শাহাদাৎ হোসেন সরকার আশুলিয়া : শ্রমিক অসন্তোষের নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন কিছু অসাধু নেতা, বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কারখানা,বাড়ছে বেকারত্ব।
রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পের প্রাণকেন্দ্র আশুলিয়া এখন জিম্মি কিছু অসৎ চক্রান্তের হাতে। শ্রমিক অসন্তোষের নামে একাংশ শ্রমিক নেতা মালিকপক্ষ ও সাধারণ শ্রমিকদের দ্বারস্থ করে হাতিয়ে নিচ্ছেন কোটি কোটি টাকা। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ শ্রমিক, বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কারখানা, বাড়ছে বেকারত্ব। আর আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে উঠছেন এই অসাধু নেতারা।
ইতিমধ্যে আশুলিয়ার বেশ কিছু গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে গেছে। বেকার হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার শ্রমিক। সম্প্রতি জামগড়ার দুটি সুনামধন্য কারখানায় প্রায় কোটি টাকা লেনদেন করে অসন্তোষ তৈরি করেন একাংশ শ্রমিক নেতা।
শ্রমিকদের পাওনা টাকা নেতাদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা নিয়ে দুপক্ষের হাতাহাতির ঘটনা ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
শ্রমিক নেতা মামুন ফেসবুকে অভিযোগ করেন, ইফুরিয়া ২০ লাখ ও আইডিএস ১৫ লাখ—মোট ৩৫ লাখ টাকার ভাগ চেয়ে ফরিদুল ইসলামকে হুমকি দেন তিনি।
এরপর ফরিদুল নিজের অফিস নিজেরাই ভাঙচুর করে মানববন্ধন ও থানায় অভিযোগ । অন্যদিকে মামুন দেন পাল্টা অভিযোগ।
তদন্তে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য—প্রথমে মালিকের সঙ্গে গোপনে সমঝোতা, পরে আবার শ্রমিকদের রাস্তায় নামিয়ে চুক্তির নাটক।
মালিকের পক্ষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে শ্রমিকদের সামান্য অংশ দিয়ে বাকি টাকা ভাগ করে নেন নেতারা। এভাবেই বেশ কিছু কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এসব শ্রমিক নেতা রাতারাতি হয়ে গেছেন কোটি কোটি টাকার মালিক।
প্রবীণ শ্রমিক নেতা তুহিন চৌধুরী, সভাপতি কেন্দ্রীয় কমিটি বাংলাদেশ পোশাক শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন, বলেন, "ফরিদুল ইসলামকে আগেই জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন দুর্নীতির দায়ে বহিষ্কার করে। পরে তিনি কাগজবিহীন নতুন সংগঠন তৈরি করে গড়ে তুলেছেন অট্টালিকা ও ব্যবসা। অন্যদিকে ইসমাইল হোসেন ঠান্ডু নারী ও মাদককাণ্ডে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।"
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শ্রমিক নেতা জানান, শিল্প কারখানা ধ্বংসের মূলহোতা ফরিদুল ইসলাম, ইসমাইল হোসেন ঠান্ডু, মিজান, মামুন আল আমিন অন্যতম ।
শ্রমিক নেতা খোরশেদ আলমের ভাষ্য, "এসব অসাধু চক্রের কারণে সাধারণ শ্রমিকদের আন্দোলন ব্যর্থ হচ্ছে, কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।" অন্যদিকে মোশরেফা মিশু, সাধারণ সম্পাদক গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি ও সভাপতি গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরাম, বলেন, "শ্রমিকদের প্রকৃত ন্যায্য দাবি থেকে এসব নেতা ইস্যু সরিয়ে নিচ্ছেন নিজস্ব স্বার্থে।"
সচেতন মহল বলছেন, শিল্প বাঁচাতে ও বেকারত্ব দূর করতে এই নেতাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। শুধু শিল্প নয়, দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের ভবিষ্যৎ বাঁচাতে এখনই ব্যবস্থা নেওয়ার সময় এসেছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আশুলিয়ার শিল্প কারখানা ধ্বংসের পেছনে শ্রমিক নেতাদের চক্র
আশুলিয়ার শিল্প কারখানা ধ্বংসের পেছনে শ্রমিক নেতাদের চক্র
