ঢাকা, ৪ জুলাই ২০২৬: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যরা তীব্র ক্ষোভ ও আর্তনাদ প্রকাশ করে বলেছেন, জুলাই গণহত্যার দৃশ্যমান বিচার ছাড়া দেশে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার প্রকৃত অবসান কখনোই সম্ভব নয়। রাজপথে আন্দোলন ও দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও বিচারের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা। একই সঙ্গে উপার্জনক্ষম স্বজনদের হারিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করা পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলনে’ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যরা এসব দাবি ও কষ্টের কথা তুলে ধরেন।
কান্নায় ভারী সম্মেলন কক্ষ: স্বজনহারাদের আর্তনাদ
অনুষ্ঠানে আগত শতাধিক জুলাই যোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের আবেগঘন বক্তব্যে পুরো গ্যালারিতে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সন্তান ও স্বজন হারানোর বেদনায় অনেকের চোখেই ছিল অশ্রু।
শহীদ মিরাজ হোসেনের বাবা আব্দুল রব মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন:
"জুলাই এলেই চোখের পানি বাঁধ মানে না। আগস্টের ৫ তারিখ আমার ছেলের বুকটা গুলিতে ঝাঁঝরা করে দিয়েছিল ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পুলিশ। আমি এই অন্যায়ের ও প্রতিটি জুলাই যোদ্ধা হত্যার বিচার চাই।"
রংপুরের শহীদ আবু সাঈদের ভাই আবু হোসেন বলেন:
"আমার ভাই স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করে জীবন দিয়েছে। তার অনুপ্রেরণায় বহু মানুষ জীবন দিয়েছে ও পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। অনেক পরিবার এখন মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। সরকারের কাছে দাবি, দ্রুত এই হত্যার বিচার ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা করা হোক।"
চট্টগ্রামের শহীদ ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম দেশের আর কোনো বাবা-মায়ের কোল যেন খালি না হয়, সেই আকুতি জানিয়ে আহতদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
শহীদ আব্দুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমাতুজ জোহরা জানান, বড় ছেলেকে হারানোর পর তার ছোট ছেলের ক্যান্সার ধরা পড়েছে। দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি সব হত্যার বিচার দাবি করেন।
‘পা হারিয়েও দুঃখ নেই, বিচার দেখতে চাই’
আন্দোলনে দুই পা হারানো জুলাই যোদ্ধা শাহীন মালু সম্মেলনে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, বিগত ১৭ বছর জিয়া পরিবার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশ কেবল তারেক রহমানের কাছেই নিরাপদ। তিনি বলেন, "আজ বুকটা ভরে গেছে। দুটি পা হারিয়েছি তাতে দুঃখ নেই, কিন্তু জুলাই যোদ্ধাদের হত্যার বিচার যেন দেখে যেতে পারি।"
অনুষ্ঠান সংক্ষেপ
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে একটি বিশেষ স্মৃতি স্মারক তুলে দেওয়া হয়। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে এই ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলনে’ সরকারের মন্ত্রী মহোদয়গণ, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাই কমিশনার, সামরিক-বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পেশাজীবী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)
ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুলাই ২০২৬
ঢাকা, ৪ জুলাই ২০২৬: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যরা তীব্র ক্ষোভ ও আর্তনাদ প্রকাশ করে বলেছেন, জুলাই গণহত্যার দৃশ্যমান বিচার ছাড়া দেশে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার প্রকৃত অবসান কখনোই সম্ভব নয়। রাজপথে আন্দোলন ও দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও বিচারের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা। একই সঙ্গে উপার্জনক্ষম স্বজনদের হারিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করা পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলনে’ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যরা এসব দাবি ও কষ্টের কথা তুলে ধরেন।
কান্নায় ভারী সম্মেলন কক্ষ: স্বজনহারাদের আর্তনাদ
অনুষ্ঠানে আগত শতাধিক জুলাই যোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের আবেগঘন বক্তব্যে পুরো গ্যালারিতে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সন্তান ও স্বজন হারানোর বেদনায় অনেকের চোখেই ছিল অশ্রু।
শহীদ মিরাজ হোসেনের বাবা আব্দুল রব মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন:
"জুলাই এলেই চোখের পানি বাঁধ মানে না। আগস্টের ৫ তারিখ আমার ছেলের বুকটা গুলিতে ঝাঁঝরা করে দিয়েছিল ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পুলিশ। আমি এই অন্যায়ের ও প্রতিটি জুলাই যোদ্ধা হত্যার বিচার চাই।"
রংপুরের শহীদ আবু সাঈদের ভাই আবু হোসেন বলেন:
"আমার ভাই স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করে জীবন দিয়েছে। তার অনুপ্রেরণায় বহু মানুষ জীবন দিয়েছে ও পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। অনেক পরিবার এখন মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। সরকারের কাছে দাবি, দ্রুত এই হত্যার বিচার ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা করা হোক।"
চট্টগ্রামের শহীদ ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম দেশের আর কোনো বাবা-মায়ের কোল যেন খালি না হয়, সেই আকুতি জানিয়ে আহতদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
শহীদ আব্দুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমাতুজ জোহরা জানান, বড় ছেলেকে হারানোর পর তার ছোট ছেলের ক্যান্সার ধরা পড়েছে। দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি সব হত্যার বিচার দাবি করেন।
‘পা হারিয়েও দুঃখ নেই, বিচার দেখতে চাই’
আন্দোলনে দুই পা হারানো জুলাই যোদ্ধা শাহীন মালু সম্মেলনে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, বিগত ১৭ বছর জিয়া পরিবার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশ কেবল তারেক রহমানের কাছেই নিরাপদ। তিনি বলেন, "আজ বুকটা ভরে গেছে। দুটি পা হারিয়েছি তাতে দুঃখ নেই, কিন্তু জুলাই যোদ্ধাদের হত্যার বিচার যেন দেখে যেতে পারি।"
অনুষ্ঠান সংক্ষেপ
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে একটি বিশেষ স্মৃতি স্মারক তুলে দেওয়া হয়। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে এই ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলনে’ সরকারের মন্ত্রী মহোদয়গণ, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাই কমিশনার, সামরিক-বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পেশাজীবী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
