খবর প্রতিদিন ২৪

দেশের ৭ জেলায় বন্যা, প্রাণহানি বেড়ে ৪৪



দেশের ৭ জেলায় বন্যা, প্রাণহানি বেড়ে ৪৪

আরও গভীর হচ্ছে দেশের সাত জেলায় বন্যা ও পাহাড়ধসের ভয়াবহতা। কোথাও তলিয়ে গেছে ঘরবাড়ি, কোথাও ধসে পড়েছে পাহাড়। টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে এখন পর্যন্ত প্রাণ গেছে ৪৪ জনের। লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ইতোমধ্যে ১০ লাখ ছাড়িয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের দৈনিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের ৫৮টি উপজেলা বন্যাকবলিত হয়েছে। দুর্গত মানুষের জন্য ১ হাজার ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে আশ্রয় নিয়েছেন ৪৪ হাজার ৪৫৭ জন।

চট্টগ্রাম অঞ্চলে ৪ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ভারী বর্ষণে গত এক সপ্তাহে ১ হাজার ১৬৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে গত মঙ্গলবার সর্বোচ্চ ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। পরে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জেও বন্যা ছড়িয়ে পড়ে।

বাঁশখালী উপজেলায় পাহাড়ি ঢলে ভেসে গিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলো- মোহাম্মদ আশিক (৭) ও মোহাম্মদ মিরাজ (৩)। স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে এলাকা প্লাবিত হওয়ার মধ্যেই এ দুর্ঘটনা ঘটে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, বর্তমানে ছয় জেলার পাঁচটি নদীর সাতটি পর্যবেক্ষণকেন্দ্রে পানি এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীগুলো হলো- সাঙ্গু, মাতামুহুরী, কুশিয়ারা, মনু ও সোমেশ্বরী। তবে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

অন্যদিকে ফেনী, সিলেট ও উত্তরাঞ্চলে, বিশেষ করে তিস্তা অববাহিকায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে সাময়িক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে গত দুই দিনের তুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দেশের সর্বোচ্চ ১৪৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে ফরিদপুরে। এছাড়া চট্টগ্রামের আমবাগানে ১০৬, রাঙামাটিতে ৯০, বান্দরবানে ৮৮ এবং কক্সবাজারে ৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বন্যাকবলিত এলাকায় সহায়তা হিসেবে ২ হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন চাল ও ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে বিভিন্ন এলাকার দুর্গত মানুষ অভিযোগ করেছেন, এখনো অনেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সরকারি সহায়তা পায়নি।

শনিবার (১১ জুলাই) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মো. মাহমুদুল ইসলাম শোভন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পর্যবেক্ষণাধীন স্টেশনসমূহের মধ্যে চারটি নদীর ছয়টি জেলার ছয়টি পয়েন্টে–সাঙ্গু নদী বান্দরবান (বান্দরবান) ও দোহাজারী (চট্টগ্রাম) স্টেশনে; খোয়াই নদী বাল্লাহ (হবিগঞ্জ) স্টেশনে; মনু নদী মৌলভীবাজার স্টেশনে; কুশিয়ারা নদী মারকুলি (সুনামগঞ্জ) ও ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) স্টেশনে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসে বলা হয়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগে এবং উজানে ভারতের ত্রিপুরা প্রদেশে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে; আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে এবং তৎসংলগ্ন উজানে ভারতের মেঘালয়, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের পুর্বাভাস রয়েছে। মধ্য উত্তরপ্রদেশের উত্তরাংশে অবস্থানরত লঘুচাপটি দুর্বল হয়েছে এবং ক্রমান্বয়ে আরও দুর্বল হতে পারে।

বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় চট্টগ্রাম বিভাগের হালদা, সাঞ্জু, মুহুরী ও ফেনী নদীসমূহের পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে; অপরদিকে মাতামুহুরী, গোমতী ও সেলোনিয়া নদীসমূহের পানি সমতল হ্রাস পেয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার সাঙ্গু, মাতামুহুরী ইত্যাদি নদীর পানি সমতল ধীর গতিতে হ্রাস পেতে পারে এবং নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলসমূহে বন্যা পরিস্থিতির ধীর গতিতে উন্নতি হতে পারে।

অপরদিকে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলার মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা ইত্যাদি নদীসমূহের পানি সমতল কিছু কিছু স্থানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে। এছাড়া লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও এসময়ে সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: /৫ ( ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

খবর প্রতিদিন ২৪

রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬


দেশের ৭ জেলায় বন্যা, প্রাণহানি বেড়ে ৪৪

প্রকাশের তারিখ : ১২ জুলাই ২০২৬

featured Image

আরও গভীর হচ্ছে দেশের সাত জেলায় বন্যা ও পাহাড়ধসের ভয়াবহতা। কোথাও তলিয়ে গেছে ঘরবাড়ি, কোথাও ধসে পড়েছে পাহাড়। টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে এখন পর্যন্ত প্রাণ গেছে ৪৪ জনের। লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ইতোমধ্যে ১০ লাখ ছাড়িয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের দৈনিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের ৫৮টি উপজেলা বন্যাকবলিত হয়েছে। দুর্গত মানুষের জন্য ১ হাজার ১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে আশ্রয় নিয়েছেন ৪৪ হাজার ৪৫৭ জন।

চট্টগ্রাম অঞ্চলে ৪ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ভারী বর্ষণে গত এক সপ্তাহে ১ হাজার ১৬৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে গত মঙ্গলবার সর্বোচ্চ ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়। পরে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জেও বন্যা ছড়িয়ে পড়ে।

বাঁশখালী উপজেলায় পাহাড়ি ঢলে ভেসে গিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলো- মোহাম্মদ আশিক (৭) ও মোহাম্মদ মিরাজ (৩)। স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে এলাকা প্লাবিত হওয়ার মধ্যেই এ দুর্ঘটনা ঘটে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, বর্তমানে ছয় জেলার পাঁচটি নদীর সাতটি পর্যবেক্ষণকেন্দ্রে পানি এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীগুলো হলো- সাঙ্গু, মাতামুহুরী, কুশিয়ারা, মনু ও সোমেশ্বরী। তবে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

অন্যদিকে ফেনী, সিলেট ও উত্তরাঞ্চলে, বিশেষ করে তিস্তা অববাহিকায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে সাময়িক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে গত দুই দিনের তুলনায় গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দেশের সর্বোচ্চ ১৪৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে ফরিদপুরে। এছাড়া চট্টগ্রামের আমবাগানে ১০৬, রাঙামাটিতে ৯০, বান্দরবানে ৮৮ এবং কক্সবাজারে ৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

ত্রাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বন্যাকবলিত এলাকায় সহায়তা হিসেবে ২ হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন চাল ও ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে বিভিন্ন এলাকার দুর্গত মানুষ অভিযোগ করেছেন, এখনো অনেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সরকারি সহায়তা পায়নি।

শনিবার (১১ জুলাই) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মো. মাহমুদুল ইসলাম শোভন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পর্যবেক্ষণাধীন স্টেশনসমূহের মধ্যে চারটি নদীর ছয়টি জেলার ছয়টি পয়েন্টে–সাঙ্গু নদী বান্দরবান (বান্দরবান) ও দোহাজারী (চট্টগ্রাম) স্টেশনে; খোয়াই নদী বাল্লাহ (হবিগঞ্জ) স্টেশনে; মনু নদী মৌলভীবাজার স্টেশনে; কুশিয়ারা নদী মারকুলি (সুনামগঞ্জ) ও ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) স্টেশনে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসে বলা হয়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগে এবং উজানে ভারতের ত্রিপুরা প্রদেশে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে; আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে এবং তৎসংলগ্ন উজানে ভারতের মেঘালয়, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের পুর্বাভাস রয়েছে। মধ্য উত্তরপ্রদেশের উত্তরাংশে অবস্থানরত লঘুচাপটি দুর্বল হয়েছে এবং ক্রমান্বয়ে আরও দুর্বল হতে পারে।

বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় চট্টগ্রাম বিভাগের হালদা, সাঞ্জু, মুহুরী ও ফেনী নদীসমূহের পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে; অপরদিকে মাতামুহুরী, গোমতী ও সেলোনিয়া নদীসমূহের পানি সমতল হ্রাস পেয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার সাঙ্গু, মাতামুহুরী ইত্যাদি নদীর পানি সমতল ধীর গতিতে হ্রাস পেতে পারে এবং নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলসমূহে বন্যা পরিস্থিতির ধীর গতিতে উন্নতি হতে পারে।

অপরদিকে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলার মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা ইত্যাদি নদীসমূহের পানি সমতল কিছু কিছু স্থানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে। এছাড়া লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও এসময়ে সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।


খবর প্রতিদিন ২৪

প্রকাশক
মোঃ মামুনুর হাসান (টিপু)
সম্পাদক
খন্দকার আমিনুর রহমান
বার্তা সম্পাদক
মোঃ তরিকুল ইসলাম
উপদেষ্টা মন্ডলীর সভাপতি
বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. এস এম জাহাঙ্গীর আলম [পরিচালক] বাংলাদেশ স্যাটেলাইট
আইন উপদেষ্টা
মুহাম্মদ গোলাম হোসেন (এডভোকেট বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট)

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
দেশের ৭ জেলায় বন্যা, প্রাণহানি বেড়ে ৪৪
0:00 / 0:00
1x