শাহাদাৎ হোসেন সরকার আশুলিয়া : শ্রমিক অসন্তোষের নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন কিছু অসাধু নেতা, বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কারখানা,বাড়ছে বেকারত্ব। রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পের প্রাণকেন্দ্র আশুলিয়া এখন জিম্মি কিছু অসৎ চক্রান্তের হাতে। শ্রমিক অসন্তোষের নামে একাংশ শ্রমিক নেতা মালিকপক্ষ ও সাধারণ শ্রমিকদের দ্বারস্থ করে হাতিয়ে নিচ্ছেন কোটি কোটি টাকা। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ শ্রমিক, বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কারখানা, বাড়ছে বেকারত্ব। আর আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে উঠছেন এই অসাধু নেতারা। ইতিমধ্যে আশুলিয়ার বেশ কিছু গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি বন্ধ হয়ে গেছে। বেকার হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার শ্রমিক। সম্প্রতি জামগড়ার দুটি সুনামধন্য কারখানায় প্রায় কোটি টাকা লেনদেন করে অসন্তোষ তৈরি করেন একাংশ শ্রমিক নেতা। শ্রমিকদের পাওনা টাকা নেতাদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা নিয়ে দুপক্ষের হাতাহাতির ঘটনা ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। শ্রমিক নেতা মামুন ফেসবুকে অভিযোগ করেন, ইফুরিয়া ২০ লাখ ও
আইডিএস ১৫ লাখ—মোট ৩৫ লাখ টাকার ভাগ চেয়ে ফরিদুল ইসলামকে হুমকি দেন তিনি। এরপর ফরিদুল নিজের অফিস নিজেরাই ভাঙচুর করে মানববন্ধন ও থানায় অভিযোগ । অন্যদিকে মামুন দেন পাল্টা অভিযোগ। তদন্তে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য—প্রথমে মালিকের সঙ্গে গোপনে সমঝোতা, পরে আবার শ্রমিকদের রাস্তায় নামিয়ে চুক্তির নাটক। মালিকের পক্ষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে শ্রমিকদের সামান্য অংশ দিয়ে বাকি টাকা ভাগ করে নেন নেতারা। এভাবেই বেশ কিছু কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এসব শ্রমিক নেতা রাতারাতি হয়ে গেছেন কোটি কোটি টাকার মালিক। প্রবীণ শ্রমিক নেতা তুহিন চৌধুরী, সভাপতি কেন্দ্রীয় কমিটি বাংলাদেশ পোশাক শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন, বলেন, "ফরিদুল ইসলামকে আগেই জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন দুর্নীতির দায়ে বহিষ্কার করে। পরে তিনি কাগজবিহীন নতুন সংগঠন তৈরি করে গড়ে তুলেছেন অট্টালিকা ও ব্যবসা। অন্যদিকে ইসমাইল হোসেন ঠান্ডু নারী
ও মাদককাণ্ডে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।" নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শ্রমিক নেতা জানান, শিল্প কারখানা ধ্বংসের মূলহোতা ফরিদুল ইসলাম, ইসমাইল হোসেন ঠান্ডু, মিজান, মামুন আল আমিন অন্যতম । শ্রমিক নেতা খোরশেদ আলমের ভাষ্য, "এসব অসাধু চক্রের কারণে সাধারণ শ্রমিকদের আন্দোলন ব্যর্থ হচ্ছে, কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।" অন্যদিকে মোশরেফা মিশু, সাধারণ সম্পাদক গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি ও সভাপতি গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরাম, বলেন, "শ্রমিকদের প্রকৃত ন্যায্য দাবি থেকে এসব নেতা ইস্যু সরিয়ে নিচ্ছেন নিজস্ব স্বার্থে।" সচেতন মহল বলছেন, শিল্প বাঁচাতে ও বেকারত্ব দূর করতে এই নেতাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। শুধু শিল্প নয়, দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের ভবিষ্যৎ বাঁচাতে এখনই ব্যবস্থা নেওয়ার সময় এসেছে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সম্পাদক: খন্দকার আমিনুর রহমান
[email protected] | ০১৫৩৫৭৭৩৩১৪
গভ: জি: নং-সি-১৩১৫৯৬
প্রধান কার্যালয়: ৩০৬/এ, দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী ঢাকা ১২০৪/
50/F,Inner Circular Road,Naya Paltan, Dhaka, 1000
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত