ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ পেয়েছেন জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ গোলাম নাফিজকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় রিকশায় করে হাসপাতালের নেওয়ার চেষ্টা করে আলোচনায় আসা রিকশাচালক নূর মোহাম্মদ।
বুধবার (১১ মার্চ) তিনি গণমাধ্যমকে জানান, এটি তার জীবনের বড় পাওয়া। আগামীকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্য তিনি আমন্ত্রণ পেয়েছেন।
এ জন্য আজ তিনি জাতীয় সংসদ ভবনে গিয়ে আমন্ত্রণপত্র বা কার্ড নিয়ে এসেছেন। তবে এতে কী লেখা আছে, তা তিনি পড়তে পারেন না। কার্ডটি যাতে না হারায়, সে বিষয়ে তাকে সতর্ক থাকতে বলেছেন সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা।
২০২৪ সালে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া সংঘর্ষে গুলিতে নিহত হয় ১৭ বছরের কিশোর গোলাম নাফিজ। সে রাজধানীর বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে পাস করে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিল। পরিবারসহ মহাখালীতে থাকত তারা।

নাফিজের পরিবারের সদস্য, বন্ধুসহ আরও কয়েকজন জানান, আন্দোলনে গিয়ে ৪ আগস্ট বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ফার্মগেটের পদচারী–সেতুর নিচে নাফিজ গুলিবিদ্ধ হয়।
রিকশার পাদানিতে তুলে দেওয়া হয় গুলিবিদ্ধ নাফিজকে। তখনো রড ধরে রেখেছিল নাফিজ। ছবি: সংগৃহীত
রিকশার পাদানিতে তুলে দেওয়া হয় গুলিবিদ্ধ নাফিজকে। তখনো রড ধরে রেখেছিল নাফিজ। ছবি: সংগৃহীত
গুলিবিদ্ধ গোলাম নাফিজকে পুলিশ যখন রিকশার পাদানিতে তুলে দেয়, তখনো সে রিকশার রডটি হাত দিয়ে ধরে রেখেছিল। রিকশাচালক নূর মোহাম্মদ তাকে নিয়ে রাজধানীর ফার্মগেটের একটি হাসপাতালে ঢুকতে গেলে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা বাধা দেন বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শী এক সাংবাদিক। পরে গোলাম নাফিজকে নিয়ে রিকশাচালক খামারবাড়ির দিকে চলে যান।
সেসময় দৈনিক মানবজমিনের ফটোসাংবাদিক জীবন আহমেদ পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাদের বাধার পরেও রিকশার পাদানিতে ঝুলতে থাকা নাফিজের কয়েকটি ছবি তোলেন। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট দিবাগত রাত ১২টার পর পত্রিকাটির প্রথম পাতায় ছাপা হওয়া নাফিজের ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। সেই ছবি দেখেই নাফিজের মা-বাবা সন্তানের খোঁজ পান।
সেই ছবিতে রিকশার পেছনে একটি মুঠোফোন নম্বর দেখা গিয়েছিল। ওই নম্বরে ফোন দিয়ে রিকশাচালক নূর মোহাম্মদকে খুঁজে বের করেন নাফিজের পরিবারের সদস্যরা।
ঘটনার পর রিকশাচালক নূর মোহাম্মদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, রিকশাটি তার নিজের ছিল। ওই দিন ফার্মগেটে ‘গ্যাঞ্জামের’ মধ্যে পড়ে গিয়েছিলেন তিনি। তখন এক পুলিশ তাকে ডেকে নিয়ে গেলে অন্যরা তার রিকশায় একজনকে তুলে দেন। তিনি প্রথমে ফার্মগেটের একটি হাসপাতালে নিয়ে যেতে চাইলে বাধার মুখে সেখানে ঢুকতে পারেননি। পরে খামারবাড়িতে গেলে কয়েকজন ‘নাফিজকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে’ বলে একটি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে চলে যান।
পরে গত ৭ নভেম্বর জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে নূর মোহাম্মদের রিকশাটি হস্তান্তর করা হয়। এক ব্যবসায়ী ৩৫ হাজার টাকা দিয়ে তার কাছ থেকে রিকশাটি কিনেছিলেন তখন।
সংসদের প্রথম অধিবেশনে থাকছেন গুলিবিদ্ধ নাফিজকে বহনকারী সেই রিকশাচালক
