ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠি শহরের ঐতিহ্যবাহী বারোচালা ভেঙে বহুতল ভবন নির্মাণের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে প্রশাসনের নির্দেশে ভাঙার কাজ স্থগিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল থেকে শ্রমিকরা স্থাপনাটির বিভিন্ন অংশ ভাঙার কাজ শুরু করলে স্থানীয় সচেতন মহল, সংস্কৃতিপ্রেমী ব্যক্তি ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়।
জানা গেছে, ঝালকাঠি শহরের প্রতিষ্ঠাতা মহারাজ জয় নারায়ণ ঘোষালের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক বারোচালাটি দীর্ঘদিন ধরে শহরের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি পুরোনো স্থাপনাটি অপসারণ করে সেখানে বহুতল মার্কেট নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার সকালে ভাঙার কাজ শুরু করা হয়। খবর ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটি সংরক্ষণের দাবি জানান।
পরিস্থিতি বিবেচনায় ওইদিন দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. কাওছার হোসেন, সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসান, ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. আককাস সিকদার, শাহ আলম খলিফা, অলোক সাহা, কালীবাড়ি মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
আলোচনার পর সভায় সর্বসম্মতিক্রমে আপাতত বারোচালার সব ধরনের ভাঙার কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের লক্ষ্যে শিগগিরই ২৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। ওই কমিটিতে প্রশাসনের প্রতিনিধি, মন্দির কর্তৃপক্ষ, সুধীজন, ইতিহাস-ঐতিহ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং স্থানীয় গণ্যমান্যদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
কালীবাড়ি মন্দির পরিচালনা কমিটির উপদেষ্টা শুভ্রত দেবনাথ বলেন, “বর্তমান স্থাপনাটি অনেক পুরোনো হয়ে গেছে। মন্দির ও এর সম্পত্তির উন্নয়নের জন্য মার্কেট নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া পুজার সময় জায়গা সংকুলান হয় না। জায়গা বড় করার জন্য এই প্রচেস্টা।
ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. আককাস সিকদার বলেন, এটি শুধু একটি স্থাপনা নয়, ঝালকাঠির ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শত শত বছরের স্মৃতি বহনকারী এ ধরনের স্থাপনা একবার ধ্বংস হয়ে গেলে তা আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। উন্নয়ন প্রয়োজন, তবে তা অবশ্যই ঐতিহ্য সংরক্ষণ করে করতে হবে। আমরা চাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে বারোচালাটিকে হেরিটেজ হিসেবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নিবে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ঝালকাঠি সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসান জানান, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত বারোচালা ভাঙার কাজ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ঝালকাঠির ঐতিহ্যবাহী বারোচালা একসময় সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো। ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে এখানে নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু, শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং আব্দুর রহমান বিশ্বাস-সহ বহু রাজনৈতিক নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তি সভা-সমাবেশে অংশ নিয়েছেন।
স্থানীয়দের মতে, শতবর্ষী এই স্থাপনাটি ঝালকাঠির ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ স্মারক হওয়ায় এটি সংরক্ষণ ও সংস্কার করা প্রয়োজন।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ঝালকাঠির ঐতিহ্যবাহী বারোচালা ভাঙার কাজ স্থগিত
প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ঝালকাঠির ঐতিহ্যবাহী বারোচালা ভাঙার কাজ স্থগিত
ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠি শহরের ঐতিহ্যবাহী বারোচালা ভেঙে বহুতল ভবন নির্মাণের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে প্রশাসনের নির্দেশে ভাঙার কাজ স্থগিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল থেকে শ্রমিকরা স্থাপনাটির বিভিন্ন অংশ ভাঙার কাজ শুরু করলে স্থানীয় সচেতন মহল, সংস্কৃতিপ্রেমী ব্যক্তি ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। জানা গেছে, ঝালকাঠি শহরের প্রতিষ্ঠাতা মহারাজ জয় নারায়ণ ঘোষালের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক বারোচালাটি দীর্ঘদিন ধরে শহরের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি পুরোনো স্থাপনাটি অপসারণ করে সেখানে বহুতল মার্কেট নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার সকালে ভাঙার কাজ শুরু করা হয়। খবর ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটি সংরক্ষণের দাবি জানান। পরিস্থিতি বিবেচনায় ওইদিন দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. কাওছার হোসেন,
সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসান, ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. আককাস সিকদার, শাহ আলম খলিফা, অলোক সাহা, কালীবাড়ি মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। আলোচনার পর সভায় সর্বসম্মতিক্রমে আপাতত বারোচালার সব ধরনের ভাঙার কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের লক্ষ্যে শিগগিরই ২৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। ওই কমিটিতে প্রশাসনের প্রতিনিধি, মন্দির কর্তৃপক্ষ, সুধীজন, ইতিহাস-ঐতিহ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং স্থানীয় গণ্যমান্যদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। কালীবাড়ি মন্দির পরিচালনা কমিটির উপদেষ্টা শুভ্রত দেবনাথ বলেন, “বর্তমান স্থাপনাটি অনেক পুরোনো হয়ে গেছে। মন্দির ও এর সম্পত্তির উন্নয়নের জন্য মার্কেট নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া পুজার সময় জায়গা সংকুলান হয় না। জায়গা বড় করার জন্য এই প্রচেস্টা। ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. আককাস সিকদার বলেন, এটি শুধু একটি স্থাপনা নয়, ঝালকাঠির ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শত শত বছরের স্মৃতি বহনকারী এ ধরনের
স্থাপনা একবার ধ্বংস হয়ে গেলে তা আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। উন্নয়ন প্রয়োজন, তবে তা অবশ্যই ঐতিহ্য সংরক্ষণ করে করতে হবে। আমরা চাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে বারোচালাটিকে হেরিটেজ হিসেবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নিবে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ঝালকাঠি সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসান জানান, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত বারোচালা ভাঙার কাজ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ঝালকাঠির ঐতিহ্যবাহী বারোচালা একসময় সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো। ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে এখানে নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু, শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং আব্দুর রহমান বিশ্বাস-সহ বহু রাজনৈতিক নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তি সভা-সমাবেশে অংশ নিয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, শতবর্ষী এই স্থাপনাটি ঝালকাঠির ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ স্মারক হওয়ায় এটি সংরক্ষণ ও সংস্কার করা প্রয়োজন।
সম্পাদক: খন্দকার আমিনুর রহমান
[email protected] | ০১৫৩৫৭৭৩৩১৪
গভ: জি: নং-সি-১৩১৫৯৬
প্রধান কার্যালয়: ৩০৬/এ, দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী ঢাকা ১২০৪/
50/F,Inner Circular Road,Naya Paltan, Dhaka, 1000
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত