শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
logo
Breaking News
পবিত্র গাদিরে খুম ঈমানী ঘোষণার শোকরিয়া সমাবেশ ও সালাতু সালাম মাহফিল অনুষ্ঠিত নিখোঁজ তিন কিশোরীকে উদ্ধার করেছে ডিএমপির পল্লবী থানা পুলিশ ৪ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ ২০০+ নেতাকর্মী ও সমর্থকের জাতীয় নাগরিক পার্টিতে যোগদান কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্তে বিজিবির পৃথক অভিযানে ৫ লাখ ৭২ হাজার পিস ইয়াবাসহ একজন আটক সাপাহারে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মারপিট! আহত-১ মোংলায় ভুয়া র‍্যাব পরিচয় দেওয়া প্রতারক আটক সংসদ ভবন এলাকায় মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ ঝালকাঠিতে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, ২ শতাধিক রোগীকে চিকিৎসাসেবা ও বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ নবীনগর বিটঘর দানবীর মহেশচন্দ্র ভট্টাচার্য বিদ্যাপীঠ কলেজে সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত ঝালকাঠিতে মানববৃক্ষ তৈরি করে পরিবেশ দিবস উদযাপন
সারাবাংলা যমুনায় অবৈধ ড্রেজিংয়ে হুমকির মুখে শত শত বসতভিটা
logo

যমুনায় অবৈধ ড্রেজিংয়ে হুমকির মুখে শত শত বসতভিটা

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর উপজেলায় আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে বালু মাফিয়া চক্র। উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের চর বাঘুটিয়া এলাকায় যমুনা নদীর উজান থেকে অবৈধ ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন চালিয়ে যাচ্ছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই চক্রের অন্যতম হোতা মোস্তাফিজুর রহমান প্রিন্সের বাহিনীর লোকজন সশস্ত্র পাহারায় দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলন করে আসছে।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে দেখা যায়, চর বাঘুটিয়া এলাকার যমুনা নদীতে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ড্রেজার বসিয়ে দিন-রাত অবৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছে। নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভারী যন্ত্রপাতির বিকট শব্দে পরিবেশ যেমন বিপর্যস্ত হচ্ছে, তেমনি নদীভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে শত শত ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বালু মাফিয়া চক্রের সদস্যরা সশস্ত্র অবস্থায় পাহারা দেওয়ায় কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না। একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “তাদের প্রত্যেকের হাতেই অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র থাকে। বাধা দিতে গেলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। তাই সবাই ভয়ে মুখ বন্ধ করে আছে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসন মাঝে মাঝে অভিযান পরিচালনা করলেও তা দীর্ঘস্থায়ী কোনো সমাধান আনতে পারছে না। অভিযানের পর কিছুদিন কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও প্রশাসনের নজর সরলেই পুনরায় শুরু হয় অবৈধ বালু উত্তোলন। ফলে দিন দিন নদীপাড়ের মানুষের নিরাপত্তা ও জীবিকা চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।

এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিয়ান নুরেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি গণমাধ্যমকে জানান,“বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছি। অবৈধ ড্রেজিং ও বালু উত্তোলনের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যমুনার মতো বড় নদীতে এভাবে নির্বিচারে ড্রেজিং চালানো হলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তিত হতে পারে, যা ভবিষ্যতে ভয়াবহ ভাঙন ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে স্থায়ী নজরদারি, সশস্ত্র চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান এবং জড়িত প্রভাবশালীদের আইনের আওতায় আনা না হলে দৌলতপুরের বিস্তীর্ণ জনপদ যমুনার গর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

খুঁজুন