খুলনার শিপইয়ার্ড সড়কের নির্মাণ কাজ মাঝপথে বন্ধ হওয়ার প্রতিবাদে, নির্মাণকাজ দ্রæত সম্পন্ন এবং নির্মাণ কাজে সীমাহীন ধীরগতি, জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী ও অর্থ অপচয়কারীদের শাস্তির দাবিতে খুলনা নাগরিক সমাজের উদ্যোগে এক সংবাদ সম্মেলন গতকাল বুধবার ২৭ আগস্ট বেলা ১১টায় খুলনা শিপইয়ার্ড সড়কস্থ দাদা ম্যাচ কোম্পানীর সামনে রাজপথে অনুষ্ঠিত হয়।
খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব এড. মোঃ বাবুল হাওলাদার এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রায় ৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে শিপইয়ার্ড সড়কটি খুলনা সিটি কর্পোরেশনের অধীন থাকা অবস্থায়ও মারাত্মক নাজুক ছিল। মাঝে মধ্যে মেরামত বা সংস্কারের কাজ হলেও দীর্ঘ সময় ধরে স্থায়ীভাবে সমাধানের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।
খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ)’র প্রকল্প প্রস্তাবের ভিত্তিতে সড়কটি ৪ লেনে উন্নীত করার লক্ষ্যে ২০১৩ সালে ৯৮ কোটি ৯০ লক্ষ টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেয় একনেক। সড়কটি খুলনা মহানগরীর অন্যতম প্রধান প্রবেশ্লার হওয়ায় এবং বিভিন্ন কারণে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় শুধুমাত্র এ এলাকার মানুষের নয়, নগরবাসীও স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এ নির্মাণ কাজ এ অঞ্চলের বাসিন্দাসহ নগরবাসীর জন্য গলার কাটা হয়ে দাঁড়ায়। আমাদেরকে চরম দুর্ভোগের ভাগ্য বরণ করতে হয়।
বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী এলাকাবাসীসহ বিভিন্ন সংগঠন বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করে আসছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে কেডিএ কর্তৃপক্ষের সাথেও কথা হয়েছে বিভিন্ন মহলের। আপনারাও কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের লক্ষে গুরুত্ব সহকারে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশ ও প্রচার করেছেন বার বার। কিন্তু কোন লাভ হয়নি।
তিনি বলেন, ২০১৩ সালে প্রকল্পটি একনেকে পাস হওয়ার পর প্রায় ৯টি বছর নানান চড়াই উৎরাইয়ের মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর অবশেষে ২০২২ সালের ১২ জানুয়ারি কেডিএ, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ প্রদান করে। ২০২৪ সালের জুন মাসে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সময়সীমার ১ বছরেরও অধিক সময় অতিক্রান্ত হয়েছে ইতিপূর্বে। কেডিএ’র পক্ষ থেকে প্রকল্পের কাজ ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে দাবি করলেও সরেজমিনের চিত্র ভিন্ন।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি অপরিকল্পিতভাবে যথেচ্ছা নির্মাণ কাজ করার কারণে সড়কটির অবস্থা যা ইচ্ছে তাই। সড়কের যেখানে সেখানে ইটের খোয়া, কোথাও কোথাও পুকুর আকৃতির গর্ত, বৃষ্টিতে গর্তগুলো পানি ভর্তি হয়ে যাওয়া, সড়কের দুইপাশ খুড়ে ১ বছরেরও অধিক কাল ফেলে রাখা ইত্যাদি কারনে এটিকে এখন আর সড়ক বলা যায় কিনা? সেটি একটি বড় প্রশ্ন! বাকী রয়েছে সড়কের মূল কাজগুলো যেমন- রোড ডিভাইডার, দুইপাশের ড্রেন ও ফুটপাথ, লবণচরা সেতু, মতিয়াখালী স্লুইস গেট ও কালভার্ট।
ফলশ্র“তিতে শুধুমাত্র জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে তাইই নয়, এই সময়কালে এই অঞ্চলের শিল্প-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এমনকি অনেক প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রতিবছর শত শত কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে। মালিক-শ্রমিক-কর্মচারী নির্বিশেষে অনেকে সর্বশান্ত হয়েছেন। মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন। এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে নেমে এসেছে এক ধরনের স্থবিরতা।
