বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
logo
Breaking News
দেশে ফিরলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য খুলনায় যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান: প্রথম রাতেই গ্রেপ্তার ৭ আলোচিত ছিনতাইয়ের ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার ও মালামাল উদ্ধার করেছে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ রামিসা হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক আজ, আদালতে আনা হয়েছে আসামিদের নীতিমালা আসছে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোর জন্য: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ যুগ্ম সচিব আনিসুরকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হলো পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির কাজ কী দেশের যেসব অঞ্চলে দুপুর ১টার মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা বাংলাদেশ টানা তৃতীয়বারেরমত ফাইনালে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে
সারাবাংলা সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য খুলনায় যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান: প্রথম রাতেই গ্রেপ্তার ৭
logo

সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য খুলনায় যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান: প্রথম রাতেই গ্রেপ্তার ৭

খুলনা মহানগরীতে সাম্প্রতিক সময়ে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়া হত্যাকাণ্ড, মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজি রুখতে অবশেষে 'জিরো টলারেন্স' নীতি গ্রহণ করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)। অন্যান্য বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিটকে সঙ্গে নিয়ে নগরজুড়ে শুরু হয়েছে এক যৌথ বিশেষ অভিযান। অভিযানের প্রথম রাতেই চাঞ্চল্যকর রাশেদ হত্যাকাণ্ডের ৩ মূল আসামিসহ মোট ৭ শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও ডিবি।

পুলিশ কর্মকর্তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নগরীতে শান্তি না ফেরা পর্যন্ত এই সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।

পরিসংখ্যানের ভয়ংকর চিত্র: কেন এই কঠোর সিদ্ধান্ত?
​সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবক্ষয় ঘটে। অভ্যন্তরীণ কোন্দল, কিশোর গ্যাং এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রকাশ্য চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসায় অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে নগরবাসী।

​পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে খুলনায় অপরাধের গ্রাফ ছিল ঊর্ধ্বমুখী:
​২০২৪ (শেষ ৫ মাস): ১১টি হত্যাকাণ্ড।
​২০২৫ সাল: ৩৭টি হত্যাকাণ্ড।
​২০২৬ (৩ জুন পর্যন্ত): ১৭টি হত্যাকাণ্ড।

​আহত: গুলি ও কোপের আঘাতে জখম হয়েছেন শতাধিক মানুষ।
​এই পরিস্থিতির লাগাম টানতে গত মে মাসে কেএমপি একটি হালনাগাদ তালিকা তৈরি করে। যেখানে ১৮১ জন সন্ত্রাসী, ৫৮৪ জন মাদক বিক্রেতা এবং ৬৯ জন চাঁদাবাজকে চিহ্নিত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত বুধবার কেএমপি সদর দপ্তরে এক বিশেষ অপরাধ সভায় যৌথ অভিযানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসে।

​প্রথম রাতের সাফল্য: রাশেদ হত্যার ৩ আসামি খাঁচায়
​গত মঙ্গলবার (২ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে লবণচরা থানা এলাকার স্কুলভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে কাজী রাশিদুল ইসলাম রাশেদ নামের এক যুবককে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। এর আগে গত ১৯ মার্চও রাশেদের বাড়িতে ঢুকে সন্ত্রাসীরা এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়েছিল, যাতে রাশেদের বাবা-মা ও স্ত্রীসহ ৪ জন গুলিবিদ্ধ হন।

হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের বাবা কাজী আনিসুর রহমান ৭ জনের নাম উল্লেখ, করে লবণচরা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর প্রথম রাতেই অভিযান চালিয়ে পুলিশ গ্রেপ্তার করে:
১. মন্টু হাওলাদার
২. মুসা গাজী
৩. মিরাজ

​কেএমপি কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা কুখ্যাত 'বি কোম্পানি' নামক সন্ত্রাসী গ্রুপের সক্রিয় সদস্য। তাদের মোবাইল ফোনে এই ব্যানারটির পক্ষে প্রচারণা ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

​ডিবির জালে ‘গ্রেনেড বাবু’র সহযোগীসহ ৪ জন
​এদিকে পৃথক এক অভিযানে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) বুধবার ভোররাতে গোবরচাকা এলাকা থেকে কুখ্যাত সন্ত্রাসী 'গ্রেনেড বাবু'র অন্যতম সহযোগী রাব্বিসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকালে তাদের কাছ থেকে ইয়াবা, মাদক বিক্রির নগদ টাকা ও একটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

​রাব্বি ছাড়া গ্রেপ্তার হওয়া বাকি ৩ জন হলেন:
​আল আমিন (সোনাডাঙ্গা এলাকা)
​রানা খান (পাওয়ার হাউজ মোড় এলাকা)
​স্বপন (বসুপাড়া এলাকা)
​নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা

​কেএমপি কমিশনার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, অপরাধী যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে নগরীকে নিরাপদ করতে এবং সন্ত্রাসীদের গোপন আস্তানার সন্ধান দিয়ে পুলিশকে তথ্য ও সহযোগিতা করার জন্য খুলনা নগরবাসীকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

খুঁজুন