আজ ১০ই মহররম, পবিত্র আশুরা। মুসলিম উম্মাহ’র কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ একটি দিন। মানবজাতির ইতিহাসের বহু স্মরণীয় ও শিক্ষণীয় ঘটনা এই দিনের সাথে জড়িয়ে আছে। এটি যেমন একদিকে আল্লাহর কুদরত, সাহায্য ও সত্যের বিজয়ের স্মারক, অন্যদিকে অন্যায়-জুলুমের বিরুদ্ধে আত্মত্যাগ, ধৈর্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকার এক অনন্য শিক্ষা। মুসলিম বিশ্বে দিনটি ত্যাগ ও শোকের প্রতীকের পাশাপাশি বিশেষ পবিত্র দিবস হিসেবে পালিত হয়। বাংলাদেশেও আজ যথাযোগ্য ভাবগাম্ভীর্য ও মর্যাদার সাথে পবিত্র আশুরা পালিত হচ্ছে।
ঐতিহাসিক পটভূমি: বিজয় ও শাহাদাতের মহিমান্বিত দিন
আশুরার ইতিহাসের সাথে মানবজাতির ইতিহাসের দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় জড়িয়ে রয়েছে:
ফেরাউনের জুলুম থেকে মুক্তি: ইসলামী বর্ণনা অনুযায়ী, এই দিনে মহান আল্লাহ তায়ালা হযরত মুসা (আ.) ও তাঁর অনুসারীদের ফেরাউনের অত্যাচার থেকে অলৌকিকভাবে মুক্তি দিয়েছিলেন। সাগরের বুকে পথ তৈরি করে আল্লাহ তাঁদের নিরাপদে পার করে দেন এবং অত্যাচারী ফেরাউন ও তার বাহিনীকে সাগরে ডুবিয়ে মারেন। এই মহান নেয়ামতের শুকরিয়া স্বরূপ হযরত মুসা (আ.) এই দিনে রোজা রাখতেন।
কারবালার হৃদয়বিদারক ত্যাগ: হিজরি ৬১ সালের এই দিনে ইরাকের কারবালা প্রান্তরে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হযরত ইমাম হুসাইন (রা.) অন্যায় ও জুলুমের কাছে মাথা নত না করে শাহাদতবরণ করেন। সত্য, ন্যায় ও আদর্শের জন্য তাঁর এবং তাঁর পরিবারের এই আত্মত্যাগ পৃথিবীর ইতিহাসে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
তাজিয়া মিছিল ও ডিএমপির নিরাপত্তা নির্দেশনা
আশুরা উপলক্ষে দেশে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে কারবালার শোক স্মরণে ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিল অন্যতম। প্রতি বছরের মতো এবারও রাজধানীতে বর্ণাঢ্য তাজিয়া মিছিল বের হবে। মিছিলটি নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) বিশেষ নিরাপত্তা নির্দেশনা জারি করেছে।
বাণী ও রাষ্ট্রপ্রধানদের আহ্বান
পবিত্র আশুরা উপলক্ষে মহামান্য প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন।
"ইসলামের মূল শিক্ষা শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা ও মানবকল্যাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত। ইসলামে বিভেদ, হানাহানি, বিদ্বেষ কিংবা সামাজিক বৈরিতার কোনো স্থান নেই। তাই আশুরার মহান শিক্ষা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আসুন আমরা সমাজে সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও সুদৃঢ় করি। একটি ন্যায়ভিত্তিক, শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণমুখী সমাজ গঠনে নিজেদের আরও নিবেদিত করি।"
— মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)
ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুন ২০২৬
আজ ১০ই মহররম, পবিত্র আশুরা। মুসলিম উম্মাহ’র কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ একটি দিন। মানবজাতির ইতিহাসের বহু স্মরণীয় ও শিক্ষণীয় ঘটনা এই দিনের সাথে জড়িয়ে আছে। এটি যেমন একদিকে আল্লাহর কুদরত, সাহায্য ও সত্যের বিজয়ের স্মারক, অন্যদিকে অন্যায়-জুলুমের বিরুদ্ধে আত্মত্যাগ, ধৈর্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকার এক অনন্য শিক্ষা। মুসলিম বিশ্বে দিনটি ত্যাগ ও শোকের প্রতীকের পাশাপাশি বিশেষ পবিত্র দিবস হিসেবে পালিত হয়। বাংলাদেশেও আজ যথাযোগ্য ভাবগাম্ভীর্য ও মর্যাদার সাথে পবিত্র আশুরা পালিত হচ্ছে।
ঐতিহাসিক পটভূমি: বিজয় ও শাহাদাতের মহিমান্বিত দিন
আশুরার ইতিহাসের সাথে মানবজাতির ইতিহাসের দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় জড়িয়ে রয়েছে:
ফেরাউনের জুলুম থেকে মুক্তি: ইসলামী বর্ণনা অনুযায়ী, এই দিনে মহান আল্লাহ তায়ালা হযরত মুসা (আ.) ও তাঁর অনুসারীদের ফেরাউনের অত্যাচার থেকে অলৌকিকভাবে মুক্তি দিয়েছিলেন। সাগরের বুকে পথ তৈরি করে আল্লাহ তাঁদের নিরাপদে পার করে দেন এবং অত্যাচারী ফেরাউন ও তার বাহিনীকে সাগরে ডুবিয়ে মারেন। এই মহান নেয়ামতের শুকরিয়া স্বরূপ হযরত মুসা (আ.) এই দিনে রোজা রাখতেন।
কারবালার হৃদয়বিদারক ত্যাগ: হিজরি ৬১ সালের এই দিনে ইরাকের কারবালা প্রান্তরে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হযরত ইমাম হুসাইন (রা.) অন্যায় ও জুলুমের কাছে মাথা নত না করে শাহাদতবরণ করেন। সত্য, ন্যায় ও আদর্শের জন্য তাঁর এবং তাঁর পরিবারের এই আত্মত্যাগ পৃথিবীর ইতিহাসে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
তাজিয়া মিছিল ও ডিএমপির নিরাপত্তা নির্দেশনা
আশুরা উপলক্ষে দেশে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে কারবালার শোক স্মরণে ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিল অন্যতম। প্রতি বছরের মতো এবারও রাজধানীতে বর্ণাঢ্য তাজিয়া মিছিল বের হবে। মিছিলটি নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) বিশেষ নিরাপত্তা নির্দেশনা জারি করেছে।
বাণী ও রাষ্ট্রপ্রধানদের আহ্বান
পবিত্র আশুরা উপলক্ষে মহামান্য প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন।
"ইসলামের মূল শিক্ষা শান্তি, ন্যায়, সহমর্মিতা ও মানবকল্যাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত। ইসলামে বিভেদ, হানাহানি, বিদ্বেষ কিংবা সামাজিক বৈরিতার কোনো স্থান নেই। তাই আশুরার মহান শিক্ষা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আসুন আমরা সমাজে সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও সুদৃঢ় করি। একটি ন্যায়ভিত্তিক, শান্তিপূর্ণ ও কল্যাণমুখী সমাজ গঠনে নিজেদের আরও নিবেদিত করি।"
— মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
