নেত্রকোণার স্থানীয় একটি মিষ্টান্ন, দীর্ঘ প্রায় ১২০ বছরের ইতিহাস ও স্বাদের অনন্য বৈচিত্র্যে ভর করে সেই ‘বালিশ মিষ্টি’ এখন দেশের ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই স্বীকৃতি পেয়েছে। পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদফতর ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর এটিকে বাংলাদেশের ৫৮তম জিআই পণ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
নেত্রকোণা শহরের বারহাট্টা রোডে প্রায় এক শতাব্দী আগে গয়ানাথ ঘোষ প্রথম এই মিষ্টি তৈরি করেন। পরে ১৯৬৫ সালে তিনি ভারতে চলে গেলে দোকানের দায়িত্ব পান কর্মচারী নিখিল চন্দ্র মোদক, যিনি মালিকের প্রতি সম্মান রেখে দোকানের নাম পরিবর্তন না করে গয়ানাথ মিষ্টান্ন ভাণ্ডারই রেখে দেন।
দেখতে ছোট বালিশের মতো হওয়ায় এই মিষ্টির নাম রাখা হয় বালিশ মিষ্টি। স্বাদেও এর রয়েছে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য, যা না পুরোপুরি সন্দেশ, না একেবারে রসগোল্লা, বরং বিশেষ প্রস্তুত প্রণালী ও উপাদানের মিশেলে তৈরি একটি আলাদা স্বাদ। দেশীয় গাভীর খাঁটি দুধের ছানা, চিনি ও ময়দা দিয়ে তৈরি এই মিষ্টি প্রথমে চিনির গরম রসে ভাজা হয়, পরে ঠান্ডা করে আবার দীর্ঘ সময় রসে ভিজিয়ে রাখা হয়। বিক্রির সময় উপরে দেওয়া হয় ক্ষীর বা দুধের মালাই। কিছু প্রস্তুত প্রক্রিয়া ব্যবসায়িক স্বার্থে গোপন রাখা হয় বলে জানান কারিগররা।
ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা অনুযায়ী বালিশ মিষ্টি ৩০, ৫০, ১০০, ৩০০, ৫০০ ও ১ হাজার টাকার বিভিন্ন আকৃতিতে বিক্রি হয়। বড় আকৃতির একটি বালিশ মিষ্টি পাঁচ থেকে ছয়জন অনায়াসে খেতে পারেন।
স্থানীয়দের কাছে এই মিষ্টি শুধু খাবার নয়, এক ধরনের আবেগের নাম। পরিবার ও স্বজনদের জন্য এটি নিয়ে যান তারা, আর দেশ ছাড়িয়ে প্রবাসী নেত্রকোণাবাসীদের হাত ধরে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও আমেরিকাতেও পৌঁছে গেছে এই মিষ্টি।
২০২৩ সালে নেত্রকোণা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বালিশ মিষ্টির ইতিহাস, উৎপাদন প্রক্রিয়া ও বিশেষত্বের দলিলসহ জিআই স্বীকৃতির আবেদন করা হয়। দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে এটি দেশের ঐতিহ্যের মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় যুক্ত হলো।
গয়ানাথ মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের কর্ণধার খোকন চন্দ্র মোদক বলেন, ‘বালিশ মিষ্টি জিআই স্বীকৃতি পেয়েছে, এটা শুধু আমাদের নয়, পুরো নেত্রকোণা জেলার গর্ব।’
দেশের ৫৮তম জিআই স্বীকৃতি পেল নেত্রকোণার ‘বালিশ মিষ্টি’
দেশের ৫৮তম জিআই স্বীকৃতি পেল নেত্রকোণার ‘বালিশ মিষ্টি’
নেত্রকোণার স্থানীয় একটি মিষ্টান্ন, দীর্ঘ প্রায় ১২০ বছরের ইতিহাস ও স্বাদের অনন্য বৈচিত্র্যে ভর করে সেই ‘বালিশ মিষ্টি’ এখন দেশের ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই স্বীকৃতি পেয়েছে। পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদফতর ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর এটিকে বাংলাদেশের ৫৮তম জিআই পণ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। নেত্রকোণা শহরের বারহাট্টা রোডে প্রায় এক শতাব্দী আগে গয়ানাথ ঘোষ প্রথম এই মিষ্টি তৈরি করেন। পরে ১৯৬৫ সালে তিনি ভারতে চলে গেলে দোকানের দায়িত্ব পান কর্মচারী নিখিল চন্দ্র মোদক, যিনি মালিকের প্রতি সম্মান রেখে দোকানের নাম পরিবর্তন না করে গয়ানাথ মিষ্টান্ন ভাণ্ডারই রেখে দেন। দেখতে ছোট বালিশের মতো হওয়ায় এই মিষ্টির
নাম রাখা হয় বালিশ মিষ্টি। স্বাদেও এর রয়েছে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য, যা না পুরোপুরি সন্দেশ, না একেবারে রসগোল্লা, বরং বিশেষ প্রস্তুত প্রণালী ও উপাদানের মিশেলে তৈরি একটি আলাদা স্বাদ। দেশীয় গাভীর খাঁটি দুধের ছানা, চিনি ও ময়দা দিয়ে তৈরি এই মিষ্টি প্রথমে চিনির গরম রসে ভাজা হয়, পরে ঠান্ডা করে আবার দীর্ঘ সময় রসে ভিজিয়ে রাখা হয়। বিক্রির সময় উপরে দেওয়া হয় ক্ষীর বা দুধের মালাই। কিছু প্রস্তুত প্রক্রিয়া ব্যবসায়িক স্বার্থে গোপন রাখা হয় বলে জানান কারিগররা। ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা অনুযায়ী বালিশ মিষ্টি ৩০, ৫০, ১০০, ৩০০, ৫০০ ও ১ হাজার টাকার বিভিন্ন আকৃতিতে বিক্রি হয়। বড় আকৃতির একটি
বালিশ মিষ্টি পাঁচ থেকে ছয়জন অনায়াসে খেতে পারেন। স্থানীয়দের কাছে এই মিষ্টি শুধু খাবার নয়, এক ধরনের আবেগের নাম। পরিবার ও স্বজনদের জন্য এটি নিয়ে যান তারা, আর দেশ ছাড়িয়ে প্রবাসী নেত্রকোণাবাসীদের হাত ধরে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও আমেরিকাতেও পৌঁছে গেছে এই মিষ্টি। ২০২৩ সালে নেত্রকোণা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বালিশ মিষ্টির ইতিহাস, উৎপাদন প্রক্রিয়া ও বিশেষত্বের দলিলসহ জিআই স্বীকৃতির আবেদন করা হয়। দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে এটি দেশের ঐতিহ্যের মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় যুক্ত হলো। গয়ানাথ মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের কর্ণধার খোকন চন্দ্র মোদক বলেন, ‘বালিশ মিষ্টি জিআই স্বীকৃতি পেয়েছে, এটা শুধু আমাদের নয়, পুরো নেত্রকোণা জেলার গর্ব।’
সম্পাদক: খন্দকার আমিনুর রহমান
[email protected] | ০১৫৩৫৭৭৩৩১৪
গভ: জি: নং-সি-১৩১৫৯৬
প্রধান কার্যালয়: ৩০৬/এ, দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী ঢাকা ১২০৪/
50/F,Inner Circular Road,Naya Paltan, Dhaka, 1000
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত