তরুণদের মিডিয়া ও তথ্য সাক্ষরতা , ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমে দক্ষ করে তুলতে বরিশালে সম্পন্ন হলো তিন দিনব্যাপী এক বিশেষ বুটক্যাম্প।ওয়েভ ফাউন্ডেশন এবং ডয়েচে ভেলে একাডেমির যৌথ উদ্যোগে । ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জার্মান ফেডারেল মিনিস্ট্রি ফর ইকোনমিক কোঅপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এর যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত “Loud and Clear: Empowering Youth Voices 2.0” প্রকল্পের আওতায় এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
গত ২৩ জুন বরিশালের হোটেল গ্র্যান্ড পার্কে শুরু হওয়া এই বুটক্যাম্পটি ২৫ জুন বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হয়।
বুটক্যাম্পে বরিশালে কর্মরত ৫টি সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশনের (সিএসও) মোট ৩০ জন ভলান্টিয়ার অংশ নেন। সিএসও-গুলো হলো, ইন্টিগ্রেটেড কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট (আইসিডিএ), সেইন্ট বাংলাদেশ, চন্দ্রদ্বীপ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (সিডিএস), মানবী এবং সহচরী ।
অনলাইনে যুক্ত থেকে ডয়েচে ভেলে একাডেমির প্রশিক্ষক মাসফিক মিজান-এর তত্ত্বাবধানে ৫ জন ফেলো এই পুরো কর্মসূচিটি সফলভাবে পরিচালনা করেন।
বর্তমান ডিজিটাল যুগে তরুণদের সামনে তথ্য বিভ্রান্তি , বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, অনলাইন হয়রানি, গুজব এবং নারীদের বিরুদ্ধে ডক্সিংয়ের মতো মারাত্মক চ্যালেঞ্জগুলো প্রতিনিয়ত তৈরি হচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই বুটক্যাম্পে মিডিয়া ও তথ্য সাক্ষরতা (MIL), ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং গঠনমূলক সংলাপের গুরুত্ব বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়।
বুটক্যাম্পের বিভিন্ন সেশনে উপস্থিত থেকে অতিথিরা তরুণদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
কর্মসূচিতে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা: ফরিদা সুলতানা। এসময় তিনি বলেন, "আমাদের দেশে বর্তমানে মোবাইল সাংবাদিকতা এমন রূপ নিয়েছে যে, কোনো ইস্যু পেলেই সত্য-মিথ্যা বা অপপ্রচার যাচাই না করেই তা ভাইরাল করে দেওয়া হয়। অনলাইনে মানুষকে পজিটিভ বিষয়ের প্রতি অনুপ্রাণিত করতে হবে। সঠিক যাচাই-বাছাই করার পরেই যেকোনো পোস্ট দেওয়া উচিত।"
এছাড়াও অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সদর উপজেলার সহকারী কমিশনা (ভূমি) আজাহারুল ইসলাম বলেন;"আমাদের দেশের যুব সম্প্রদায়ই আমাদের প্রধান শক্তি। এই শক্তিকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়ার নেতিবাচক প্রভাবে যুবশক্তি যেন হারিয়ে না যায়, সে জন্য তাদের সচেতন করা এবং এই ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।"
বুট ক্যাম্পটির সমাপনী দিনে ওয়েভ ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক নাজমা সুলতানা লিলি বলেন, "এই প্রশিক্ষণ মিডিয়া ও তথ্য সাক্ষরতা এবং সঠিক তথ্যের ব্যবহারের মাধ্যমে তরুণদের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে ভূমিকা রাখছে। পরবর্তীতে তারা বিভিন্ন গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরবেন, যা দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"
বুটক্যাম্পের আয়োজকদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন ওয়েভ ফাউন্ডেশনের প্রজেক্ট ম্যানেজার জুলিয়েট রোজেটি, কমিউনিকেশন অ্যান্ড স্টেকহোল্ডার এনগেজমেন্ট অফিসার সাইফুর রহমান, রিসার্স অ্যান্ড ডকুমেন্টেশন স্পেশালিস্ট সাজ্জাদুল করিম এবং অংশগ্রহণকারী সিএসও-গুলোর প্রধানগণ।
উল্লেখ্য, Loud and Clear: Empowering Youth Voices 2.0” প্রকল্পটি ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৮ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের ৫টি অঞ্চলে (রাজশাহী, খুলনা, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও সিলেট) বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য তরুণ ও নাগরিক সমাজের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় তাদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)
ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুন ২০২৬
তরুণদের মিডিয়া ও তথ্য সাক্ষরতা , ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমে দক্ষ করে তুলতে বরিশালে সম্পন্ন হলো তিন দিনব্যাপী এক বিশেষ বুটক্যাম্প।ওয়েভ ফাউন্ডেশন এবং ডয়েচে ভেলে একাডেমির যৌথ উদ্যোগে । ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জার্মান ফেডারেল মিনিস্ট্রি ফর ইকোনমিক কোঅপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এর যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত “Loud and Clear: Empowering Youth Voices 2.0” প্রকল্পের আওতায় এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
গত ২৩ জুন বরিশালের হোটেল গ্র্যান্ড পার্কে শুরু হওয়া এই বুটক্যাম্পটি ২৫ জুন বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হয়।
বুটক্যাম্পে বরিশালে কর্মরত ৫টি সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশনের (সিএসও) মোট ৩০ জন ভলান্টিয়ার অংশ নেন। সিএসও-গুলো হলো, ইন্টিগ্রেটেড কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট (আইসিডিএ), সেইন্ট বাংলাদেশ, চন্দ্রদ্বীপ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (সিডিএস), মানবী এবং সহচরী ।
অনলাইনে যুক্ত থেকে ডয়েচে ভেলে একাডেমির প্রশিক্ষক মাসফিক মিজান-এর তত্ত্বাবধানে ৫ জন ফেলো এই পুরো কর্মসূচিটি সফলভাবে পরিচালনা করেন।
বর্তমান ডিজিটাল যুগে তরুণদের সামনে তথ্য বিভ্রান্তি , বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, অনলাইন হয়রানি, গুজব এবং নারীদের বিরুদ্ধে ডক্সিংয়ের মতো মারাত্মক চ্যালেঞ্জগুলো প্রতিনিয়ত তৈরি হচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই বুটক্যাম্পে মিডিয়া ও তথ্য সাক্ষরতা (MIL), ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং গঠনমূলক সংলাপের গুরুত্ব বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়।
বুটক্যাম্পের বিভিন্ন সেশনে উপস্থিত থেকে অতিথিরা তরুণদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
কর্মসূচিতে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা: ফরিদা সুলতানা। এসময় তিনি বলেন, "আমাদের দেশে বর্তমানে মোবাইল সাংবাদিকতা এমন রূপ নিয়েছে যে, কোনো ইস্যু পেলেই সত্য-মিথ্যা বা অপপ্রচার যাচাই না করেই তা ভাইরাল করে দেওয়া হয়। অনলাইনে মানুষকে পজিটিভ বিষয়ের প্রতি অনুপ্রাণিত করতে হবে। সঠিক যাচাই-বাছাই করার পরেই যেকোনো পোস্ট দেওয়া উচিত।"
এছাড়াও অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সদর উপজেলার সহকারী কমিশনা (ভূমি) আজাহারুল ইসলাম বলেন;"আমাদের দেশের যুব সম্প্রদায়ই আমাদের প্রধান শক্তি। এই শক্তিকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়ার নেতিবাচক প্রভাবে যুবশক্তি যেন হারিয়ে না যায়, সে জন্য তাদের সচেতন করা এবং এই ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।"
বুট ক্যাম্পটির সমাপনী দিনে ওয়েভ ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক নাজমা সুলতানা লিলি বলেন, "এই প্রশিক্ষণ মিডিয়া ও তথ্য সাক্ষরতা এবং সঠিক তথ্যের ব্যবহারের মাধ্যমে তরুণদের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে ভূমিকা রাখছে। পরবর্তীতে তারা বিভিন্ন গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরবেন, যা দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"
বুটক্যাম্পের আয়োজকদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন ওয়েভ ফাউন্ডেশনের প্রজেক্ট ম্যানেজার জুলিয়েট রোজেটি, কমিউনিকেশন অ্যান্ড স্টেকহোল্ডার এনগেজমেন্ট অফিসার সাইফুর রহমান, রিসার্স অ্যান্ড ডকুমেন্টেশন স্পেশালিস্ট সাজ্জাদুল করিম এবং অংশগ্রহণকারী সিএসও-গুলোর প্রধানগণ।
উল্লেখ্য, Loud and Clear: Empowering Youth Voices 2.0” প্রকল্পটি ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৮ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের ৫টি অঞ্চলে (রাজশাহী, খুলনা, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও সিলেট) বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য তরুণ ও নাগরিক সমাজের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় তাদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
