বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির মন্তব্য করেছেন তৈরি পোশাক খাতের পাশাপাশি আরও ৫ থেকে ৬টি সম্ভাবনাময় খাতে নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে দেশের রফতানি আয় ১৫০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) খসড়া উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) বিষয়ক এক সভায় তিনি বলেন, রফতানি বহুমুখীকরণের মাধ্যমে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের পরিধি আরও সম্প্রসারণ সম্ভব। এ লক্ষ্যে চামড়া ও পাটখাতের সক্ষমতা বাড়াতে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সভায় গবেষণা প্রতিষ্ঠান র্যাপিড (RAPID) রফতানি বহুমুখীকরণ নিয়ে তাদের গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করে। গবেষণায় সম্ভাবনাময় খাতগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতা দূর করার সুপারিশ করা হয়।
র্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের জন্য জাতিসংঘের কাছে সময় বৃদ্ধির আবেদন করেছে এবং সরকার আশা করছে ২০২৯ সাল পর্যন্ত অতিরিক্ত তিন বছর সময় পাওয়া যেতে পারে। তবে এই সময় কার্যকরভাবে কাজে লাগানো না গেলে কাঙ্ক্ষিত সুফল অর্জন সম্ভব হবে না বলে তিনি সতর্ক করেন।
গবেষণায় বলা হয়, এলডিসি উত্তরণের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের জিএসপি প্লাস সুবিধা পেলেও বাজারে বাংলাদেশের উচ্চ অংশীদারিত্বের কারণে শুল্ক সুবিধা সীমিত হতে পারে। এছাড়া অন্যান্য বাজারে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি চামড়াজাত পণ্যের রফতানিও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
র্যাপিডের তথ্য অনুযায়ী, হোম টেক্সটাইল, কৃষিপণ্য ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের ক্ষেত্রে ভারত, ইউরোপ ও চীনের বাজারে রফতানি শূন্য দশমিক ২ শতাংশ থেকে ১২৭ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। বর্তমানে কৃষি ও উৎপাদন খাত মিলিয়ে ১০ লাখ ডলারের বেশি রফতানি করে এমন পণ্যের সংখ্যা ১ হাজার ৩৯৪টি।
সভায় র্যাপিডের নির্বাহী পরিচালক ড. এম আবু ইউসুফ বলেন, সম্ভাবনাময় খাতগুলোর ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতা দূর করার পাশাপাশি বিদ্যমান রফতানি প্রণোদনার বিকল্প সহায়তা ব্যবস্থার বিষয়েও এখন থেকেই পরিকল্পনা করতে হবে।
প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিগত সরকারের সমালোচনা করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাস্তবভিত্তিক বিনিয়োগ পরিবেশ গড়ে তোলাই এখন সময়ের দাবি। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন চীন সফরে পাটশিল্পের উন্নয়নে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হতে পারে।
মন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের নভেম্বরে না হলেও আগামী তিন বছরের মধ্যে বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ নিশ্চিত। তাই সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার ও বেসরকারি খাতকে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।
গড় রেটিং: ০/৫ (০ ভোট)
ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ জুন ২০২৬
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির মন্তব্য করেছেন তৈরি পোশাক খাতের পাশাপাশি আরও ৫ থেকে ৬টি সম্ভাবনাময় খাতে নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে দেশের রফতানি আয় ১৫০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) খসড়া উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) বিষয়ক এক সভায় তিনি বলেন, রফতানি বহুমুখীকরণের মাধ্যমে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের পরিধি আরও সম্প্রসারণ সম্ভব। এ লক্ষ্যে চামড়া ও পাটখাতের সক্ষমতা বাড়াতে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সভায় গবেষণা প্রতিষ্ঠান র্যাপিড (RAPID) রফতানি বহুমুখীকরণ নিয়ে তাদের গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করে। গবেষণায় সম্ভাবনাময় খাতগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতা দূর করার সুপারিশ করা হয়।
র্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের জন্য জাতিসংঘের কাছে সময় বৃদ্ধির আবেদন করেছে এবং সরকার আশা করছে ২০২৯ সাল পর্যন্ত অতিরিক্ত তিন বছর সময় পাওয়া যেতে পারে। তবে এই সময় কার্যকরভাবে কাজে লাগানো না গেলে কাঙ্ক্ষিত সুফল অর্জন সম্ভব হবে না বলে তিনি সতর্ক করেন।
গবেষণায় বলা হয়, এলডিসি উত্তরণের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের জিএসপি প্লাস সুবিধা পেলেও বাজারে বাংলাদেশের উচ্চ অংশীদারিত্বের কারণে শুল্ক সুবিধা সীমিত হতে পারে। এছাড়া অন্যান্য বাজারে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি চামড়াজাত পণ্যের রফতানিও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
র্যাপিডের তথ্য অনুযায়ী, হোম টেক্সটাইল, কৃষিপণ্য ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের ক্ষেত্রে ভারত, ইউরোপ ও চীনের বাজারে রফতানি শূন্য দশমিক ২ শতাংশ থেকে ১২৭ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। বর্তমানে কৃষি ও উৎপাদন খাত মিলিয়ে ১০ লাখ ডলারের বেশি রফতানি করে এমন পণ্যের সংখ্যা ১ হাজার ৩৯৪টি।
সভায় র্যাপিডের নির্বাহী পরিচালক ড. এম আবু ইউসুফ বলেন, সম্ভাবনাময় খাতগুলোর ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতা দূর করার পাশাপাশি বিদ্যমান রফতানি প্রণোদনার বিকল্প সহায়তা ব্যবস্থার বিষয়েও এখন থেকেই পরিকল্পনা করতে হবে।
প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিগত সরকারের সমালোচনা করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাস্তবভিত্তিক বিনিয়োগ পরিবেশ গড়ে তোলাই এখন সময়ের দাবি। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন চীন সফরে পাটশিল্পের উন্নয়নে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হতে পারে।
মন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের নভেম্বরে না হলেও আগামী তিন বছরের মধ্যে বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ নিশ্চিত। তাই সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার ও বেসরকারি খাতকে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।