সংসদের প্রথম অধিবেশনে থাকছেন গুলিবিদ্ধ নাফিজকে বহনকারী সেই রিকশাচালক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ পেয়েছেন জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ গোলাম নাফিজকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় রিকশায় করে হাসপাতালের নেওয়ার চেষ্টা করে আলোচনায় আসা রিকশাচালক নূর মোহাম্মদ। বুধবার (১১ মার্চ) তিনি গণমাধ্যমকে জানান, এটি তার জীবনের বড় পাওয়া। আগামীকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্য তিনি আমন্ত্রণ পেয়েছেন। এ জন্য আজ তিনি জাতীয় সংসদ ভবনে গিয়ে আমন্ত্রণপত্র বা কার্ড নিয়ে এসেছেন। তবে এতে কী লেখা আছে, তা তিনি পড়তে পারেন না। কার্ডটি যাতে না হারায়, সে বিষয়ে তাকে সতর্ক থাকতে বলেছেন সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা। ২০২৪ সালে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া সংঘর্ষে গুলিতে নিহত হয় ১৭ বছরের কিশোর গোলাম নাফিজ। সে রাজধানীর বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে পাস করে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিল। পরিবারসহ মহাখালীতে থাকত তারা। নাফিজের
পরিবারের সদস্য, বন্ধুসহ আরও কয়েকজন জানান, আন্দোলনে গিয়ে ৪ আগস্ট বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ফার্মগেটের পদচারী–সেতুর নিচে নাফিজ গুলিবিদ্ধ হয়। রিকশার পাদানিতে তুলে দেওয়া হয় গুলিবিদ্ধ নাফিজকে। তখনো রড ধরে রেখেছিল নাফিজ। ছবি: সংগৃহীতরিকশার পাদানিতে তুলে দেওয়া হয় গুলিবিদ্ধ নাফিজকে। তখনো রড ধরে রেখেছিল নাফিজ। ছবি: সংগৃহীত গুলিবিদ্ধ গোলাম নাফিজকে পুলিশ যখন রিকশার পাদানিতে তুলে দেয়, তখনো সে রিকশার রডটি হাত দিয়ে ধরে রেখেছিল। রিকশাচালক নূর মোহাম্মদ তাকে নিয়ে রাজধানীর ফার্মগেটের একটি হাসপাতালে ঢুকতে গেলে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা বাধা দেন বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শী এক সাংবাদিক। পরে গোলাম নাফিজকে নিয়ে রিকশাচালক খামারবাড়ির দিকে চলে যান। সেসময় দৈনিক মানবজমিনের ফটোসাংবাদিক জীবন আহমেদ পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাদের বাধার পরেও রিকশার পাদানিতে ঝুলতে থাকা নাফিজের কয়েকটি ছবি তোলেন। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট দিবাগত রাত ১২টার পর পত্রিকাটির প্রথম পাতায় ছাপা হওয়া
নাফিজের ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। সেই ছবি দেখেই নাফিজের মা-বাবা সন্তানের খোঁজ পান। সেই ছবিতে রিকশার পেছনে একটি মুঠোফোন নম্বর দেখা গিয়েছিল। ওই নম্বরে ফোন দিয়ে রিকশাচালক নূর মোহাম্মদকে খুঁজে বের করেন নাফিজের পরিবারের সদস্যরা। ঘটনার পর রিকশাচালক নূর মোহাম্মদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, রিকশাটি তার নিজের ছিল। ওই দিন ফার্মগেটে ‘গ্যাঞ্জামের’ মধ্যে পড়ে গিয়েছিলেন তিনি। তখন এক পুলিশ তাকে ডেকে নিয়ে গেলে অন্যরা তার রিকশায় একজনকে তুলে দেন। তিনি প্রথমে ফার্মগেটের একটি হাসপাতালে নিয়ে যেতে চাইলে বাধার মুখে সেখানে ঢুকতে পারেননি। পরে খামারবাড়িতে গেলে কয়েকজন ‘নাফিজকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে’ বলে একটি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে চলে যান। পরে গত ৭ নভেম্বর জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে নূর মোহাম্মদের রিকশাটি হস্তান্তর করা হয়। এক ব্যবসায়ী ৩৫ হাজার টাকা দিয়ে তার কাছ থেকে রিকশাটি কিনেছিলেন তখন।
সম্পাদক: খন্দকার আমিনুর রহমান
[email protected] | ০১৫৩৫৭৭৩৩১৪
গভ: জি: নং-সি-১৩১৫৯৬
প্রধান কার্যালয়: ৩০৬/এ, দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী ঢাকা ১২০৪/
50/F,Inner Circular Road,Naya Paltan, Dhaka, 1000
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত