আজ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য জেবা আমিনের শুভ জন্মদিন। জন্মদিন উপলক্ষে ঝালকাঠি জেলা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, সরাসরি সাক্ষাৎ ও ফোনকলে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং দেশের মানুষের কল্যাণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
ঝালকাঠি সদর উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী নবাব পরিবারের সন্তান জেবা আমিন। তিনি একজন সম্ভ্রান্ত ও রাজনৈতিকভাবে সচেতন পরিবারের উত্তরসূরি। তার পিতার নাম এই অঞ্চলে সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে উচ্চারিত হয়। পারিবারিক ঐতিহ্য, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও দেশপ্রেমের চেতনা থেকেই তার রাজনৈতিক বিকাশ।
জেবা আমিন বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, বিএনপি চেয়ারপার্সনের ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল কেন্দ্রীয় সংসদের ১নং সহ-সভাপতি এবং ঝালকাঠি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি শুধু রাজনীতিবিদ নন; কূটনৈতিক মহলের সঙ্গেও দীর্ঘদিন সম্পৃক্ত থেকে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে অবদান রেখেছেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চরম প্রতিকূল পরিবেশে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন জেবা আমিন। নির্বাচন চলাকালে তৎকালীন ক্ষমতাসীন প্রভাবশালী নেতা আমির হোসেন আমুর অনুসারীদের হামলা, নির্যাতন ও দমন-পীড়নের শিকার হন তিনি। হত্যার উদ্দেশ্যে তার গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়, কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। তাকে এবং তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীদের কুপিয়ে ও পিটিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করা হয়। পুলিশ প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ দিয়েও তিনি কোনো কার্যকর প্রতিকার পাননি।
ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে জেবা আমিন ছিলেন এক সাহসী কণ্ঠস্বর। বিগত শেখ হাসিনা সরকারের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে ঢাকার রাজপথে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে তাকে কারাবরণও করতে হয়েছে। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তিনি কখনো আপস করেননি।
তার রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও ত্যাগী নেতৃত্বের কারণে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হন। দলের প্রতি তার দীর্ঘদিনের অবদান, সাহসী ভূমিকা এবং রাজনৈতিক প্রজ্ঞার স্বীকৃতি হিসেবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদে তাকে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়।
সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পরও তিনি শেকড়ের টান ভুলে যাননি। ঝালকাঠি, নলছিটি ও জেলার সামগ্রিক উন্নয়নে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে রাস্তা, পুল, কালভার্ট নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ তহবিল থেকে বরাদ্দ এনে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করছেন।
এছাড়া প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা নিশ্চিত করতেও তিনি বিশেষভাবে কাজ করছেন। সুবিধাবঞ্চিত ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য আধুনিক শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তিনি বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং নিরাপদ সামাজিক পরিবেশ গঠনে জেবা আমিনের ভূমিকা প্রশংসনীয়। নারী শিক্ষার মানোন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নেতৃত্বে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে তিনি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন।
এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নে তিনি ডকুমেন্টারি আকারে সমস্যা চিহ্নিত করে তা সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে উপস্থাপন করছেন। এর মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, কৃষি এবং সামাজিক উন্নয়নের নানা সমস্যার কার্যকর সমাধানে সরকারি পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে কাজ করছেন।
ঝালকাঠি বিএনপি পরিবারের ত্যাগী, নির্যাতিত ও নিপীড়িত নেতাকর্মীদের মূল্যায়নেও তিনি বিশেষ ভূমিকা রেখে চলেছেন। দীর্ঘদিন রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা নেতাকর্মীদের পাশে থেকে সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিতে কাজ করছেন।
জন্মদিনে নেতাকর্মীদের ভালোবাসা ও শুভেচ্ছায় অভিভূত হয়ে জেবা আমিন সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন,
“মানুষের ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। আমৃত্যু মানুষের কল্যাণে, এলাকার উন্নয়নে এবং দেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় কাজ করে যেতে চাই।”
ত্যাগ, সংগ্রাম, সাহসিকতা ও মানবিক নেতৃত্বে জেবা আমিন আজ ঝালকাঠি তথা জাতীয় রাজনীতিতে এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)
ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

