খবর প্রতিদিন ২৪

​মাত্র এক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই ডুবল খুলনা: ২২ খাল দখল ও ড্রেনেজ ত্রুটিতে চরম ভোগান্তিতে নগরবাসী



​মাত্র এক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই ডুবল খুলনা: ২২ খাল দখল ও ড্রেনেজ ত্রুটিতে চরম ভোগান্তিতে নগরবাসী

মাত্র এক ঘণ্টার মুষলধারে বৃষ্টিতেই যেন স্থবির হয়ে পড়েছে খুলনা মহানগরী। বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ৪ ঘণ্টায় মোট ৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে স্থানীয় আবহাওয়া অফিস। তবে এর মধ্যে এক ঘণ্টার তীব্র বৃষ্টিতেই শহরের প্রধান প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে নিচু এলাকাগুলো পরিণত হয় এক একটি ছোটখাটো জলাশয়ে। ফলে অফিসফেরত মানুষ, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ পথচারীদের পড়তে হয়েছে চরম ভোগান্তিতে।

​হাঁটু পানিতে স্থবির নগরী, বিকল যানবাহন

​ভারী বর্ষণের পর নগরীর রয়্যাল মোড়, বাইতিপাড়া, কেডিএ বাণিজ্যিক এলাকা, ময়লাপোতা, রূপসা ফেরিঘাট, বয়রা বাজার, বাগমারা, মিস্ত্রী পাড়া, টুটপাড়া, বসুপাড়া, মুজগুন্নী সড়ক, ইউসুফ আহমেদ রোড, নতুন রাস্তা মোড় এবং বাস্তুহারা কলোনিসহ অধিকাংশ এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে যায়।

​সড়ক পানিতে তলিয়ে থাকায় তৈরি হয় দীর্ঘ যানজট। অনেক মোটরসাইকেল, ইজিবাইক ও ব্যক্তিগত গাড়ি পানির মধ্যে বিকল হয়ে পড়ে থাকে। অফিস শেষে বাড়ি ফেরার পথে এক নগরবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,

​"মাত্র এক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই রাস্তায় হাঁটু পানি। পানির নিচে কোথায় ম্যানহোল বা গর্ত আছে বোঝার উপায় নেই। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হেঁটে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে।"

​ব্যবসায় ধস, ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা

​বিকেলের এই ব্যস্ত সময়ে আকস্মিক জলাবদ্ধতার কারণে বড় ধরণের লোকসানের মুখে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। নিচু এলাকার বেশ কিছু দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়েছে। বয়রা বাজার এলাকার এক ব্যবসায়ী আক্ষেপ করে বলেন, বৃষ্টি শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই দোকানের সামনে পানি জমে ক্রেতা আসা বন্ধ হয়ে গেছে। এভাবে বারবার জলাবদ্ধতা হলে ব্যবসা চালানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।

​কেন এই স্থায়ী দুর্ভোগ? নাগরিক সমাজের অভিযোগ

​সামান্য বৃষ্টিতেই খুলনার এই চেনা রূপের পেছনে ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং খাল দখলকে দায়ী করছেন নগরবাসী ও বিশিষ্টজনেরা।

​খাল ও ড্রেন দখল: বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সমন্বয় সংগ্রাম কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ-উজ-জামান অভিযোগ করেন, ময়ূরনদসহ শহরের ২২টি প্রধান খাল দখল ও দূষণের শিকার। এছাড়া বেশিরভাগ ড্রেনের স্লাব ভাঙা এবং মুখ বন্ধ থাকায় পানি সরতে পারে না।

​জবাবদিহিতার অভাব: খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব এ্যাড. মো. বাবুল হাওলাদার জানান, অতীতে জলাবদ্ধতা নিরসনের নামে বড় বড় প্রকল্প নেওয়া হলেও সেগুলোর কোনো জবাবদিহিতা নেই। প্রকল্প শেষের পর সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হচ্ছে। তিনি একটি দীর্ঘমেয়াদী টেকসই পরিকল্পনার দাবি জানান।

​আরও বৃষ্টির পূর্বাভাস

​খুলনা আবহাওয়া অফিসের সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, মৌসুমী বায়ু সক্রিয় থাকার কারণে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে খুলনা মহানগরীর জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি আগামী দিনগুলোতে আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

​নগরবাসীর মতে, দ্রুত ড্রেন ও খালগুলো উদ্ধার করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করা হলে, আসন্ন দিনগুলোতে খুলনা ধুঁকবে আরও বড় নাগরিক দুর্ভোগে।

এই সংবাদটি আপনার কেমন লেগেছে?


খবরটি রেটিং দিন

গড় রেটিং: /৫ ( ভোট)

ধন্যবাদ! আপনার মতামত নেওয়া হয়েছে।

খবর প্রতিদিন ২৪

শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬


​মাত্র এক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই ডুবল খুলনা: ২২ খাল দখল ও ড্রেনেজ ত্রুটিতে চরম ভোগান্তিতে নগরবাসী

প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬

featured Image

মাত্র এক ঘণ্টার মুষলধারে বৃষ্টিতেই যেন স্থবির হয়ে পড়েছে খুলনা মহানগরী। বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ৪ ঘণ্টায় মোট ৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে স্থানীয় আবহাওয়া অফিস। তবে এর মধ্যে এক ঘণ্টার তীব্র বৃষ্টিতেই শহরের প্রধান প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে নিচু এলাকাগুলো পরিণত হয় এক একটি ছোটখাটো জলাশয়ে। ফলে অফিসফেরত মানুষ, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ পথচারীদের পড়তে হয়েছে চরম ভোগান্তিতে।

​হাঁটু পানিতে স্থবির নগরী, বিকল যানবাহন

​ভারী বর্ষণের পর নগরীর রয়্যাল মোড়, বাইতিপাড়া, কেডিএ বাণিজ্যিক এলাকা, ময়লাপোতা, রূপসা ফেরিঘাট, বয়রা বাজার, বাগমারা, মিস্ত্রী পাড়া, টুটপাড়া, বসুপাড়া, মুজগুন্নী সড়ক, ইউসুফ আহমেদ রোড, নতুন রাস্তা মোড় এবং বাস্তুহারা কলোনিসহ অধিকাংশ এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে যায়।

​সড়ক পানিতে তলিয়ে থাকায় তৈরি হয় দীর্ঘ যানজট। অনেক মোটরসাইকেল, ইজিবাইক ও ব্যক্তিগত গাড়ি পানির মধ্যে বিকল হয়ে পড়ে থাকে। অফিস শেষে বাড়ি ফেরার পথে এক নগরবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,

​"মাত্র এক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই রাস্তায় হাঁটু পানি। পানির নিচে কোথায় ম্যানহোল বা গর্ত আছে বোঝার উপায় নেই। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হেঁটে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে।"

​ব্যবসায় ধস, ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা

​বিকেলের এই ব্যস্ত সময়ে আকস্মিক জলাবদ্ধতার কারণে বড় ধরণের লোকসানের মুখে পড়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। নিচু এলাকার বেশ কিছু দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়েছে। বয়রা বাজার এলাকার এক ব্যবসায়ী আক্ষেপ করে বলেন, বৃষ্টি শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই দোকানের সামনে পানি জমে ক্রেতা আসা বন্ধ হয়ে গেছে। এভাবে বারবার জলাবদ্ধতা হলে ব্যবসা চালানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।

​কেন এই স্থায়ী দুর্ভোগ? নাগরিক সমাজের অভিযোগ

​সামান্য বৃষ্টিতেই খুলনার এই চেনা রূপের পেছনে ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং খাল দখলকে দায়ী করছেন নগরবাসী ও বিশিষ্টজনেরা।

​খাল ও ড্রেন দখল: বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সমন্বয় সংগ্রাম কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ-উজ-জামান অভিযোগ করেন, ময়ূরনদসহ শহরের ২২টি প্রধান খাল দখল ও দূষণের শিকার। এছাড়া বেশিরভাগ ড্রেনের স্লাব ভাঙা এবং মুখ বন্ধ থাকায় পানি সরতে পারে না।

​জবাবদিহিতার অভাব: খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব এ্যাড. মো. বাবুল হাওলাদার জানান, অতীতে জলাবদ্ধতা নিরসনের নামে বড় বড় প্রকল্প নেওয়া হলেও সেগুলোর কোনো জবাবদিহিতা নেই। প্রকল্প শেষের পর সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হচ্ছে। তিনি একটি দীর্ঘমেয়াদী টেকসই পরিকল্পনার দাবি জানান।

​আরও বৃষ্টির পূর্বাভাস

​খুলনা আবহাওয়া অফিসের সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, মৌসুমী বায়ু সক্রিয় থাকার কারণে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে খুলনা মহানগরীর জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি আগামী দিনগুলোতে আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

​নগরবাসীর মতে, দ্রুত ড্রেন ও খালগুলো উদ্ধার করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করা হলে, আসন্ন দিনগুলোতে খুলনা ধুঁকবে আরও বড় নাগরিক দুর্ভোগে।


খবর প্রতিদিন ২৪

প্রকাশক
মোঃ মামুনুর হাসান (টিপু)
সম্পাদক
খন্দকার আমিনুর রহমান
বার্তা সম্পাদক
মোঃ তরিকুল ইসলাম
উপদেষ্টা মন্ডলীর সভাপতি
বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. এস এম জাহাঙ্গীর আলম [পরিচালক] বাংলাদেশ স্যাটেলাইট
আইন উপদেষ্টা
মুহাম্মদ গোলাম হোসেন (এডভোকেট বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট)

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
​মাত্র এক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই ডুবল খুলনা: ২২ খাল দখল ও ড্রেনেজ ত্রুটিতে চরম ভোগান্তিতে নগরবাসী
0:00 / 0:00
1x