ঠিক এক বছর আগের সেই ভয়াল দিনটির কথা মনে পড়লে আজও শিউরে ওঠেন উত্তরার দিয়াবাড়ীর বাসিন্দারা। ২০২৫ সালের ২১ জুলাই—সোমবারে বিমানবাহিনীর একটি এফ-৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান আচমকাই আছড়ে পড়েছিল মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভবনে।
মুহূর্তে ছাই হয়ে গিয়েছিল বহু কোমল প্রাণ, বাতাসে ভেসে এসেছিল শিশুদের বুকফাটা আর্তনাদ। এক বছর পূর্ণ হলেও সেই ট্র্যাজেডির ক্ষত বিন্দুমাত্র শুকায়নি; বরং পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণের অভাব, সুচিকিৎসার সংকট আর সরকারি উদাসীনতায় ক্ষোভ ও চরম হতাশায় দিন কাটছে স্বজনহারা পরিবারগুলোর।
সরকারি হিসাবে ওই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় পাইলটসহ ৩৫ জন নিহত এবং ৬৪ জন আহত হন, যাদের সিংহভাগই ছিল নিষ্পাপ শিশু। আহত অনেক শিক্ষার্থী এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি। দুর্ঘটনায় আহত এক শিক্ষার্থীর মা সানজিদা বেলায়েত কান্নাভেজা কণ্ঠে বলেন, "কেবল সন্তান নয়, আমাদের পুরো পরিবার আজ মারাত্মক ট্রমাটাইজড। বাচ্চারা আলোতে যেতে ভয় পায়, একা থাকতে পারে না। এক বছরেও সরকার আমাদের কোনো খবর নেয়নি।"
ক্ষতিপূরণ নিয়ে জটিলতা ও অসন্তোষ
উচ্চ আদালত থেকে প্রাথমিক রুল জারির পর অন্তর্র্বতী সরকার নিহতদের পরিবারকে ২০ লাখ এবং আহতদের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর স্পষ্ট দাবি—এই অর্থ প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই ‘অপ্রতুল’। আহতদের দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল চিকিৎসার খরচের কাছে এই অনুদান একেবারেই সামান্য। নতুন করে সরকারের পক্ষ থেকে আর কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ আরও ঘনীভূত হয়েছে।
ধামাচাপা পড়ে থাকছে তদন্ত রিপোর্ট
দুর্ঘটনার পর গঠিত তদন্ত কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন আজও প্রকাশ পায়নি। তবে আংশিক প্রতিবেদনে রাজউকের বিল্ডিং কোড না মেনে ভবন নির্মাণের বিষয়টি উঠে আসায় প্রতিষ্ঠানের দায় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্মৃতি তর্পণেও বিতর্কের ছায়া
দুর্ঘটনার এক বছর পূর্তিতে মাইলস্টোন কলেজ কর্তৃপক্ষ দুই দিনের শোক কর্মসূচি ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে। অন্যদিকে, জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে স্মারক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলেও সেখানে স্বজনদের সবাইকে আমন্ত্রণ না জানানোর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, যারা ঘটনাটি নিয়ে আইনি পদক্ষেপ বা মামলা করেছেন, তাদের কৌশলে এসব আয়োজন থেকে দূরে রাখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক বছর পার হলেও বিচার পাওয়া কিংবা পুনর্বাসনের অনিশ্চয়তা কাটেনি। স্বজন হারানো পরিবারগুলোর প্রশ্ন—আর কতদিন এই ট্রমা আর অবহেলা বয়ে বেড়াতে হবে তাদের?
গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)
ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ জুলাই ২০২৬
ঠিক এক বছর আগের সেই ভয়াল দিনটির কথা মনে পড়লে আজও শিউরে ওঠেন উত্তরার দিয়াবাড়ীর বাসিন্দারা। ২০২৫ সালের ২১ জুলাই—সোমবারে বিমানবাহিনীর একটি এফ-৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান আচমকাই আছড়ে পড়েছিল মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভবনে।
মুহূর্তে ছাই হয়ে গিয়েছিল বহু কোমল প্রাণ, বাতাসে ভেসে এসেছিল শিশুদের বুকফাটা আর্তনাদ। এক বছর পূর্ণ হলেও সেই ট্র্যাজেডির ক্ষত বিন্দুমাত্র শুকায়নি; বরং পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণের অভাব, সুচিকিৎসার সংকট আর সরকারি উদাসীনতায় ক্ষোভ ও চরম হতাশায় দিন কাটছে স্বজনহারা পরিবারগুলোর।
সরকারি হিসাবে ওই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় পাইলটসহ ৩৫ জন নিহত এবং ৬৪ জন আহত হন, যাদের সিংহভাগই ছিল নিষ্পাপ শিশু। আহত অনেক শিক্ষার্থী এখনো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি। দুর্ঘটনায় আহত এক শিক্ষার্থীর মা সানজিদা বেলায়েত কান্নাভেজা কণ্ঠে বলেন, "কেবল সন্তান নয়, আমাদের পুরো পরিবার আজ মারাত্মক ট্রমাটাইজড। বাচ্চারা আলোতে যেতে ভয় পায়, একা থাকতে পারে না। এক বছরেও সরকার আমাদের কোনো খবর নেয়নি।"
ক্ষতিপূরণ নিয়ে জটিলতা ও অসন্তোষ
উচ্চ আদালত থেকে প্রাথমিক রুল জারির পর অন্তর্র্বতী সরকার নিহতদের পরিবারকে ২০ লাখ এবং আহতদের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর স্পষ্ট দাবি—এই অর্থ প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই ‘অপ্রতুল’। আহতদের দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল চিকিৎসার খরচের কাছে এই অনুদান একেবারেই সামান্য। নতুন করে সরকারের পক্ষ থেকে আর কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ আরও ঘনীভূত হয়েছে।
ধামাচাপা পড়ে থাকছে তদন্ত রিপোর্ট
দুর্ঘটনার পর গঠিত তদন্ত কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন আজও প্রকাশ পায়নি। তবে আংশিক প্রতিবেদনে রাজউকের বিল্ডিং কোড না মেনে ভবন নির্মাণের বিষয়টি উঠে আসায় প্রতিষ্ঠানের দায় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্মৃতি তর্পণেও বিতর্কের ছায়া
দুর্ঘটনার এক বছর পূর্তিতে মাইলস্টোন কলেজ কর্তৃপক্ষ দুই দিনের শোক কর্মসূচি ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে। অন্যদিকে, জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে স্মারক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলেও সেখানে স্বজনদের সবাইকে আমন্ত্রণ না জানানোর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, যারা ঘটনাটি নিয়ে আইনি পদক্ষেপ বা মামলা করেছেন, তাদের কৌশলে এসব আয়োজন থেকে দূরে রাখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক বছর পার হলেও বিচার পাওয়া কিংবা পুনর্বাসনের অনিশ্চয়তা কাটেনি। স্বজন হারানো পরিবারগুলোর প্রশ্ন—আর কতদিন এই ট্রমা আর অবহেলা বয়ে বেড়াতে হবে তাদের?
