বাংলাদেশে অদ্যবধি নিরাপদ ও জনবান্ধব সড়ক, রেল ও নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। রাজনৈতিক দলের পৃষ্ঠপোষকতায় চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির কারণে টেকসই পরিবহন কৌশল প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ফলে যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে। এতে বহু মানুষ নিহত ও পঙ্গু হচ্ছেন এবং দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অসহনীয় যানজট বিনিয়োগ ও অর্থনীতির গতিকে বাধাগ্রস্ত করছে। রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব এই সমস্যার মূল কারণ। তাই রোড সেফটি ফাউন্ডেশন নিরাপদ ও জনবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নিম্নলিখিত দাবিসমূহ বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী অঙ্গীকার প্রত্যাশা করছে ।
১. জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল (NRSC) পুনর্গঠন করে এই কাউন্সিলের অধীনে BRTA, BRTC এবং DTCA পরিচালনা করতে হবে। কাউন্সিলের হাতে আইন, বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা থাকতে হবে।
২. BRTA, BRTC এবং DTCA এর ব্যবস্থাপনাগত সংস্কার করে প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে প্রশাসন ক্যাডারের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে হবে।
৩. রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় রুট রেশনালাইজেশনের মাধ্যমে কোম্পানীভিত্তিক আধুনিক বাস সার্ভিস চালু করতে হবে।
৪. যানজট কমাতে রাজধানীর স্কুল-কলেজের নিজস্ব বাস সার্ভিস বাধ্যতামূলক করতে হবে। প্রয়োজনে শুল্ক কমিয়ে বাস ক্রয়ের জন্য ঋণ প্রদান করা যেতে পারে।
৫. সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন-সহ মোটরযানে ITS, GPS এবং RTSMS ইত্যাদি আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে।
৬. সড়ক থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ সকল প্রকার যানবাহন প্রত্যাহার করতে হবে।
৭. দক্ষ চালক তৈরির প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ গ্রহণ এবং তাদের পেশাগত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
৮. মহাসড়কের পাশে দুর্ঘটনা প্রবণ এলাকায় ট্রমা-কেয়ার সেন্টার স্থাপন করতে হবে।
৯. থ্রি-হুইলার ও ছোট যানবাহনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করে এসব যানবাহনের জন্য নিরাপদ রোড ডিজাইন করতে হবে এবং নিয়মিত রোড সেফটি অডিট করতে হবে।
১০. সড়ক, রেল ও নৌ-পরিবহন একত্রিত করে একটি অভিন্ন যোগাযোগ মন্ত্রণালয় গঠন করে দেশে একটি পরিকল্পিত ও নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
১১. প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি করতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ, তাঁরা জনপ্রশাসন পরিচালনা ও নীতিমালা বাস্তবায়ন করেন।
১২. সড়ক ব্যবহারকারীদের সচেতনতা ও দক্ষতা বাড়াতে জাতীয় বাজেটে অর্থ বরাদ্দ করতে হবে।
১৩. সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সবাইকে আর্থিক সহযোগিতা নিশ্চিত করার জন্য ট্রাস্ট ফান্ডে বছরে ৭ শত কোটি টাকা বরাদ্দ দিতে হবে।
উল্লেখ্য,সময়োপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন, প্রযুক্তি ও অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের জন্য শিক্ষা সচেতনতা কার্যক্রমের মাধ্যমে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা সম্ভব। তবে এক্ষেত্রে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা অতীব জরুরি।
নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা বিষয়ে রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী অঙ্গীকার চায় রোড সেফটি ফাউন্ডেশন
নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা বিষয়ে রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী অঙ্গীকার চায় রোড সেফটি ফাউন্ডেশন
বাংলাদেশে অদ্যবধি নিরাপদ ও জনবান্ধব সড়ক, রেল ও নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। রাজনৈতিক দলের পৃষ্ঠপোষকতায় চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির কারণে টেকসই পরিবহন কৌশল প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ফলে যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে। এতে বহু মানুষ নিহত ও পঙ্গু হচ্ছেন এবং দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অসহনীয় যানজট বিনিয়োগ ও অর্থনীতির গতিকে
বাধাগ্রস্ত করছে। রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব এই সমস্যার মূল কারণ। তাই রোড সেফটি ফাউন্ডেশন নিরাপদ ও জনবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নিম্নলিখিত দাবিসমূহ বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী অঙ্গীকার প্রত্যাশা করছে । ১. জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল (NRSC) পুনর্গঠন করে এই কাউন্সিলের অধীনে BRTA, BRTC এবং DTCA পরিচালনা করতে হবে। কাউন্সিলের হাতে আইন, বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা থাকতে হবে। ২. BRTA, BRTC এবং DTCA এর ব্যবস্থাপনাগত সংস্কার করে প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে প্রশাসন ক্যাডারের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে হবে। ৩. রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় রুট রেশনালাইজেশনের মাধ্যমে কোম্পানীভিত্তিক আধুনিক বাস সার্ভিস চালু করতে হবে। ৪. যানজট কমাতে রাজধানীর স্কুল-কলেজের নিজস্ব বাস সার্ভিস বাধ্যতামূলক
করতে হবে। প্রয়োজনে শুল্ক কমিয়ে বাস ক্রয়ের জন্য ঋণ প্রদান করা যেতে পারে। ৫. সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন-সহ মোটরযানে ITS, GPS এবং RTSMS ইত্যাদি আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে। ৬. সড়ক থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ সকল প্রকার যানবাহন প্রত্যাহার করতে হবে। ৭. দক্ষ চালক তৈরির প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ গ্রহণ এবং তাদের পেশাগত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। ৮. মহাসড়কের পাশে দুর্ঘটনা প্রবণ এলাকায় ট্রমা-কেয়ার সেন্টার স্থাপন করতে হবে। ৯. থ্রি-হুইলার ও ছোট যানবাহনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করে এসব যানবাহনের জন্য নিরাপদ রোড ডিজাইন করতে হবে এবং নিয়মিত রোড সেফটি অডিট করতে হবে। ১০. সড়ক, রেল ও নৌ-পরিবহন একত্রিত করে একটি অভিন্ন যোগাযোগ মন্ত্রণালয় গঠন করে দেশে একটি পরিকল্পিত ও নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। ১১. প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি করতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ, তাঁরা জনপ্রশাসন পরিচালনা ও নীতিমালা বাস্তবায়ন করেন। ১২. সড়ক ব্যবহারকারীদের সচেতনতা ও দক্ষতা বাড়াতে জাতীয় বাজেটে অর্থ বরাদ্দ করতে হবে। ১৩. সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সবাইকে আর্থিক সহযোগিতা নিশ্চিত করার জন্য ট্রাস্ট ফান্ডে বছরে ৭ শত কোটি টাকা বরাদ্দ দিতে হবে। উল্লেখ্য,সময়োপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন, প্রযুক্তি ও অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের জন্য শিক্ষা সচেতনতা কার্যক্রমের মাধ্যমে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা সম্ভব। তবে এক্ষেত্রে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা অতীব জরুরি।
সম্পাদক: খন্দকার আমিনুর রহমান
[email protected] | ০১৫৩৫৭৭৩৩১৪
গভ: জি: নং-সি-১৩১৫৯৬
প্রধান কার্যালয়: ৩০৬/এ, দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী ঢাকা ১২০৪/
50/F,Inner Circular Road,Naya Paltan, Dhaka, 1000
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত