শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
logo
Breaking News
ওসমান হাদি হত্যা নিয়ে মন্তব্য: মমতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি গণবিরোধী, অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি খুলনা মহানগরী জামায়াতের আবাসিকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুতের বাড়তি দাম প্রত্যাহার ছুটির বিষয়ে ব্যস্ত হওয়ার কিছু নেই: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ৬ নবজাতকের মৃত্যু: আদ্‌-দ্বীন হাসপাতালকে শোকজ, হতে পারে লাইসেন্স বাতিল প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার ৬০০ টাকা দরে ভাঙারিতে বিক্রি: ডিএমপি কমিশনার আদ্-দ্বীন হাসপাতালের অবহেলায় ৬ নবজাতকের মৃত্যু: স্বাস্থ্যমন্ত্রী মিশন ২০২৬: বিশ্বজয়ের লক্ষ্যে কার ডেরা কোথায়? দেখে নিন ৪৮ দলের ‘বেস ক্যাম্প’ মেসি নেইমারদের ম্যাচ বাংলাদেশে যেভাবে দেখা যাবে প্রধানমন্ত্রীর ‘লাল টেলিফোন’ লাইনের তার চুরি, গ্রেপ্তার ২
সারাবাংলা যমুনা তীরে বালু দস্যুতা: দৌলতপুরে জাতীয় গ্রিড জনবসতি চরম বিপর্যয়ের মুখে
logo

যমুনা তীরে বালু দস্যুতা: দৌলতপুরে জাতীয় গ্রিড জনবসতি চরম বিপর্যয়ের মুখে

দৌলতপুর প্রতিনিধিঃ মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ জনবসতিপূর্ণ এলাকা সংলগ্ন যমুনা নদী থেকে প্রকাশ্যে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

দিন ও রাত মিলিয়ে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন একাধিক ড্রেজার বসিয়ে নদীর তলদেশ থেকে অবিরাম বালু তোলা হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে নদীতীরবর্তী হাজারো বসতবাড়ি এবং জাতীয় গ্রিড বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের গুরুত্বপূর্ণ টাওয়ারে।

সরেজমিনে বাঘুটিয়া বাজার, তিশি মৌজা, চকরমিরপুর, জিয়নপুর,ভাঙ্গা, রমচন্দ্রপুর,অবুদাঙ্গা, পারমস্তুল, চরমস্তুল, জয়ন্ত পাঙতিরছড়া ও বিষ্ণুপুর এলাকায় একাধিক ড্রেজার সচল অবস্থায় দেখা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলে এ অবৈধ উত্তোলন কার্যক্রম। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও তীররক্ষা ব্যবস্থা উপেক্ষা করে এভাবে বালু উত্তোলন করায় ভাঙনের ঝুঁকি আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ,বারবার প্রশাসনকে জানানো হলেও কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে ওঠেনি। অভিযানে গিয়ে সাময়িকভাবে ড্রেজার বন্ধ করা হলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই পুনরায় শুরু হয় উত্তোলন। তারা অভিযোগ করেন, প্রভাবশালী একটি চক্র রাজনৈতিক ও আর্থিক প্রভাব খাটিয়ে প্রশাসনিক তৎপরতাকে অকার্যকর করে রাখছে। তবে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানা যায়নি।

বিশেষজ্ঞ মহলের মতে,নদীর তীর সংলগ্ন এলাকায় এ ধরনের অনিয়ন্ত্রিত বালু উত্তোলন সরাসরি ভাঙন, ভূমিধস ও অবকাঠামো ধ্বংসের ঝুঁকি বাড়ায়।

জাতীয় গ্রিড সঞ্চালন টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা কেবল স্থানীয় নয়, বৃহত্তর অঞ্চলের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে—যা জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে এবং অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন—যদি অভিযান চলমান থাকে, তাহলে প্রকাশ্যে কীভাবে দিনের পর দিন ড্রেজার পরিচালিত হচ্ছে?জননিরাপত্তা, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষায় অবিলম্বে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং অবৈধ ড্রেজার জব্দের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। তাদের ভাষ্য—এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

খুঁজুন