বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
logo
Breaking News
অপরাধ খুলনা নগরীর মোল্লাপাড়ায় আলোচিত ট্রিপল মার্ডারের এক জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ
logo

খুলনা নগরীর মোল্লাপাড়ায় আলোচিত ট্রিপল মার্ডারের এক জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ

খুলনা নগরীর ৩১ নং ওয়ার্ড মোল্লাপাড়া দরবেশ গলির আলোচিত ট্রিপল মার্ডার মামলায় সন্দেহজনক ভাবে তরিকুল ইসলাম নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

গতকাল বুধবার ১৯ নভেম্বর রাত সাড়ে ৯ টার দিকে তাকে নগরীর দক্ষিণ টুটপাড়া এলাকার মোল্লাপাড়া আরজু  কালভার্টের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

গ্রেপ্তার তরিকুল ওই এলাকার আরজু কালভার্ট মোড়ের বাসিন্দা মোঃ আজহারুল ইসলামের ছেলে। খুলনার দরবেশ মোল্লার গলিতে নানিসহ দুই নাতিকে হত্যা: ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে নৃশংস ট্রিপল মার্ডার।
খুলনা নগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের মুক্তা কমিশনারের বাড়ির কাছে দরবেশ মোল্লা গলির ভিতরের সড়কে একটি বাসায় নানিসহ দুই নাতিকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোক ও আতঙ্কের ছায়া।

রোববার ১৬ নভেম্বর ২০২৫ ইং রাত আনুমানিক সাড়ে সাতটার দিকে সেফার আহমেদ ও তার স্ত্রী রুবি আক্তার অফিস থেকে বাসায় ফিরে এসে দেখেন যে বাড়ির সকল দরজা বন্ধ। দরজা বন্ধ দেখে রুবি আক্তার তার মাকে ডাকাডাকি করলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায় না।

পরবর্তীতে ঘর তল্লাশি করতে গিয়ে তারা বাড়ির সংলগ্ন মুরগির খামারের ভেতরে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন রুবি আক্তারের মা মহিদুন্নেসা (৫৫) এবং দুই নাতি মুস্তাকিম (৮) ও ফাতিহা।

রুবি আক্তারের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এলে পরিস্থিতি আরো স্পষ্ট হয়। গুরুতর অবস্থায় দুই শিশুকে উদ্ধার করে সেফার আহমেদ দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান, কিন্তু চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে বাসায় ঢুকে নানিসহ দুই শিশুকে হত্যা করে পালিয়ে গেছে।

এবিষয়ে  রুবি আক্তার-এর ধারণা, দুই বছর আগে তার বাড়ির জমি জাল দলিল করে দখলের পায়তারা আসছে তার মামা শ্বশুরের ছেলেরা, এ বিষয়ে কোর্টে মামলা চলমান। তিনি আরো জানান হত্যাকারীরা তার মা ও ছেলেদের হত্যা করার পরে তাকে এবং তার স্বামীকে হত্যার উদ্দেশ্যে অবস্থান ঘরের মধ্যে অবস্থান করছিলো। 

তিনি যখন প্রথম বাড়িতে প্রবেশ করেন, তখন সমস্ত ঘর বন্ধ অবস্থায় দেখতে পান। কিন্তু যখন মা ও ছেলেদের খোঁজাখুঁজি করছিলেন এর এক ফাঁকে সুযোগ বুঝে হত্যাকারীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। 

স্থানীয়দের মতে, এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় দেখা যায়নি। তারা দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবিও জানিয়েছেন।

পুলিশ বলেছে, ঘটনা খুবই গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং শিগগিরই এর রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদী।

-খবরপ্রতিদিন/ সি.ব

খুঁজুন