খবর প্রতিদিন ২৪

শিবালয়য়ে যমুনায় অবৈধ ড্রেজিংয়ের ফলে নদীভাঙনে বিলুপ্তির পথে: আলোকদিয়ার চর



শিবালয়য়ে যমুনায় অবৈধ ড্রেজিংয়ের ফলে নদীভাঙনে বিলুপ্তির পথে: আলোকদিয়ার চর

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার যমুনা নদীর দুর্গম আলোকদিয়ার চরে প্রভাবশালী বালুমাফিয়া চক্রের বিরুদ্ধে অব্যাহত অবৈধ ড্রেজিং ও বালু উত্তোলনের এলাকাবাসীর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সংঘবদ্ধ এই চক্রের লাগামহীন অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে যমুনা নদীর তীরবর্তী এলাকা ভয়াবহ নদীভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে অচিরেই আলোকদিয়ার চর মানিকগঞ্জ জেলার মানচিত্র থেকে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকশত বসতবাড়ি,ফসলি জমি ও জাতীয় গ্রিড বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

সোমবার (০৬ জুলাই ২০২৬ ইং) সরেজমিনে শিবালয় উপজেলার তেওতা ইউনিয়নের জাতীয় গ্রিড বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ৭ ও ৮ নম্বর টাওয়ারসংলগ্ন জনবসতিপূর্ণ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, অন্তত ৯টি ড্রেজারের মাধ্যমে প্রকাশ্যে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে। ঘটনাস্থলে প্রায় শতাধিক বাল্কহেডে বালু লোড-আনলোড করতে দেখা যায়। প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত ভিডিও চিত্র ও স্থিরচিত্রেও এসব কার্যক্রমের দৃশ্য ধারণ রয়েছে।

সরেজমিনে আরোও দেখা যায়,অবৈধ ড্রেজিংয়ের কারণে যমুনার ভয়াবহ ভাঙনে নদীতীর ধসে পড়ছে। অনেক পরিবার নিজেদের বসতঘর,গোয়ালঘর ও শেষ সম্বল ভিটেমাটি খুলে অন্যত্র সরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা।

স্থানীয়দের অভিযোগ,একটি প্রভাবশালী বালুমাফিয়া চক্র বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রচ্ছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নির্দেশনা ও প্রচলিত আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে।

এ বিষয়ে একাধিকবার মানববন্ধন,প্রতিবাদ কর্মসূচি মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলোও রহস্যজনক কারণে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলোও অভিযোগ করেন তারা।
এলাকাবাসীর ভাষ্য,অবৈধ ড্রেজিংয়ের ফলে বর্তমানে কয়েকশত বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে এবং নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় গ্রিড বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ৭ ও ৮ নম্বর টাওয়ারও হুমকির মুখে পড়েছে। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপূরণীয় ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে,এ ধরনের অবৈধ বালু উত্তোলন বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন,২০১০-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ড্রেজার জব্দ, অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ, ক্ষতিপূরণ আদায় এবং প্রচলিত আইনে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা গণমাধ্যমকে বলেন,"অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসনের অবস্থান জিরো টলারেন্স। ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।" তবে স্থানীয়দের অভিযোগ,প্রশাসনের ঘোষিত জিরো টলারেন্স নীতির বাস্তব প্রতিফলন মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান নয়। তাদের দাবি,অবৈধ ড্রেজিং বন্ধে দ্রুত অভিযান পরিচালনা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় বালুমাফিয়া চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসী হুঁশিয়ারি দিয়ে আরোও বলেন,নিজেদের বসতভিটা,কৃষিজমি ও জীবন-জীবিকা রক্ষায় এখন থেকে কঠোর শান্তিপূর্ণ আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। প্রয়োজনে লাগাতার কর্মসূচি পালন করে শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি রক্ষা করা হবে। একই সঙ্গে অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: /৫ ( ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

