বাংলাদেশের আকাশে দেখা গেছে পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ। ফলে আজ বুধবার (১৭ জুন) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে নতুন হিজরি সন ১৪৪৮-এর পথচলা। সেই হিসেবে আগামী ২৬ জুন (শুক্রবার) দেশজুড়ে যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হবে পবিত্র আশুরা।
গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ফজলুর রহমান এতে সভাপতিত্ব করেন। দেশের বিভিন্ন জেলা প্রশাসন, আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) থেকে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে চাঁদ দেখার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
কেন এতো মর্যাদাপূর্ণ 'আল্লাহর মাস'?
হিজরি সনের প্রথম মাস মহররম। পবিত্র কোরআনে যে চারটি মাসকে 'সম্মানিত' বলে ঘোষণা করা হয়েছে, তার মধ্যে এটি অন্যতম। রমজানের পর ইসলামে এই মাসটিকে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ মনে করা হয়। স্বয়ং মহানবী (সা.) একে ‘আল্লাহর মাস’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
সব মাস আল্লাহর হলেও মহররমকে বিশেষভাবে এই নামে ডাকার মূল কারণ এর অসীম ফজিলত। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
"রমজানের পর সবচেয়ে উত্তম রোজা হলো আল্লাহর মাস মহররমের রোজা। আর ফরজ নামাজের পর সবচেয়ে উত্তম নামাজ হলো রাতের নামাজ (তাহাজ্জুদ)।" (মুসলিম: ২৬২৬)
আশুরার রোজার গুরুত্ব ও তওবা কবুলের দিন
মহররম মাসের ১০ তারিখকে 'আশুরার দিন' বলা হয়। পুরো মাসের রোজার মধ্যে আশুরার দিনের রোজার ফজিলত সবচেয়ে বেশি। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর বর্ণনা অনুযায়ী, রসুলুল্লাহ (সা.)-কে রমজান ও আশুরার দিনের মতো অন্য কোনো দিনের রোজাকে এত গুরুত্ব দিতে দেখা যায়নি।
এছাড়া এই মাসটি ক্ষমা ও তওবা কবুলের এক অনন্য সুযোগ। এ প্রসঙ্গে তিরমিজি শরিফের একটি হাদিসে বলা হয়েছে:
মহররম মাসে এমন একটি দিন (আশুরা) রয়েছে, যেদিন আল্লাহ তাআলা অতীতে একটি জাতির তওবা কবুল করেছেন।
ভবিষ্যতেও এই দিনে অন্য জাতিগুলোর তওবা কবুল করা হবে।
তাই আধ্যাত্মিক উন্নতি ও গুনাহ মাফের জন্য হিজরি নববর্ষের এই শুরুটা মুসলিম উম্মাহর জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)
ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ জুন ২০২৬
বাংলাদেশের আকাশে দেখা গেছে পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ। ফলে আজ বুধবার (১৭ জুন) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে নতুন হিজরি সন ১৪৪৮-এর পথচলা। সেই হিসেবে আগামী ২৬ জুন (শুক্রবার) দেশজুড়ে যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হবে পবিত্র আশুরা।
গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ফজলুর রহমান এতে সভাপতিত্ব করেন। দেশের বিভিন্ন জেলা প্রশাসন, আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) থেকে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে চাঁদ দেখার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
কেন এতো মর্যাদাপূর্ণ 'আল্লাহর মাস'?
হিজরি সনের প্রথম মাস মহররম। পবিত্র কোরআনে যে চারটি মাসকে 'সম্মানিত' বলে ঘোষণা করা হয়েছে, তার মধ্যে এটি অন্যতম। রমজানের পর ইসলামে এই মাসটিকে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ মনে করা হয়। স্বয়ং মহানবী (সা.) একে ‘আল্লাহর মাস’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
সব মাস আল্লাহর হলেও মহররমকে বিশেষভাবে এই নামে ডাকার মূল কারণ এর অসীম ফজিলত। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
"রমজানের পর সবচেয়ে উত্তম রোজা হলো আল্লাহর মাস মহররমের রোজা। আর ফরজ নামাজের পর সবচেয়ে উত্তম নামাজ হলো রাতের নামাজ (তাহাজ্জুদ)।" (মুসলিম: ২৬২৬)
আশুরার রোজার গুরুত্ব ও তওবা কবুলের দিন
মহররম মাসের ১০ তারিখকে 'আশুরার দিন' বলা হয়। পুরো মাসের রোজার মধ্যে আশুরার দিনের রোজার ফজিলত সবচেয়ে বেশি। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর বর্ণনা অনুযায়ী, রসুলুল্লাহ (সা.)-কে রমজান ও আশুরার দিনের মতো অন্য কোনো দিনের রোজাকে এত গুরুত্ব দিতে দেখা যায়নি।
এছাড়া এই মাসটি ক্ষমা ও তওবা কবুলের এক অনন্য সুযোগ। এ প্রসঙ্গে তিরমিজি শরিফের একটি হাদিসে বলা হয়েছে:
মহররম মাসে এমন একটি দিন (আশুরা) রয়েছে, যেদিন আল্লাহ তাআলা অতীতে একটি জাতির তওবা কবুল করেছেন।
ভবিষ্যতেও এই দিনে অন্য জাতিগুলোর তওবা কবুল করা হবে।
তাই আধ্যাত্মিক উন্নতি ও গুনাহ মাফের জন্য হিজরি নববর্ষের এই শুরুটা মুসলিম উম্মাহর জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
