Logo
আজঃ শুক্রবার ১৯ এপ্রিল ২০২৪
শিরোনাম

আর্সেনাল-সিটির ড্রয়ের দিন টেবিলের শীর্ষে লিভারপুল

প্রকাশিত:সোমবার ০১ এপ্রিল ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১৯ এপ্রিল ২০২৪ | ১১৫জন দেখেছেন

Image

স্পোর্টস ডেস্ক:ম্যানচেস্টার সিটি মুখোমুখি লিগে আর্সেনাল বনাম দেখায় ড্র করার দিন অ্যানফিল্ডে পিছিয়ে পড়েও ব্রাইটনের বিপক্ষে দাপুটে জয় পেয়েছে লিভারপুল।

লুইস দিয়াস ও মোহাম্মদ সালাহ নৈপুণ্যে ২-১ গোলের জয় পেয়েছে ক্লপের দল। দাপুটে জয়ে টেবিলের শীর্ষে উঠে গেছে তারা।

২৯ ম্যাচ শেষে ৬৭ পয়েন্ট ক্লপের শিষ্যদের। আর্সেনালের ৬৫ ও ম্যানসিটির পয়েন্ট ৬৪।

নিজেদের মাঠে ব্রাইটনের বিপক্ষে সহজ জয়ের আশা করলেও রীতিমতো ঘাম ঝরাতে হয়েছে লিভারপুল ফুটবলারদের। মাথার ওপর থেকে বড় বোঝা নেমে যাওয়ায় ছোটখাটো একটা উৎসব বয়ে যায় অ্যানফিল্ডে।

ম্যাচের শুরুতেই লিভারপুল সমর্থকদের আত্মা কাঁপিয়ে দিয়েছিল ব্রাইটন। দুই মিনিটেই অ্যানফিল্ডে বয়ে যায় সুনামি। দুর্দান্ত গোল করেন ড্যানি ওয়েলব্যাক। হতাশায় নিজের চোখকেও বিশ্বাস করতে পারছিলেন না ইয়ুর্গেন ক্লপ। কোচকে ভরসা যোগাতে পাল্টা আক্রমণের পসরা সাজিয়ে বসে লিভারপুল। ১৭ ও ১৮, দুই মিনিটে পরপর দুটো সহজ সুযোগ নষ্ট করেন মোহাম্মদ সালাহ।

আন্তজার্তিক বিরতিতে যাওয়ার আগে ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট হারিয়েছিল লিভারপুল। শিরোপার রেসে টিকে থাকতে প্রতিটা ম্যাচই বাঁচা-মরার সামিল। তাই তো ব্রাইটনের বিপক্ষে শুরুতে গোল হজম করলেও সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে উঠে অলরেডরা। অবশেষে ২৭ মিনিটে অপেক্ষার অবসান করেন লুইজ দিয়াস। উল্লাসে ফেটে পড়েন অ্যানফিল্ডে লিভারপুল সমর্থকরা।

বিরতিতে যাওয়ার আগে আরও কয়েকবার ব্রাইটন গোলরক্ষককে বোকা বানানোর চেষ্টা করেন সালাহ। তবে, চাওয়ার সঙ্গে প্রাপ্তির মেলবন্ধন হয়নি।

৬৫ মিনিটে লিভারপুল শিবিরে স্বস্তি ফেরান মোহাম্মদ সালাহ। মিশরীয় তারকার গোলে ২-১ এ এগিয়ে যায় লিভারপুল। দু’মিনিট পর সবোলসাই আরও একটি নিশ্চিত সুযোগ না হারালে ব্যবধান আরও বাড়ত লিবারপুলের। ৭১ মিনিটে আবারো উৎসবের উপলক্ষ্য তৈরি করেছিলেন দিয়াস। কিন্তু অফসাইডে কাটা পড়ে তার গোল। তবে, তাতে আক্ষেপ নেই ক্লপের । ব্রাইটনের বিপক্ষে তিন পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছেড়েছে তার দল। উঠেছে লিগ টেবিলের শীর্ষেও।


আরও খবর



মহাখালীর কড়াইল বস্তিতে ভয়াবহ আগুন

প্রকাশিত:রবিবার ২৪ মার্চ 20২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১৭ এপ্রিল ২০২৪ | ১৭৯জন দেখেছেন

Image

নিজস্ব প্রতিবেদক:রোববার (২৪ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে রাজধানীর মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি মাঠের পাশে কড়াইল বস্তিতে ভয়াবহ আগুন লেগেছে।

আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৭টি ইউনিট। তবে আগুনে এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার লিমা খানম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, বিকাল ৪টার ১০ মিনিটে আমাদের কাছে আগুন লাগার খবর আসে। সংবাদ পেয়ে আমাদের সাতটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেছে।

প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও হতাহতের কোনো তথ্য জানাতে পারেননি ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা।



আরও খবর



কুড়িগ্রামের অর্থনৈতিক অঞ্চল হয়ে ভুটানের রাজা এখন নিজ দেশের পথে

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৮ মার্চ ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৮ এপ্রিল ২০২৪ | ১১০জন দেখেছেন

Image
সহিদুল আলম বাবুল, কুড়িগ্রাম ব্যুরো চিফ :ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগুয়েল ওয়াংচুক কুড়িগ্রামের সোনাহাট স্থল বন্ধর হয়ে নিজ দেশের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।আজ বৃহস্পতিবার ২৮ মার্চ দুপুর ২ টার দিকে কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট স্থলবন্দরে বিশেষ ইমিগ্রেশনের মাধ্যমে ভারত হয়ে ভুটানের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছেন ভুটানের রাজা। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন, স্ত্রী রানি জেৎসুন পেমাসহ রাজ পরিবার ও মন্ত্রীসভার সদস্যরা এবং রাজার সফর সঙ্গী ভুটানের সরকারি অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ।

এর আগে ভুটানের রাজা দুপুর ১২টার দিকে সফর সঙ্গীদের নিয়ে আকাশপথে সৈয়দপুর বিমানবন্দর পৌঁছান। সেখান থেকে সড়ক পথে কুড়িগ্রাম সার্কিট হাউজে আসেন ভুটানের রাজা ও তার সফর সঙ্গীরা। দুপুর দেড়টার দিকে তিনি কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের মাধবরাম এলাকায় ভুটানের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের নির্ধারিত জায়গা পরিদর্শন করেন রাষ্ট্রীয় এ অতিথিরা।

সেখানে অল্প সময় অবস্থানের পর সড়ক পথেই  সোনাহাট স্থলবন্দর হয়ে নিজ দেশের উদ্দেশ্যে ভারতে প্রবেশ করে রাষ্ট্রীয় এ অতিথিরা।গত সোমবার সকালে চারদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে  ঢাকায় পৌঁছান ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগুয়েল ওয়াংচুক ও তার স্ত্রী রানি জেৎসুন পেমা।
 শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ওই সময় ভুটানের রাজাকে দেওয়া হয় লাল গালিচা সংবর্ধনা। 

আরও খবর



যশোরে নিখোঁজ জোনাকি'র মরদেহ ভাসছিল পুকুরে, স্বজনদের দাবি ‘হত্যাকাণ্ড’

প্রকাশিত:বুধবার ০৩ এপ্রিল ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৮ এপ্রিল ২০২৪ | ১৮৪জন দেখেছেন

Image

ইয়ানূর রহমান,যশোর প্রতিনিধি : যশোরে নিখোঁজের একদিন পর জোনাকি খাতুন (৯) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে শহরের রেলগেট এলাকায় মডেল মসজিদের পেছনের একটি পুকুর থেকে মৃতদেহটি উদ্ধার করেছে পুলিশ।  উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য ওই শিশুর মরদেহ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। জোনাকির দাদির দাবি, তার নাতিকে সৎ মা পরিকল্পিকভাবে হত্যা করেছে।


