুমকির মুখে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। সম্মিলিতভাবে প্রধান উপদেষ্টার (অথবা সরকারপ্রধানের, সময়োপযোগী পদবি অনুযায়ী) নিকট স্মারকলিপি দেওয়ারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।"আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন,২০১০ অনুযায়ী জনবসতিপূর্ণ এলাকা,গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা, সেতু, বাঁধ, বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামোসহ সংরক্ষিত এলাকার নিকট থেকে বালু উত্তোলনের ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। আইনের ব্যত্যয় ঘটলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণ, অবৈধ ড্রেজার জব্দ এবং দণ্ড আরোপের বিধানও রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তার স্টাফ ফোন রিসিভ করে জানান, জেলা প্রশাসক ব্যস্ত রয়েছেন। তবে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসক ইতোমধ্যে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিকে স্থানীয়দের প্রশ্ন, প্রশাসনের নির্দেশনা যদি বাস্তবায়িত হয়ে থাকে, তাহলে এখনো কীভাবে প্রকাশ্যে একাধিক ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে? তারা অবিলম্বে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ ড্রেজার জব্দ, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।


খবর প্রতিদিন ২৪

প্রকাশক
মোঃ মামুনুর হাসান (টিপু)
সম্পাদক
খন্দকার আমিনুর রহমান
বার্তা সম্পাদক
মোঃ তরিকুল ইসলাম
উপদেষ্টা মন্ডলীর সভাপতি
বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. এস এম জাহাঙ্গীর আলম [পরিচালক] বাংলাদেশ স্যাটেলাইট
আইন উপদেষ্টা
মুহাম্মদ গোলাম হোসেন (এডভোকেট বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট)

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
একাধিক মানববন্ধন-লিখিত অভিযোগের পরেও অবৈধ বালু উত্তোলনে প্রশাসনের কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেই
0:00 / 0:00
1x