৯ জুলাই (বৃহস্পতিবার) রাতের আঁধারে কয়েকদিনের ভারী বর্ষণের সঙ্গে ধেয়ে আসা খোয়াই নদীর তীব্র স্রোতে ভেঙে গেল সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের প্রধান প্রতিরক্ষা বাঁধ। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় আনসার-ভিডিপি সদস্যরা প্রাণপণ চেষ্টা করেও পানির তীব্র স্রোতের কারণে বাঁধ মেরামত করা সম্ভব হয়নি। শুক্রবার সকাল হতেই বিস্তীর্ণ জনপদ রূপ নেয় এক বিশাল জলরাশিতে। আকস্মিক এই বন্যায় প্লাবিত হয়েছে অন্তত ৩৩টি গ্রাম, ঘরবাড়িতে কোমর থেকে বুকসমান পানি বিপাকে হাজারো মানুষ।
বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে বসতভিটা। আকস্মিক এই বিপর্যয়ে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন বৃদ্ধ, নারী ও অবুঝ শিশুরা। চারদিকের এই আর্তনাদের মাঝেই ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ভিডিপি সদস্যরা। নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোমর ও বুকসমান পানিতে নেমে তারা একে একে উদ্ধার করছেন আটকে পড়া অসহায় মানুষদের। বিভিন্ন উপায়ে পরম মমতায় তাদের পৌঁছে দিচ্ছেন নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে (ফ্লাড শেল্টার সেন্টার)।
ভিডিপি সদস্যরা কেবল মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিচ্ছেন না, বরং বন্যাকবলিতদের গৃহপালিত পশুপাখিও উদ্ধার করে আনছেন। শুধু উদ্ধার অভিযানই নয়, মানবিক সহায়তায় দিনরাত কাজ করছেন এই বাহিনীর সদস্যরা। সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছেন তারা।
দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সর্বোচ্চ নির্দেশনা রয়েছে বাহিনীর সদর দপ্তর থেকে। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ মহোদয় দেশের সব বন্যা কবলিত এলাকায় আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের সাধ্যমত সর্বাত্মকভাবে মানুষের পাশে থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন। আনসার ও ভিডিপি জেলা কমান্ড্যান্ট ও উপজেলা কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে উপস্থিত থেকে এই উদ্ধার ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন।
যেকোনো জাতীয় দুর্যোগ কিংবা সংকটে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী সবসময়ই সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক। হবিগঞ্জের এই ভয়াবহ বন্যাতেও তারা দেশ ও মানুষের কল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ। নিজেরা না খেয়ে, না ঘুমিয়ে অন্যের জীবন বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়ার এই গল্প আরও একবার মনে করিয়ে দেয়—দুর্যোগে-দুর্বিপাকে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী সত্যিই বাংলার মানুষের পরম বন্ধু।
গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)
ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ জুলাই ২০২৬
৯ জুলাই (বৃহস্পতিবার) রাতের আঁধারে কয়েকদিনের ভারী বর্ষণের সঙ্গে ধেয়ে আসা খোয়াই নদীর তীব্র স্রোতে ভেঙে গেল সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের প্রধান প্রতিরক্ষা বাঁধ। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় আনসার-ভিডিপি সদস্যরা প্রাণপণ চেষ্টা করেও পানির তীব্র স্রোতের কারণে বাঁধ মেরামত করা সম্ভব হয়নি। শুক্রবার সকাল হতেই বিস্তীর্ণ জনপদ রূপ নেয় এক বিশাল জলরাশিতে। আকস্মিক এই বন্যায় প্লাবিত হয়েছে অন্তত ৩৩টি গ্রাম, ঘরবাড়িতে কোমর থেকে বুকসমান পানি বিপাকে হাজারো মানুষ।
বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে বসতভিটা। আকস্মিক এই বিপর্যয়ে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন বৃদ্ধ, নারী ও অবুঝ শিশুরা। চারদিকের এই আর্তনাদের মাঝেই ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ভিডিপি সদস্যরা। নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোমর ও বুকসমান পানিতে নেমে তারা একে একে উদ্ধার করছেন আটকে পড়া অসহায় মানুষদের। বিভিন্ন উপায়ে পরম মমতায় তাদের পৌঁছে দিচ্ছেন নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে (ফ্লাড শেল্টার সেন্টার)।
ভিডিপি সদস্যরা কেবল মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিচ্ছেন না, বরং বন্যাকবলিতদের গৃহপালিত পশুপাখিও উদ্ধার করে আনছেন। শুধু উদ্ধার অভিযানই নয়, মানবিক সহায়তায় দিনরাত কাজ করছেন এই বাহিনীর সদস্যরা। সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছেন তারা।
দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সর্বোচ্চ নির্দেশনা রয়েছে বাহিনীর সদর দপ্তর থেকে। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ মহোদয় দেশের সব বন্যা কবলিত এলাকায় আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের সাধ্যমত সর্বাত্মকভাবে মানুষের পাশে থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন। আনসার ও ভিডিপি জেলা কমান্ড্যান্ট ও উপজেলা কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে উপস্থিত থেকে এই উদ্ধার ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন।
যেকোনো জাতীয় দুর্যোগ কিংবা সংকটে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী সবসময়ই সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক। হবিগঞ্জের এই ভয়াবহ বন্যাতেও তারা দেশ ও মানুষের কল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ। নিজেরা না খেয়ে, না ঘুমিয়ে অন্যের জীবন বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়ার এই গল্প আরও একবার মনে করিয়ে দেয়—দুর্যোগে-দুর্বিপাকে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী সত্যিই বাংলার মানুষের পরম বন্ধু।
