বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে(বুটেক্স) আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান সামাইরা জবস ব্রিজ লিমিটেডের অধীনে কর্মরত পাঁচজন কর্মচারীর চুক্তির মেয়াদ গত বছরের জুন মাসে শেষ হলেও এখনো তা নবায়ন হয়নি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনো বেতন ভাতা পাচ্ছে না কর্মচারীরা। দীর্ঘদিন ধরে চুক্তি নবায়ন ঝুলে থাকায় একদিকে যেমন অনিশ্চয়তায় পড়েছেন কর্মীরা, একই সাথে নিজস্ব অর্থায়ন থেকে বেতন পরিশোধ করার কারণে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
সরকারি প্রতিষ্ঠান গুলোতে দৈনন্দিন কার্যক্রম সচল রাখতে অনেক ক্ষেত্রে আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়। পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা, অফিস সহায়তা, কারিগরি সহায়তাসহ বিভিন্ন সেবামূলক কাজে এসব কর্মী দায়িত্ব পালন করেন। সরাসরি স্থায়ী নিয়োগের পরিবর্তে, নির্দিষ্ট সময়ের চুক্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে জনবল নেওয়ায় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজ হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত কর্মী নিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়।
সামাইরা জবস ব্রিজ লিমিটেডের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ১৪ জন কর্মী কাজ করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির দুটি পৃথক চুক্তি রয়েছে। এর মধ্যে রেজিস্ট্রার দপ্তরের অধীনে একটি চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের জুন পর্যন্ত কার্যকর রয়েছে। এই চুক্তির অধীনে মোট নয়জন কর্মী কর্মরত রয়েছে। অন্যদিকে প্রশাসনের সঙ্গে হওয়া আরেকটি চুক্তির মেয়াদ গত বছরের জুন মাসে শেষ হয়ে যায়। এই চুক্তির আওতায় কর্মরত পাঁচজন কর্মীর চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কর্মীদের কাজে বহাল রাখার জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে বলা হয় এবং আশ্বাস দেওয়া হয়, শীঘ্রই চুক্তি নবায়ন করা হবে। যার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটি কর্মীদের কাজে বহাল রাখে।
চুক্তির মেয়াদ ২০২৫ সালের জুন মাসে শেষ হওয়ার পর থেকেই সামারাই জবস ব্রিজ লিমিটেড কর্তৃপক্ষ বারবার তা নবায়নের চেষ্টা চালালেও তা আর সম্পন্ন হয়নি। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরু থেকেই আউটসোর্সিং কর্মী দিয়ে আসছে। পাশাপাশি চুক্তি নবায়ন না হওয়া সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব অর্থায়নে কর্মীদের বেতন পরিশোধ অব্যাহত রাখছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রথমে জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা আট মাস নিজস্ব তহবিল থেকে কর্মীদের বেতন প্রদান করে। চুক্তি নবায়ন না হওয়ায় নবম মাস থেকে নিজস্ব খাত থেকে বেতন প্রদান বন্ধ করে দেয় প্রতিষ্ঠানটি। এতে বিপাকে পড়ে কর্মীরা। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বকেয়া বিল পরিশোধ ও চুক্তি নবায়নের আশ্বাস দেওয়া হলে প্রতিষ্ঠানটি কর্মীদের কথা বিবেচনা করে, বিশেষ করে ঈদকে সামনে রেখে কর্মীদের ও তাদের পরিবারের আর্থিক সংকটের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি আরো তিন মাসের বেতনও বহন করে। ফলে, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত মোট ১১ মাসের বেতন প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব অর্থায়নে পরিশোধ করেছে।
চুক্তি নবায়নের জন্য প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের বারবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে যেতে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কক্ষের বাইরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানান তারা। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, প্রথমবার দুই বছরের জন্য চুক্তি নবায়ন হলেও পরবর্তীতে কয়েক মাস পরপর অল্প সময়ের জন্য নবায়ন করা হয়েছে, যা তাদের জন্য বাড়তি ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কয়েক মাস আগ থেকেই প্রতিষ্ঠানটি নবায়নের চেষ্টা শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটি চুক্তি নবায়নের জন্য বারবার আবেদন করায় একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের সম্মতির কথা জানিয়ে নতুন চুক্তিপত্র দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তারা দ্রুত চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করে তা পরিকল্পনা উন্নয়ন বিভাগের সহকারী পরিচালক হোসাইন মোহাম্মদ আকবরের কাছে জমা দেন। সে সময় তাদের জানানো হয়েছিল, পরিচালক অধ্যাপক ড. শেখ মো. মামুন কবির এবং অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালকের প্রয়োজনীয় অনুমোদন সম্পন্ন হলেই পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে। তবে চুক্তিপত্র জমা দেওয়ার প্রায় তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন সম্পন্ন হয়নি। ফলে চুক্তি নবায়ন ও বকেয়া বিল পরিশোধ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও দীর্ঘায়িত হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে চুক্তি নবায়ন হবে এবং বকেয়া বিলও পরিশোধ করা হবে। সেই বিশ্বাসে আমরা কর্মীদের কাজ চালিয়ে যেতে বলেছি। তবে দুঃখের বিষয় প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলও এখনো চুক্তি না বয়ান কিংবা বকেয়া পরিশোধের কোনটিই বাস্তবায়ন হয়নি।”
২০২৫ সালের জুন থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার কথা, যেখানে আউটসোর্সিং কর্মীদের দৈনিক বেতনের সাথে উৎসব ভাতা যুক্ত হওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে কর্মীদের চুক্তি নবায়ন না হওয়ার কারণে তারা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এদিকে বেতন বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন কর্মচারীরা। পরিবার নিয়ে সংশয়ের মধ্যে জীবনযাপন করছে তারা। চুক্তি শেষ হওয়া কর্মীদের মধ্যে একজন নাজমুল বেপারী বলেন, “আমরা আমাদের বেতন, বৈশাখি ভাতা ও বোনাস পাওয়ার কথা থাকলেও আমরা তা পাচ্ছি না। কোম্পানি নিজেদের তহবিল থেকে কোনোভাবে বেতন পরিশোধ করছে। আমাদের কাজ নিয়ে যদি কোনো অভিযোগ থাকে, তাহলে তা আমাদের জানানো হোক। আর যদি এমন কোনো সমস্যা না থাকে, তাহলে আমরা আশা করি দ্রুত আমাদের চুক্তি নবায়ন করা হবে এবং প্রাপ্য সুবিধাগুলো নিশ্চিত করা হবে।”
অন্য একজন কর্মী শিল্পী বেগম বলেন, “অন্য জায়গায় সবাই বোনাস পাচ্ছে, কিন্তু আমরা কেন বঞ্চিত হচ্ছি তা বুঝতে পারছি না। আমার স্বামী, মা, সন্তান— সবকিছু নিয়েই আমি খুব কষ্টে আছি। পাঁচ বছর ধরে কাজ করলেও আমরা এখনো ন্যায্য সুবিধা পাচ্ছি না। সবাই পেলে আমরা কেন পাব না। আমরা গরিব মানুষ, আমাদের কথা শোনার মতো কেউ নেই।”
বিষয়টি নিয়ে বুটেক্সের পরিকল্পনা উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক ড. শেখ মো. মামুন কবির বলেন, “আমরা চুক্তি নবায়ন করতে চাই। ইউজিসির সঙ্গে কথা হয়েছে, বাজেট টিমকেও জানানো হয়েছে। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন। রেজিস্ট্রার অফিসের মাধ্যমে সেই অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। গত বছরের জুন বা জুলাইয়ে এ সংক্রান্ত চিঠি ইস্যু করা হয়েছে। বর্তমানে আমাদের রেজিস্ট্রার সেকশন ইউজিসি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বিষয়টি অনুসরণ করছে।”
তবে পুরো বিষয়টি এখন সরকারের বাজেট অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ না এলে বকেয়া পরিশোধ সম্ভব হবে না। এমনকি আগামী অর্থবছর থেকে ঠিকাদারি খাতে সরকারি বরাদ্দ বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনেরও কিছু করার থাকবে না।
চুক্তি নাবায়ন না হওয়ায় অনিশ্চয়তায় বুটেক্সের পাঁচ আউটসোর্সিং কর্মী
চুক্তি নাবায়ন না হওয়ায় অনিশ্চয়তায় বুটেক্সের পাঁচ আউটসোর্সিং কর্মী
