বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
logo
Breaking News
সারাবাংলা রূপসা ঘাটে বাড়তি টোল ও আদায়কারীদের দুর্ব্যবহারে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ, নেই সংস্কারের উদ্যোগ
logo

রূপসা ঘাটে বাড়তি টোল ও আদায়কারীদের দুর্ব্যবহারে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ, নেই সংস্কারের উদ্যোগ

দক্ষিণাঞ্চলের জেলার মানুষ খুলনা খানজাহান আলী রূপসা সেতু ছাড়াও বিভিন্ন ঘাট ব্যবহার করে নদী পার হয়ে প্রবেশ করে শহরে। এর মধ্যে সব থেকে বেশি মানুষ পারাপার হয় রূপসা ঘাট দিয়ে। আনুমান করা হয়, প্রতিদিন এই ঘাট ব্যবহার করেন প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার মানুষ। তবে এ ঘাটের অব্যবস্থাপনা হতাশ করছে বিভিন্ন এলাকার সাধারন মানুষকে। 

খুলনার জনসাধারণের পারাপারের জন্য সব থেকে বড় ঘাট হিসাবে পরিচিত রূপসা ঘাটেই এখন বড় অব্যবস্থাপনা দেখা দিয়েছে। মালিকানা নিয়ে দ্ব›দ্ব, সরকারি কোষাগারে কম রাজস্ব জমাসহ সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেই বৃহৎ এ ঘাটের। এদিকে দিনের পর দিন ভোগান্তি বেড়েই চলেছে হাজার হাজার সাধারণ মানুষের। বাড়তি টোলের চাপ ও টোল আদায়কারীদের দুর্ব্যবহারের শিকার হতে হচ্ছে পারাপারকারীদের। 

রয়েছে ঘাটের দখল নিয়ে টানাটানির চিত্র। প্রথমে জানা যাক এখানকার অবকাঠামোগত সমস্যার বিষয়ে। এই ঘটের দু’পাশে রয়েছে দু’টি পল্টুন। পল্টুন দু’টি কিছুদিন আগে পরিবর্তন করে দেওয়া হলেও তা উঁচু হওয়ায় পারাপারে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। সাথে দড়ি দিয়ে পুরোনো ভাঙ্গাচোরা পল্টুনও বেধে রাখা হয়েছে। দু’টি পল্টুনের ফাঁকে পড়ে কিছুদিন আগে ৪ বছর বয়সী এক শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। 

এ রকম দুর্ঘটনা এখানে নিত্যদিনই ঘটে। পল্টুনে ওঠার আগে যে গ্যাংওয়ে মানুষ ব্যবহার করছে তা অবস্থা বেশ খারাপ। উঠতে নামতে ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় থাকে সাধারন মানুষ। ইজারাদারদের দৌরাত্ব থেকে রেহাই পেতে টোল মুক্ত একটি ঘাট চান সাধারণ মানুষ। পাশাপাশি আবারো যদি ফেরি চলাচল শুরু হয় তাহলে রূপসা ঘাট পারাপারে অনেক ভোগান্তি কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন অনেকেই। 

গণঅভ্যুত্থানের আগে রূপসা ঘাটে টোল আদায় করা হতো জনপ্রতি ১ টাকা করে। তবে সরকার পতনের পর নতুন দায়িত্বরতরা তা বাড়িয়ে করেছে জনপ্রতি ২ টাকা। রূপসা ঘাট থেকে একটি বাইক পার করতে আগে ৫ টাকা দেওয়া লাগলেও এখন তা বাড়িয়ে ১০ টাকা করা হয়েছে। শহর থেকে নতুন কোনো পন্য কিনে এ ঘাট পার হওয়ার সময় দেওয়া লাগে বাড়তি টাকা। 

একটি কম্পিউটার বা কোনো ইলেকট্রনিক্স পণ্যের জন্য পারাপারকারীকে গুণতে হয় ২০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত। টাকা না দিলে হেনস্তার শিকার হতে হয় সবাইকেই। এর সাথে আবার একবার পার হতেই নৌকা ভাড়া রয়েছে জন প্রতি ৪ টাকা করে। রূপসা ঘাটের ঠিক পাশেই রয়েছে জলখানা ঘাট। 

সেখান থেকে প্রতিদিন হাজারো মানুষ পার হলেও নেওয়া হয়না কেনো টোল। তাই কোনো প্রকার সংস্কার ছাড়াই খুলনার সবথেকে বড় ঘাটে বেশি হারে টোল আদায় অনুচিত বলে মনে করছেন অনেকেই। তবে এসব অনিয়মের কথা অস্বীকার করছে টোল আদায়কারীরা। 

নব্বই দশকের আগে ঘাটটি অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ বিআইডব্লিউটিএ’র নিয়ন্ত্রণে ছিল। ১৯৯১ সালের পর ঘাট জেলা পরিষদ পরিচালনা করত। ২০০৫ সালে রূপসা সেতু চালু হওয়ার পর ঘাটের নিয়ন্ত্রণ কেসিসির কাছে চলে যায়। 

আদালতে মামলা করে ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ঘাটের দখল নেয় বিআইডব্লিউটিএ। ৯ মাস পরিচালনার পর ৩ জুন নতুন করে ঘাটের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে খুলনা জেলা পরিষদ। বর্তমানে আবারো আদালতের নির্দেশে এই ঘাট পরিচালনা করছে বিআইডব্লিউটিএ। 

আগে রূপসা ঘাট থেকে টোল আদায় করত খুলনা সিটি কর্পোরেশন। পারাপারে জনপ্রতি এক টাকা হিসাবে কেসিসির কোষাগারে জমা হতো বছরে প্রায় ৬৮ লাখ টাকা। গত বছর অভ্যুত্থানের পর ঘাটের নিয়ন্ত্রণ নেয় অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ। সেপ্টেম্বর মাস থেকে তারা খাস ডাকের মাধ্যমে জনপ্রতি দুই টাকা করে টোল আদায় শুরু করে। এতে রাজস্ব আদায় দ্বিগুণ হওয়ার কথা থাকলেও ঘটেছে উল্টো। 

গত ১ বছরে সংস্থার কোষাগারে জমা হয়েছে মাত্র ২৫ লাখ ৮ হাজার টাকা। এছাড়াও গত এক বছর ধরে আলী আকবর নামে এক ইজারাদার প্রতি মাসেই বাড়িয়ে যাচ্ছে ইজারার মেয়াদ। বিআইডব্লিউটিএ খুলনার উপ-পরিচালক মাসুদ পারভেজ জানান, এবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ওপেন টেন্ডারের ডাক দেওয়া হবে। এতে বাড়বে রাজস্বের পরিমান।

রূপসার এই ঘাটে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারী প্রয়োজন বলে মনে করছেন খুলনা নাগরিক সমাজের  সদস্য সচিব অ্যাড. বাবুল হাওলাদার। তিনি বলেন, আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি ঘাটটি ইজারার ক্ষেত্রে নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ইজারা দেওয়া জরুরি।

-খবরপ্রতিদিন/ সি.ব

খুঁজুন