নিহত শিশু জোনাকি খাতুন বেনাপোলের পোড়াবাড়ি গ্রামের শাহিন তরফদারে মেয়ে ও তার দ্বিতীয় স্ত্রীর ছোট সন্তান। শাহিন তরফদার বর্তমানে তৃতীয় স্ত্রী নার্গিস বেগমকে নিয়ে যশোর শহরের মডেল মসজিদের পেছনে একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করেন।

স্বজনেরা জানিয়েছেন, জোনাকি খাতুন বেনাপোলে দাদার বাড়িতে থাকে। ৬ দিন আগে দাদা বাড়ি থেকে যশোর শহরের রেলগেট এলাকার বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসে।সোমবার দুপুর থেকে সে নিখোঁজ ছিলো। অনেক খোঁজাখুজির পর মঙ্গলবার দুপুরে জোনাকির লাশ বাড়ি পেছনের পুকুরে ভেসে থাকতে দেখা যায়। জোনাকির শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

স্বজনদের অভিযোগ, জোনাকির পিতা শাহিনের সম্পত্তি আত্মসাৎ করতে সৎ মা নার্গিস বেগম জোনাকি খাতুনকে নির্যাতন করে হত্যা করেছে।

জোনাকির মেজ বোন চুমকি খাতুন বলেন, আমার মা আমাদের বাবার দ্বিতীয়  স্ত্রী।জোনাকি বেনাপোলে আমার দাদির কাছে থেকে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ালেখা করতো। আমার বাবার (শাহিন তরফদার) অনেক সম্পত্তি আছে। সৎ মা সেই সম্পত্তি নিজের নাম নিতে চায়। সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতে পরিকল্পিতভাবে সৎ মা নার্গিস বেগম আমার বোন জোনাকি খাতুনকে নির্যাতন করে হত্যা করেছে।

নিহতের দাদি সুববান বেগম বলেন, আদর যত্নে আমার কাছে মানুষ হচ্ছিল জোনাকি। আমার ছেলের কাছে ঘুরতে আইছিল ছয়দিন আগে। সোমবার শুনি আমার কলিজার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। পরে আমি কালকেই চলে আইছি আমার সোনার খোঁজে। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও আর পাইনি।

তিনি বলেন, আজ একটি শিশু এসে বলে বাড়ি পেছনের পুকুরে জোনাকি লাশ ভাসছে।পানি থেকে জোনাকিকে উঠিয়ে দেখি হাঁটু, পা, হাত ও গলায় শরীরের সব জায়গায়  ক্ষত চিহ্ন। আমার নাতিরে হত্যা করা হয়েছে। আমি হত্যার বিচার চাই।

যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক জানান, শিশুর মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় অনুসন্ধান চলছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসারবাদের জন্য সৎ মা নার্গিস বেগমকে আটক করা হয়েছে।


আরও খবর



ফুলবাড়ীতে পাইকারী বাজারে কাঁচা মরিচের কেজি ১৫ টাকা

প্রকাশিত:সোমবার ০৮ এপ্রিল ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১৭ এপ্রিল ২০২৪ | ৮১জন দেখেছেন

Image

ফুলবাড়ী, দিনাজপুর প্রতিনিধি:দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার হাটবাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়াসহ উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় পাইকারী বাজারে ১৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে কাঁচা মরিচ। মরিচের দাম কমে আসায় লোকসানের মুখে পড়েছেন মরিচ চাষিরা।গতকাল শনিবার (৬ এপ্রিল) সকালে ফুলবাড়ী পৌর এলাকার পাইকারী সবজির বাজারে গিয়ে দেখা যায়, সকাল সাড়ে ৬ টা থেকে সকাল সাড়ে ৯টা প্রতি কেজি উচ্চ ফলনশীল জাতের (অগ্নি, মধুমতি, বিন্দু ও বিজলী ২০২০) কাঁচা মরিচ প্রকার ভেদে ১৮ থেকে ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে দাম আরও কমতে থাকে। সর্বশেষ সকাল ১০ টার দিকে পাইকারি বাজারে ১৫ টাকা কেজি দরে কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছে।