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে(বুটেক্স) আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান সামাইরা জবস ব্রিজ লিমিটেডের অধীনে কর্মরত পাঁচজন কর্মচারীর চুক্তির মেয়াদ গত বছরের জুন মাসে শেষ হলেও এখনো তা নবায়ন হয়নি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনো বেতন ভাতা পাচ্ছে না কর্মচারীরা। দীর্ঘদিন ধরে চুক্তি নবায়ন ঝুলে থাকায় একদিকে যেমন অনিশ্চয়তায় পড়েছেন কর্মীরা, একই সাথে নিজস্ব অর্থায়ন থেকে বেতন পরিশোধ করার কারণে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। সরকারি প্রতিষ্ঠান গুলোতে দৈনন্দিন কার্যক্রম সচল রাখতে অনেক ক্ষেত্রে আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়। পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা, অফিস সহায়তা, কারিগরি সহায়তাসহ বিভিন্ন সেবামূলক কাজে এসব কর্মী দায়িত্ব পালন করেন। সরাসরি স্থায়ী নিয়োগের পরিবর্তে, নির্দিষ্ট সময়ের চুক্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে জনবল নেওয়ায় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজ হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত কর্মী নিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়। সামাইরা জবস ব্রিজ লিমিটেডের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ১৪ জন কর্মী কাজ করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির দুটি পৃথক চুক্তি রয়েছে। এর মধ্যে রেজিস্ট্রার দপ্তরের অধীনে একটি চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের জুন পর্যন্ত কার্যকর রয়েছে। এই চুক্তির অধীনে মোট নয়জন কর্মী কর্মরত রয়েছে। অন্যদিকে প্রশাসনের সঙ্গে হওয়া আরেকটি চুক্তির মেয়াদ গত বছরের জুন মাসে শেষ হয়ে যায়। এই চুক্তির আওতায় কর্মরত পাঁচজন কর্মীর চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কর্মীদের কাজে বহাল রাখার জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে বলা হয় এবং আশ্বাস দেওয়া হয়, শীঘ্রই চুক্তি নবায়ন করা হবে। যার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটি কর্মীদের কাজে বহাল রাখে। চুক্তির মেয়াদ ২০২৫ সালের জুন মাসে শেষ হওয়ার পর থেকেই সামারাই জবস ব্রিজ লিমিটেড কর্তৃপক্ষ বারবার তা নবায়নের চেষ্টা চালালেও তা আর সম্পন্ন হয়নি। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরু থেকেই আউটসোর্সিং কর্মী দিয়ে আসছে। পাশাপাশি চুক্তি নবায়ন না হওয়া সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব অর্থায়নে কর্মীদের বেতন পরিশোধ অব্যাহত রাখছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রথমে জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা আট মাস নিজস্ব তহবিল থেকে কর্মীদের বেতন প্রদান করে। চুক্তি নবায়ন না হওয়ায় নবম মাস থেকে নিজস্ব খাত থেকে বেতন প্রদান বন্ধ
করে দেয় প্রতিষ্ঠানটি। এতে বিপাকে পড়ে কর্মীরা। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বকেয়া বিল পরিশোধ ও চুক্তি নবায়নের আশ্বাস দেওয়া হলে প্রতিষ্ঠানটি কর্মীদের কথা বিবেচনা করে, বিশেষ করে ঈদকে সামনে রেখে কর্মীদের ও তাদের পরিবারের আর্থিক সংকটের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি আরো তিন মাসের বেতনও বহন করে। ফলে, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত মোট ১১ মাসের বেতন প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব অর্থায়নে পরিশোধ করেছে। চুক্তি নবায়নের জন্য প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের বারবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে যেতে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কক্ষের বাইরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানান তারা। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, প্রথমবার দুই বছরের জন্য চুক্তি নবায়ন হলেও পরবর্তীতে কয়েক মাস পরপর অল্প সময়ের জন্য নবায়ন করা হয়েছে, যা তাদের জন্য বাড়তি ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কয়েক মাস আগ থেকেই প্রতিষ্ঠানটি নবায়নের চেষ্টা শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটি চুক্তি নবায়নের জন্য বারবার আবেদন করায় একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের সম্মতির কথা জানিয়ে নতুন চুক্তিপত্র দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তারা দ্রুত চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করে তা পরিকল্পনা উন্নয়ন বিভাগের সহকারী পরিচালক হোসাইন মোহাম্মদ আকবরের কাছে জমা দেন। সে সময় তাদের জানানো হয়েছিল, পরিচালক অধ্যাপক ড. শেখ মো. মামুন কবির এবং অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালকের প্রয়োজনীয় অনুমোদন সম্পন্ন হলেই পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে। তবে চুক্তিপত্র জমা দেওয়ার প্রায় তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন সম্পন্ন হয়নি। ফলে চুক্তি নবায়ন ও বকেয়া বিল পরিশোধ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও দীর্ঘায়িত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে চুক্তি নবায়ন হবে এবং বকেয়া বিলও পরিশোধ করা হবে। সেই বিশ্বাসে আমরা কর্মীদের কাজ চালিয়ে যেতে বলেছি। তবে দুঃখের বিষয় প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলও এখনো চুক্তি না বয়ান কিংবা বকেয়া পরিশোধের কোনটিই বাস্তবায়ন হয়নি।” ২০২৫ সালের জুন থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর
হওয়ার কথা, যেখানে আউটসোর্সিং কর্মীদের দৈনিক বেতনের সাথে উৎসব ভাতা যুক্ত হওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে কর্মীদের চুক্তি নবায়ন না হওয়ার কারণে তারা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এদিকে বেতন বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন কর্মচারীরা। পরিবার নিয়ে সংশয়ের মধ্যে জীবনযাপন করছে তারা। চুক্তি শেষ হওয়া কর্মীদের মধ্যে একজন নাজমুল বেপারী বলেন, “আমরা আমাদের বেতন, বৈশাখি ভাতা ও বোনাস পাওয়ার কথা থাকলেও আমরা তা পাচ্ছি না। কোম্পানি নিজেদের তহবিল থেকে কোনোভাবে বেতন পরিশোধ করছে। আমাদের কাজ নিয়ে যদি কোনো অভিযোগ থাকে, তাহলে তা আমাদের জানানো হোক। আর যদি এমন কোনো সমস্যা না থাকে, তাহলে আমরা আশা করি দ্রুত আমাদের চুক্তি নবায়ন করা হবে এবং প্রাপ্য সুবিধাগুলো নিশ্চিত করা হবে।” অন্য একজন কর্মী শিল্পী বেগম বলেন, “অন্য জায়গায় সবাই বোনাস পাচ্ছে, কিন্তু আমরা কেন বঞ্চিত হচ্ছি তা বুঝতে পারছি না। আমার স্বামী, মা, সন্তান— সবকিছু নিয়েই আমি খুব কষ্টে আছি। পাঁচ বছর ধরে কাজ করলেও আমরা এখনো ন্যায্য সুবিধা পাচ্ছি না। সবাই পেলে আমরা কেন পাব না। আমরা গরিব মানুষ, আমাদের কথা শোনার মতো কেউ নেই।” বিষয়টি নিয়ে বুটেক্সের পরিকল্পনা উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক ড. শেখ মো. মামুন কবির বলেন, “আমরা চুক্তি নবায়ন করতে চাই। ইউজিসির সঙ্গে কথা হয়েছে, বাজেট টিমকেও জানানো হয়েছে। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন। রেজিস্ট্রার অফিসের মাধ্যমে সেই অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। গত বছরের জুন বা জুলাইয়ে এ সংক্রান্ত চিঠি ইস্যু করা হয়েছে। বর্তমানে আমাদের রেজিস্ট্রার সেকশন ইউজিসি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বিষয়টি অনুসরণ করছে।” তবে পুরো বিষয়টি এখন সরকারের বাজেট অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ না এলে বকেয়া পরিশোধ সম্ভব হবে না। এমনকি আগামী অর্থবছর থেকে ঠিকাদারি খাতে সরকারি বরাদ্দ বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনেরও কিছু করার থাকবে না।
সম্পাদক: খন্দকার আমিনুর রহমান
[email protected] | ০১৫৩৫৭৭৩৩১৪
গভ: জি: নং-সি-১৩১৫৯৬
প্রধান কার্যালয়: ৩০৬/এ, দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী ঢাকা ১২০৪/
50/F,Inner Circular Road,Naya Paltan, Dhaka, 1000
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত