বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
logo
Breaking News
যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা দেশে ফিরলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য খুলনায় যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান: প্রথম রাতেই গ্রেপ্তার ৭ আলোচিত ছিনতাইয়ের ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার ও মালামাল উদ্ধার করেছে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ রামিসা হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক আজ, আদালতে আনা হয়েছে আসামিদের নীতিমালা আসছে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোর জন্য: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ যুগ্ম সচিব আনিসুরকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হলো পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির কাজ কী দেশের যেসব অঞ্চলে দুপুর ১টার মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা
রাজধানী ডিলারশিপ ও চাকরির নামে শত মানুষের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ: সিআইডি কর্তৃক মূলহোতা গ্রেফতার
logo

ডিলারশিপ ও চাকরির নামে শত মানুষের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ: সিআইডি কর্তৃক মূলহোতা গ্রেফতার

ডিলারশিপ প্রদান ও চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎকারী চক্রের মূল হোতাকে গ্রেফতার করেছে সিআইডির ঢাকা মেট্রো পূর্ব বিভাগ। গত ২৮/১০/২০২৫ খ্রি. বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম- মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন (৫২), পিতা-মো. রফিকুল ইসলাম, মাতা- জহুরা খাতুন, স্থায়ী ঠিকানাঃ গ্রাম- রামনগর, থানা- করিমগঞ্জ, জেলা-কিশোরগঞ্জ, বর্তমান ঠিকানাঃ এ/পি- ৬ নং রোডের শেষ মাথা, শেখেরটেক, থানা- মোহাম্মদপুর, ডিএমপি, ঢাকা।

প্রতারণার কৌশলঃ

বিভিন্ন ভুক্তভোগী ব্যক্তির অভিযোগ ও সিআইডির প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসে, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি বিভিন্ন ভুয়া কনজুমারস ফুড প্রোডাক্টস কোম্পানির নামে ডিলারশিপ প্রদান ও চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছে। প্রতারণার কৌশল হিসেবে সে প্রথমে বিভিন্ন জায়গায় সুন্দর পরিপাটি অফিস ভাড়া নিতো এবং সেখানে বিভিন্ন কনজুমারস প্রোডাক্টস মজুদ করতো। এ জন্য প্রথমে সে স্থানীয় খোলা বাজার থেকে ভালো গুণসম্পন্ন নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য (যেমন, চিনি,ডাল ইত্যাদি) ক্রয় করতো এবং সেগুলো ভুয়া নামীয় মোড়কে প্যাকেটজাত করে বাজার দর থেকে তুলনামূলক কম দামে পাইকারি ক্রেতাদের কাছে বিক্রয় করার জন্য বিজ্ঞাপন দিতো। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছাড়াও লিফলেট বিতরণ ও অন্যান্য মিডিয়াতে ডিলারশিপ এর বিজ্ঞাপন প্রচার করে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতো। আকৃষ্ট ক্রেতাগণ ডিলারশিপ নেওয়ার আগ্রহ প্রদান করলে প্রথমে সে বাজার দর থেকে কম মূল্যে পণ্য সরবরাহ করতো। এভাবে কিছুদিন মালামাল সরবরাহ করে বিশ্বাস অর্জন করার পরে আরও বড় ও সাশ্রয়ী অফার দিয়ে ডিলারদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা সংগ্রহ করে পণ্য না দিয়েই সে অফিস বন্ধ করে দিতো।

১৫ টিরও বেশি ভুয়া অফিস খুলে অর্ধ যুগ ধরে প্রতারণাঃ 

প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসে, অর্ধ যুগেরও বেশি সময় ধরে পরিচালিত এই প্রতারণার কাজে সে বিভিন্ন স্থানে ১৫ টিরও বেশি ভুয়া অফিস খুলে সময় সময় সাধারণ মানুষকে প্রতারণা করেছে। মূলত কমদামে পণ্য সরবারহ করার অফারই তার প্রতারণার মূল হাতিয়ার। সর্বশেষ ডিএমপি’র মোহাম্মদপুর এলাকার রেসিডেন্সিয়াল কলেজের পাশে অবস্থিত একটি বিল্ডিং এর ৪র্থ তলায় ‘তালুকদার এন্টারপ্রাইজ’ নামের অফিস খুলে প্রতারণাকালীন সে সিআইডির ঢাকা মেট্রো পূর্ব বিভাগ কর্তৃক হাতেনাতে গ্রেফতার হয়।

২৬ মামলার আসামীঃ

তার বিরুদ্ধে সম্প্রতি মতিঝিল থানায় রুজু হওয়া মামলা নং-২২, তারিখ-২৯/১০/২০২৫ খ্রি. ছাড়াও আরও ২৫টি মামলার তথ্য পাওয়া যায়। সবগুলো মামলা প্রায় একই রকম প্রতারণা কেন্দ্রিক। ঢাকা মেট্রোপলিটনের বিভিন্ন এলাকার পাশাপাশি কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ ও নরসিংদী জেলায় রুজু হওয়া এসকল মামলায় অসংখ্য ভুক্তভোগী রয়েছে।
শুধু ডিলারশিপ নয় চাকরির নামেও প্রতারণাঃ

প্রাথমিক তদন্তে আরও জানা যায়, শুধু ডিলারশিপ নয় চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়েও প্রতারণার ঘটনা ঘটিয়েছে চক্রটি। অফিসের বিভিন্ন পদে লোভনীয় বেতনে চাকরি দেওয়ার নাম করে জীবন বৃত্তান্ত ও অন্যান্য তথ্যের পাশাপাশি চাকরি প্রত্যাশীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা নিতো। পরবর্তীতে বেতন প্রদানের পূর্বেই রাতের আঁধারে অফিস বন্ধ করে গা ঢাকা দিতো।

শত শত ভুক্তভোগীর কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎঃ

গ্রেফতারকৃত মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন (৫২) বিগত অর্ধ যুগেরও বেশি সময়ে অন্তত ৩০০ জন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর কাছ থেকে এরকম প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে।

গ্রেফতারকালীন তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত কর্মী ও ডিলারশিপ নিয়োগের জন্য ভিকটিমদের নাম ও ছবি সম্বলিত আবেদনপত্র, কর্মী নিয়োগের ছবিসহ জীবনবৃত্তান্ত, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির বিভিন্ন পরিচয় সম্বলিত ভিজিটিং কার্ড, পণ্যের ভুয়া মূল্য তালিকা, কোম্পানির পণ্যের নমুনা এবং প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও কম্পিউটার জব্দ করা হয়।

বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম ঢাকা মেট্রো পূর্ব ইউনিট পরিচালনা করছে। গ্রেফতারকৃতকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দকরণ ও রিমান্ডের আবেদনসহ পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন, অপরাপর সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করার স্বার্থে সিআইডির তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

-খবরপ্রতিদিন/ সি.ব

খুঁজুন