পাইকারী বাজারে কাঁচা মরিচ কিনতে আসা পার্বতীপুরের ঢাকুলা গ্রামের সবজি ব্যবসায়ী গোলাম রহমান, মধ্যপাড়ার আবুল হোসেন বলেন, গত পাঁচদিন আগেও পাইকারী বাজারে কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ৩২ থেকে ৩৫ টাকা দরে কিনতে হয়েছে। কিন্তু আজ মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) ১৫ টাকা কেজিদরে প্রয়োজনীয় মরিচ কিনেছেন। এগুলো নিজ নিজ এলাকায় প্রতিকেজি ১৮ থেকে ২০ টাকা দরে বিক্রি করবেন।

উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের আমডুঙি গঙ্গাপ্রসাদ গ্রামের কাঁচা মরিচ চাষি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কলেজ শিক্ষার্থী নির্মল মার্ডি বলেন, চলতি মরিচ চাষ মৌসুমে ২৭ শতক জমিতে উচ্চ ফলনশীল মধুমতি ও বিজলী ২০২০ জাতের মরিচ চাষ করেছেন। ইতোমধ্যে তিনি খেত থেকে প্রায় ৫০ মণ মরিচ তুলেছেন বিক্রির জন্য। কিন্তু দাম পড়ে যাওয়ায় মরিচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। আশা করেছিলেন,পাইকারী বাজারে কমপক্ষে ২৩ থেকে ২৫ টাকা কেজি দরে মরিচ বিক্রি করতে পারবেন। কিন্তু দাম পড়ে যাওয়ায় এখন উৎপাদন খরচও উঠবে কি না তা নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন।

পাইকারী মরিচ ব্যবসায়ী ব্যবসায়ি মিলন মিয়া ও আমজাদ হোসেন বলেন, বর্তমানে হাটবাজারে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত মরিচের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ক্রেতার অভাবে দাম পড়ে গেছে। তবে আগামীতে মরিচের দাম আরো কমে আসবে বলে তাদের ধারনা।

উপজেলার দক্ষিণ কৃষ্ণপুর গ্রামের মরিচ চাষি গোলাম মোস্তফা আকন্দ বলেন, এক বিঘা জমিতে উচ্চ ফলনশীল অগ্নি ও বিন্দু জাতের মরিচ চাষ করেছেন।এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ২২ হাজার টাকা। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ওই জমি থেকে অন্তত ৬৫ থেকে ৭০মণ মরিচ পাবেন। কিন্তু বর্তমানে মরিচের যে দাম, এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে মরিচ বেঁচে উৎপাদন খরচ উঠলেও কোনো লাভ হবে না। ফলে পরিবার পরিজন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়তে হবে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রাসরণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহানুর ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় পৌর এলাকাসহ ৭ টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ১১০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ করা হয়েছে। এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৬৫ মেট্রিক টন। এ বছর তেমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকাসহ রোগবালাই না ধরায় আশানুরুপ ফলন হয়েছে মরিচের।


আরও খবর



আবার আগুন! অল্পের জন্য রক্ষা পেল অর্ধশতাধিক মানুষ, সর্বস্ব পুড়ে অঙ্গার

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৬ মার্চ ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১৭ এপ্রিল ২০২৪ | ৮৫জন দেখেছেন

