বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
logo
Breaking News
আলোচিত ছিনতাইয়ের ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার ও মালামাল উদ্ধার করেছে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ রামিসা হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক আজ, আদালতে আনা হয়েছে আসামিদের নীতিমালা আসছে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোর জন্য: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ যুগ্ম সচিব আনিসুরকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হলো পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির কাজ কী দেশের যেসব অঞ্চলে দুপুর ১টার মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা বাংলাদেশ টানা তৃতীয়বারেরমত ফাইনালে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে আইভী বাসায় ফিরে সরকারকে ধন্যবাদ দিয়ে যা বললেন ঝালকাঠির নলছিটিতে জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল
সারাবাংলা ভোটের ভিক্ষুক নেতাকর্মীরা এবং বিজয়ের পর দরজা বন্ধ এ কেমন জনপ্রতিনিধিত্ব
logo

ভোটের ভিক্ষুক নেতাকর্মীরা এবং বিজয়ের পর দরজা বন্ধ এ কেমন জনপ্রতিনিধিত্ব

 নির্বাচন এদেশে এখন আর শুধু একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নয়, এটা এক ধরনের সামাজিক নাট্যশালা। ভোটের আগে প্রার্থী কিংবা তাঁর প্রতিনিধি প্রতিটি ভোটারের দরজায় দরজায় হাজির হন। ভোট চান, দোয়া চান, সমর্থন চান। 

তখন ভাষা নরম, হাসি মধুর, আচরণ বিনয়ী। সাধারণ মানুষের সামনে তখন প্রার্থী হয়ে ওঠেন অতি সাধারণ, অতি নম্র। কিন্তু ভোটের ফল ঘোষণার পর সেই চিত্র অনেক ক্ষেত্রেই উল্টো হয়ে যায়। বিজয়ের পর জনপ্রতিনিধির মুখে দেখা যায় অহংকার, আচরণে দেখা যায় ঔদ্ধত্য, আর জনগণের প্রতি দেখা যায় এক ধরনের অবজ্ঞা।

এই দ্বিচারিতা শুধু নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ নয়, এটা রাজনীতির জন্য ভয়ংকর আত্মঘাতী প্রবণতা।

কারণ সাধারণ মানুষ সবাই রাজনীতি করে না। কিন্তু তারা ভোট দেয়। আর অনেক মানুষ ভোট দেয় শুধু দল দেখে নয়, ভোট দেয় ভালোবাসা থেকে, আস্থা থেকে, ব্যক্তিগত সম্পর্কের জায়গা থেকে। 

তারা বিশ্বাস করে, এটা শুধু একজন ব্যক্তির জয় নয়; এটা এলাকার মানুষের সম্মান, স্বপ্ন ও প্রত্যাশার জয়। তাই নেতা জিতলে তারা আনন্দিত হয়, উচ্ছ্বসিত হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উল্লাস প্রকাশ করে। আবার নেতা হারলে তারাও কষ্ট পায়, ভেঙে পড়ে, পরাজয় মেনে নিতে পারে না। এই জনগণই একজন জনপ্রতিনিধির প্রকৃত শক্তি।

কিন্তু নির্বাচনের পর বহু জনপ্রতিনিধির আচরণ এমন হয়ে ওঠে যেন ভোটাররা তাঁর কাছে শুধু একটি সংখ্যা, একটি সিঁড়ি। যার ওপর পা রেখে ক্ষমতায় উঠেছেন। এরপর ভোটারদের সঙ্গে দেখা করাকে তিনি বিরক্তি মনে করেন, কথা শুনতে অনীহা দেখান, গণসাক্ষাৎকে “সময় নষ্ট” ভাবেন। 

জনপ্রতিনিধির আশেপাশে তখন গড়ে ওঠে সুবিধাভোগী বলয়, চেলাপেলা, দালাল, তদবিরবাজ, ঠিকাদার সিন্ডিকেট, এবং স্থানীয় ক্ষমতাকেন্দ্র। জনগণের সঙ্গে নেতা-সরাসরি সম্পর্ক যত দুর্বল হয়, এই চক্র তত শক্তিশালী হয়।

ফলাফল দাঁড়ায় ভয়াবহ। সাধারণ মানুষ প্রতিনিধির কাছে পৌঁছাতে পারে না, কিন্তু ধান্দাবাজরা ঠিকই পৌঁছে যায়। মানুষ যায় উন্নয়ন ও ন্যায়ের আশায়, কিন্তু ফিরে আসে অপমান ও হতাশা নিয়ে। এভাবেই জনপ্রতিনিধির নামে এলাকায় দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, টেন্ডার বাণিজ্য এবং ক্ষমতার অপব্যবহার বাড়তে থাকে। 

শেষ পর্যন্ত দায় গিয়ে পড়ে জনপ্রতিনিধির ওপরই। তিনি বিতর্কিত হন, আস্থা হারান, এবং ধীরে ধীরে নিজের রাজনৈতিক ভিত নিজেই দুর্বল করেন।

নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা গণতন্ত্রকে শুধু দুর্বল করে না, এটা রাষ্ট্রকেও অস্থিতিশীল করে। যারা জিতেছে, তাদের দায়িত্ব বিজয়কে প্রতিশোধে রূপান্তর করা নয়; বরং আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করা, নাগরিকদের নিরাপত্তা দেওয়া এবং প্রতিপক্ষকেও রাজনৈতিক সহাবস্থানের সুযোগ দেওয়া। 

কারণ আজ যে ক্ষমতায় আছে, কাল সে ক্ষমতায় নাও থাকতে পারে। ক্ষমতার দম্ভে প্রতিহিংসার আগুন জ্বালালে সেই আগুন একদিন নিজের ঘরেও লাগে, এটাই রাজনীতির নির্মম সত্য।

সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, এই সহিংসতার সুযোগে অপরাধী ও সুবিধাভোগী চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। 

দলের ক্ষমতার নাম ভাঙিয়ে তারা ব্যক্তিগত শত্রুতা মেটায়, জায়গা-জমি দখল করে, ব্যবসা দখল করে চাঁদাবাজি করে অর্থ হাতিয়ে নেয় এবং অনেক সময় সাংবাদিকদের দেখিয়ে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়। মামলা-হামলার ভয় দেখিয়ে মানুষকে নীরব করে দেয়। 

এভাবে নির্বাচনী এলাকার সামাজিক কাঠামো ভেঙে পড়ে, মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে, এবং রাষ্ট্রের প্রতি অনাস্থা বাড়ে।

খুঁজুন