রোববার, ২১ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ জুন ২০২৬
আজ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য জেবা আমিনের শুভ জন্মদিন। জন্মদিন উপলক্ষে ঝালকাঠি জেলা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, সরাসরি সাক্ষাৎ ও ফোনকলে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং দেশের মানুষের কল্যাণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
ঝালকাঠি সদর উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী নবাব পরিবারের সন্তান জেবা আমিন। তিনি একজন সম্ভ্রান্ত ও রাজনৈতিকভাবে সচেতন পরিবারের উত্তরসূরি। তার পিতার নাম এই অঞ্চলে সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে উচ্চারিত হয়। পারিবারিক ঐতিহ্য, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও দেশপ্রেমের চেতনা থেকেই তার রাজনৈতিক বিকাশ।
জেবা আমিন বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, বিএনপি চেয়ারপার্সনের ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল কেন্দ্রীয় সংসদের ১নং সহ-সভাপতি এবং ঝালকাঠি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি শুধু রাজনীতিবিদ নন; কূটনৈতিক মহলের সঙ্গেও দীর্ঘদিন সম্পৃক্ত থেকে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে অবদান রেখেছেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চরম প্রতিকূল পরিবেশে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন জেবা আমিন। নির্বাচন চলাকালে তৎকালীন ক্ষমতাসীন প্রভাবশালী নেতা আমির হোসেন আমুর অনুসারীদের হামলা, নির্যাতন ও দমন-পীড়নের শিকার হন তিনি। হত্যার উদ্দেশ্যে তার গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়, কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। তাকে এবং তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীদের কুপিয়ে ও পিটিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করা হয়। পুলিশ প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ দিয়েও তিনি কোনো কার্যকর প্রতিকার পাননি।
ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে জেবা আমিন ছিলেন এক সাহসী কণ্ঠস্বর। বিগত শেখ হাসিনা সরকারের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে ঢাকার রাজপথে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে তাকে কারাবরণও করতে হয়েছে। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তিনি কখনো আপস করেননি।
তার রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও ত্যাগী নেতৃত্বের কারণে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হন। দলের প্রতি তার দীর্ঘদিনের অবদান, সাহসী ভূমিকা এবং রাজনৈতিক প্রজ্ঞার স্বীকৃতি হিসেবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদে তাকে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়।
সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পরও তিনি শেকড়ের টান ভুলে যাননি। ঝালকাঠি, নলছিটি ও জেলার সামগ্রিক উন্নয়নে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে রাস্তা, পুল, কালভার্ট নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ তহবিল থেকে বরাদ্দ এনে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করছেন।
এছাড়া প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা নিশ্চিত করতেও তিনি বিশেষভাবে কাজ করছেন। সুবিধাবঞ্চিত ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য আধুনিক শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তিনি বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং নিরাপদ সামাজিক পরিবেশ গঠনে জেবা আমিনের ভূমিকা প্রশংসনীয়। নারী শিক্ষার মানোন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নেতৃত্বে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে তিনি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন।
এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নে তিনি ডকুমেন্টারি আকারে সমস্যা চিহ্নিত করে তা সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে উপস্থাপন করছেন। এর মাধ্যমে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, কৃষি এবং সামাজিক উন্নয়নের নানা সমস্যার কার্যকর সমাধানে সরকারি পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে কাজ করছেন।
ঝালকাঠি বিএনপি পরিবারের ত্যাগী, নির্যাতিত ও নিপীড়িত নেতাকর্মীদের মূল্যায়নেও তিনি বিশেষ ভূমিকা রেখে চলেছেন। দীর্ঘদিন রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা নেতাকর্মীদের পাশে থেকে সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিতে কাজ করছেন।
জন্মদিনে নেতাকর্মীদের ভালোবাসা ও শুভেচ্ছায় অভিভূত হয়ে জেবা আমিন সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন,
“মানুষের ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। আমৃত্যু মানুষের কল্যাণে, এলাকার উন্নয়নে এবং দেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় কাজ করে যেতে চাই।”
ত্যাগ, সংগ্রাম, সাহসিকতা ও মানবিক নেতৃত্বে জেবা আমিন আজ ঝালকাঠি তথা জাতীয় রাজনীতিতে এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