Image

সাগর আহম্মেদ,কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ শিশু ও নারীসহ ১৬জন নিহতের পর আবার অগ্নিকান্ডের ঘটনা! ওই আগুনের হাত থেকে অল্পের জন্য জীবন রক্ষা পেল প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষ। তবে গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনায় তাদের সর্বস্ব পুড়ে অঙ্গার। সোমবার রাতে উপজেলার পল্লীবিদ্যুৎ উত্তরপাড়া এলাকায় এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী, ভুক্তভোগী পরিবার ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ মার্চ সন্ধ্যায় কালিয়াকৈর উপজেলার তেলিরচালা এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটে। ওই সময় শিশু, নারী ও পুরুষের শরীরে আগুন লেগে ৩৬ জন দগ্ধ হন। পরে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা দগ্ধদের উদ্ধার করে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ২৩ মার্চ পর্যন্ত ১০ দিনে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দগ্ধ শিশু ও নারীসহ ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাকীরা চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকলেও মৃত্যুর শঙ্কা যেন কাটছেই না। নিহতদের পরিবারের মধ্যে চলছে শোকের মাতম। ওই অগ্নিকান্ডের ঘটনায় শুধু দগ্ধদের পরিবারই নয়, আগুন আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন উপজেলাবাসী। এর রেশ কাটতে না কাটতেই গত সোমবার গভীর রাতে উপজেলার পল্লীবিদ্যুৎ উত্তরপাড়া এলাকার ফুটবল খেলার মাঠের পাশে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। ওই এলাকার জনি মিয়া ও সোহেল মিয়া নামে দুই ব্যক্তির দুটি কলোনি ভাড়া নিয়ে প্রায় অর্ধশতাধিক পরিবারের লোকজন বসবাস করে আসছিলেন। প্রতিদিনের মতো তারা রাতের খাবার শেষে ঘুমিয়ে পড়ে। কিন্তু রাত দেড়টার দিকে জনি মিয়ার ভাড়াটে শওকত হোসেনের ঝুটের গোডাউনে হঠাৎ আগুন জ¦লে উঠে। মুহুর্তের মধ্যে পাশের জনি ও সোহেলের দুটি টিনশেড কলোনিতে আগুন ছড়িয়ে পড়লে ভয়াবহ আকার ধারণ করে। প্রচন্ড তাপে তারা ঘুম থেকে জেগে আগুন দেখে আতকে উঠেন। তাড়াহুড়ো করে কোনো রকমে বাইরে বেড়িয়ে প্রাণ রক্ষা করেন তারা। পরে আগুন নেভাতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয় এলাকাবাসী। খবর পেয়ে কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ও কোনাবাড়ি ফায়ার সার্ভিসের ১টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় ১ ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ততক্ষণে আগুনে পুড়ে গেছে ১টি ঝুটের গোডাউন, দুটি কলোনির ৩৮টি কক্ষ ও কক্ষের ভেতরে থাকা টাকা, টেলিভিশন, ফ্রিজ, আসবাবপত্র, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল। গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে দুটি কলোনির ৩৮টি কক্ষের প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষের সর্বস্ব পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেছে। এখন তারা খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে। তবে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনায় কোন হতাহতের খবর পাওয়া না গেলেও ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারসহ স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। এছাড়াও তাৎক্ষণিকভাবে আগুনের সূত্রপাতের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। ওই ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে কালিয়াকৈর পৌরসভার মেয়র মজিবুর রহমান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) রজত বিশ^াস, পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুল আলম তালুকদার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এসময় ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা করে পৌরসভার পক্ষ থেকে প্রত্যেক পরিবারকে এক হাজার টাকা ও ৩টি করে কম্বল বিতরণ করা হয়।

এক কলোনির মালিক জনি মিয়া জানান, কলোনির বাইরে ওই ঝুটের গোডাউন। এর আশপাশে প্রায় মাদক সেবীরা নেশা করে। হয়তো ওই নেশাখোরদের অবশিষ্ট বিড়ির আগুন থেকে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে আগুনে পুড়ে আমাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যার হাউজ ইন্সপেক্টর ইফতেখার হোসেন রায়হান চৌধুরী জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌছে এক ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ অগ্নিকান্ডের ঘটনায় কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে আগুনের সূত্রপাতের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে।

কালিয়াকৈর পৌরসভার মেয়র মজিবুর রহমান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা করে প্রাথমিকভাবে কিছু নগদ টাকা ও কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে ঈদের আগে আর্থিক সহযোগিতা করা হবে।


আরও খবর