এ সময়ে তিনি বলেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের এ কাজে ইচ্ছাকৃত মারাত্মক ধীরগতির কারণে প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি এবং প্রকল্প খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে আড়াই গুণেরও বেশী। অথচ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি বালু ও খোয়া ফেলার মত সহজ ও লাভজনক কাজটুকু করে এরকম একটি অসহনীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি করে ৭০ কোটি টাকা তুলে নিয়ে গেল। প্রশ্ন হচ্ছে, প্রতিষ্ঠানটির কাজের এমন ধীরগতি, কাজ সম্পন্ন না করা, অপরিকল্পিত যথেচ্ছা কাজ করে এতবড় জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা।
প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি প্রভৃতির পরও কেন তাদেরকে এই ৭০ কোটি টাকা প্রদান করা হলো, এ প্রতিষ্ঠানটিকে জবাবদিহিতার আওতায় কেন আনা হলোনা বা গেলনা, জনভোগান্তি লাঘব ও নির্মাণ কাজের অনিশ্চয়তা, বিশাল অংকের আর্থিক ক্ষতি ও প্রকল্পের অর্থ অপচয়ের দায়ভার কার বা কাদের এ প্রশ্ন থেকেই যায়।
অ্যাড. মোঃ বাবুল হাওলাদার আরও বলেন, আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট, চাষাবাদের জমিতে পরিণত হওয়া এ সড়কটির নির্মাণ কাজ মাঝপথে বন্ধ হওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ উদঘাটন এবং নির্মাণ কাজে সীমাহীন ধীরগতি, জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী ও অর্থ অপচয়কারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানে সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষকে যথাযথ আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। নির্মাণ কাজ অতিদ্রæত সম্পন্ন করতে হবে। অন্যথায় ভুক্তভোগী এলাকাবাসীসহ নগরবাসীকে সাথে নিয়ে কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খুলনা নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক বীরমুক্তিযোদ্ধা এ্যাড: আ ফ ম মহসীন, নাগরিক নেতা মিজানুর রহমান বাবু, সরদার আবু তাহের, আব্দুস সালাম শিমুল, মাওলানা নুরুল ইসলাম (নূরানী), মোঃ হাছিবুর রহমান হাছিব, মোঃ কামাল হোসেন, মোসলেহ উদ্দিন তুহিন, সাংবাদিক গাজী যুবায়ের আলম মোঃ জামাল উদ্দিন মোড়ল, মিলন বিশ্বাস, মোঃ রহমত আলী, দুলাল সরকার এছাড়াও বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং ভুক্তভোগী এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব এড. মোঃ বাবুল হাওলাদার এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রায় ৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে শিপইয়ার্ড সড়কটি খুলনা সিটি কর্পোরেশনের অধীন থাকা অবস্থায়ও মারাত্মক নাজুক ছিল। মাঝে মধ্যে মেরামত বা সংস্কারের কাজ হলেও দীর্ঘ সময় ধরে স্থায়ীভাবে সমাধানের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।
খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ)’র প্রকল্প প্রস্তাবের ভিত্তিতে সড়কটি ৪ লেনে উন্নীত করার লক্ষ্যে ২০১৩ সালে ৯৮ কোটি ৯০ লক্ষ টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেয় একনেক। সড়কটি খুলনা মহানগরীর অন্যতম প্রধান প্রবেশ্লার হওয়ায় এবং বিভিন্ন কারণে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় শুধুমাত্র এ এলাকার মানুষের নয়, নগরবাসীও স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এ নির্মাণ কাজ এ অঞ্চলের বাসিন্দাসহ নগরবাসীর জন্য গলার কাটা হয়ে দাঁড়ায়। আমাদেরকে চরম দুর্ভোগের ভাগ্য বরণ করতে হয়।
বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী এলাকাবাসীসহ বিভিন্ন সংগঠন বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করে আসছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে কেডিএ কর্তৃপক্ষের সাথেও কথা হয়েছে বিভিন্ন মহলের। আপনারাও কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের লক্ষে গুরুত্ব সহকারে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশ ও প্রচার করেছেন বার বার। কিন্তু কোন লাভ হয়নি।
তিনি বলেন, ২০১৩ সালে প্রকল্পটি একনেকে পাস হওয়ার পর প্রায় ৯টি বছর নানান চড়াই উৎরাইয়ের মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর অবশেষে ২০২২ সালের ১২ জানুয়ারি কেডিএ, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ প্রদান করে। ২০২৪ সালের জুন মাসে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সময়সীমার ১ বছরেরও অধিক সময় অতিক্রান্ত হয়েছে ইতিপূর্বে। কেডিএ’র পক্ষ থেকে প্রকল্পের কাজ ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে দাবি করলেও সরেজমিনের চিত্র ভিন্ন।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি অপরিকল্পিতভাবে যথেচ্ছা নির্মাণ কাজ করার কারণে সড়কটির অবস্থা যা ইচ্ছে তাই। সড়কের যেখানে সেখানে ইটের খোয়া, কোথাও কোথাও পুকুর আকৃতির গর্ত, বৃষ্টিতে গর্তগুলো পানি ভর্তি হয়ে যাওয়া, সড়কের দুইপাশ খুড়ে ১ বছরেরও অধিক কাল ফেলে রাখা ইত্যাদি কারনে এটিকে এখন আর সড়ক বলা যায় কিনা? সেটি একটি বড় প্রশ্ন! বাকী রয়েছে সড়কের মূল কাজগুলো যেমন- রোড ডিভাইডার, দুইপাশের ড্রেন ও ফুটপাথ, লবণচরা সেতু, মতিয়াখালী স্লুইস গেট ও কালভার্ট।
ফলশ্র“তিতে শুধুমাত্র জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে তাইই নয়, এই সময়কালে এই অঞ্চলের শিল্প-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এমনকি অনেক প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রতিবছর শত শত কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে। মালিক-শ্রমিক-কর্মচারী নির্বিশেষে অনেকে সর্বশান্ত হয়েছেন। মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন। এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে নেমে এসেছে এক ধরনের স্থবিরতা।
এ সময়ে তিনি বলেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের এ কাজে ইচ্ছাকৃত মারাত্মক ধীরগতির কারণে প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি এবং প্রকল্প খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে আড়াই গুণেরও বেশী। অথচ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি বালু ও খোয়া ফেলার মত সহজ ও লাভজনক কাজটুকু করে এরকম একটি অসহনীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি করে ৭০ কোটি টাকা তুলে নিয়ে গেল। প্রশ্ন হচ্ছে, প্রতিষ্ঠানটির কাজের এমন ধীরগতি, কাজ সম্পন্ন না করা, অপরিকল্পিত যথেচ্ছা কাজ করে এতবড় জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা।
প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি প্রভৃতির পরও কেন তাদেরকে এই ৭০ কোটি টাকা প্রদান করা হলো, এ প্রতিষ্ঠানটিকে জবাবদিহিতার আওতায় কেন আনা হলোনা বা গেলনা, জনভোগান্তি লাঘব ও নির্মাণ কাজের অনিশ্চয়তা, বিশাল অংকের আর্থিক ক্ষতি ও প্রকল্পের অর্থ অপচয়ের দায়ভার কার বা কাদের এ প্রশ্ন থেকেই যায়।
অ্যাড. মোঃ বাবুল হাওলাদার আরও বলেন, আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট, চাষাবাদের জমিতে পরিণত হওয়া এ সড়কটির নির্মাণ কাজ মাঝপথে বন্ধ হওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ উদঘাটন এবং নির্মাণ কাজে সীমাহীন ধীরগতি, জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী ও অর্থ অপচয়কারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানে সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষকে যথাযথ আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। নির্মাণ কাজ অতিদ্রæত সম্পন্ন করতে হবে। অন্যথায় ভুক্তভোগী এলাকাবাসীসহ নগরবাসীকে সাথে নিয়ে কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খুলনা নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক বীরমুক্তিযোদ্ধা এ্যাড: আ ফ ম মহসীন, নাগরিক নেতা মিজানুর রহমান বাবু, সরদার আবু তাহের, আব্দুস সালাম শিমুল, মাওলানা নুরুল ইসলাম (নূরানী), মোঃ হাছিবুর রহমান হাছিব, মোঃ কামাল হোসেন, মোসলেহ উদ্দিন তুহিন, সাংবাদিক গাজী যুবায়ের আলম মোঃ জামাল উদ্দিন মোড়ল, মিলন বিশ্বাস, মোঃ রহমত আলী, দুলাল সরকার এছাড়াও বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং ভুক্তভোগী এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।