খবর প্রতিদিন ২৪

মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬


শিবালয়য়ে যমুনায় অবৈধ ড্রেজিংয়ের ফলে নদীভাঙনে বিলুপ্তির পথে: আলোকদিয়ার চর

প্রকাশের তারিখ : ০৬ জুলাই ২০২৬

featured Image

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার যমুনা নদীর দুর্গম আলোকদিয়ার চরে প্রভাবশালী বালুমাফিয়া চক্রের বিরুদ্ধে অব্যাহত অবৈধ ড্রেজিং ও বালু উত্তোলনের এলাকাবাসীর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সংঘবদ্ধ এই চক্রের লাগামহীন অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে যমুনা নদীর তীরবর্তী এলাকা ভয়াবহ নদীভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে অচিরেই আলোকদিয়ার চর মানিকগঞ্জ জেলার মানচিত্র থেকে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকশত বসতবাড়ি,ফসলি জমি ও জাতীয় গ্রিড বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

সোমবার (০৬ জুলাই ২০২৬ ইং) সরেজমিনে শিবালয় উপজেলার তেওতা ইউনিয়নের জাতীয় গ্রিড বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ৭ ও ৮ নম্বর টাওয়ারসংলগ্ন জনবসতিপূর্ণ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, অন্তত ৯টি ড্রেজারের মাধ্যমে প্রকাশ্যে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে। ঘটনাস্থলে প্রায় শতাধিক বাল্কহেডে বালু লোড-আনলোড করতে দেখা যায়। প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত ভিডিও চিত্র ও স্থিরচিত্রেও এসব কার্যক্রমের দৃশ্য ধারণ রয়েছে।

সরেজমিনে আরোও দেখা যায়,অবৈধ ড্রেজিংয়ের কারণে যমুনার ভয়াবহ ভাঙনে নদীতীর ধসে পড়ছে। অনেক পরিবার নিজেদের বসতঘর,গোয়ালঘর ও শেষ সম্বল ভিটেমাটি খুলে অন্যত্র সরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা।

স্থানীয়দের অভিযোগ,একটি প্রভাবশালী বালুমাফিয়া চক্র বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রচ্ছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নির্দেশনা ও প্রচলিত আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে।

এ বিষয়ে একাধিকবার মানববন্ধন,প্রতিবাদ কর্মসূচি মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলোও রহস্যজনক কারণে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলোও অভিযোগ করেন তারা।
এলাকাবাসীর ভাষ্য,অবৈধ ড্রেজিংয়ের ফলে বর্তমানে কয়েকশত বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে এবং নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় গ্রিড বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ৭ ও ৮ নম্বর টাওয়ারও হুমকির মুখে পড়েছে। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপূরণীয় ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে,এ ধরনের অবৈধ বালু উত্তোলন বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন,২০১০-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ড্রেজার জব্দ, অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ, ক্ষতিপূরণ আদায় এবং প্রচলিত আইনে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা গণমাধ্যমকে বলেন,"অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসনের অবস্থান জিরো টলারেন্স। ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।" তবে স্থানীয়দের অভিযোগ,প্রশাসনের ঘোষিত জিরো টলারেন্স নীতির বাস্তব প্রতিফলন মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান নয়। তাদের দাবি,অবৈধ ড্রেজিং বন্ধে দ্রুত অভিযান পরিচালনা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় বালুমাফিয়া চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসী হুঁশিয়ারি দিয়ে আরোও বলেন,নিজেদের বসতভিটা,কৃষিজমি ও জীবন-জীবিকা রক্ষায় এখন থেকে কঠোর শান্তিপূর্ণ আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। প্রয়োজনে লাগাতার কর্মসূচি পালন করে শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি রক্ষা করা হবে। একই সঙ্গে অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।


খবর প্রতিদিন ২৪

প্রকাশক
মোঃ মামুনুর হাসান (টিপু)
সম্পাদক
খন্দকার আমিনুর রহমান
বার্তা সম্পাদক
মোঃ তরিকুল ইসলাম
উপদেষ্টা মন্ডলীর সভাপতি
বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. এস এম জাহাঙ্গীর আলম [পরিচালক] বাংলাদেশ স্যাটেলাইট
আইন উপদেষ্টা
মুহাম্মদ গোলাম হোসেন (এডভোকেট বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট)

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
শিবালয়য়ে যমুনায় অবৈধ ড্রেজিংয়ের ফলে নদীভাঙনে বিলুপ্তির পথে: আলোকদিয়ার চর
0:00 / 0:00
1x