এক সময় যে খুলনা পরিচিত ছিল তার শান্ত পরিবেশ আর নির্মল বাতাসের জন্য, সেই শিল্পনগরী এখন ধুলোবালি, বর্জ্য আর তীব্র শব্দ দূষণের চাদরে ঢাকা পড়েছে।
পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে, আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘আইকিউএয়ার’-এর তালিকায় বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর মধ্যে খুলনার অবস্থান এখন ৬৮ নম্বরে। এমনকি কিছু কিছু ক্ষেত্রে দূষণের দিক থেকে এটি রাজধানী ঢাকাকেও পেছনে ফেলে দিচ্ছে।
আজ ৫ জুন, সারা দেশের মতো খুলনায় যখন বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হচ্ছে, তখন নগরীর পরিবেশগত বাস্তব চিত্রটি বেশ উদ্বেগজনক।
ধুলো ও ধোঁয়ায় বিপন্ন বাতাস
পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, খুলনার বাতাসে ক্ষতিকর অতি ক্ষুদ্র ভাসমান কণার (পিএম-২.৫) বার্ষিক গড় ঘনত্ব প্রতি ঘনমিটারে ৫২.৭ মাইক্রোগ্রাম—যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) নির্ধারিত নিরাপদ সীমার চেয়ে ১০ গুণেরও বেশি।
বাতাস দূষিত হওয়ার প্রধান কারণগুলো:
সমন্বয়হীন উন্নয়ন: যত্রতত্র রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি এবং নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সড়কের পাশে উন্মুক্ত অবস্থায় ইট, বালু ও সিমেন্ট রেখে ব্যবসা করা।
সীমান্তবর্তী প্রভাব: ভৌগোলিক কারণে ভারত থেকে আসা বাতাসও নগরীর বায়ু মানকে মাঝে মাঝে বিপজ্জনক পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে।
কান পাতা দায়: তীব্র শব্দ দূষণ
নগরীতে লাগামহীনভাবে বাড়ছে ইজিবাইক ও ব্যক্তিগত যানবাহন। ফলে শিববাড়ি, গল্লামারী, ডাকবাংলো, ময়লাপোতা এবং সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালের মতো প্রধান মোড়গুলোতে শব্দ দূষণ স্বাভাবিক মাত্রা ছাড়িয়েছে বহু আগেই।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় স্থবিরতা
খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) হিসেব মতে, নগরীতে প্রতিদিন প্রায় ১,০০০ টন কঠিন বর্জ্য তৈরি হয়। এর মধ্যে ৮০০ টন বর্জ্য রাজবাঁধ ডাম্পিং পয়েন্টে নেওয়া হলেও, বাকি ২০০ টন বর্জ্য থেকে যাচ্ছে ড্রেন ও সড়কের পাশে।
আশার আলো বনাম বাস্তব: ২০২৩ সালে একনেকে অনুমোদিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সড়কের পাশ থেকে ময়লা সরানোর কথা থাকলেও, এখনো মাঠপর্যায়ে তার দৃশ্যমান কোনো প্রতিফলন নেই। ফলে প্রধান সড়কগুলোর পাশের বর্জ্যের স্তূপ থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধ নগরবাসীকে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে ফেলছে।
পরিবেশ দিবসের এই দিনে রূপসা পাড়ের এই ঐতিহ্যবাহী শহরটিকে আবার তার চেনা নির্মল রূপে ফিরিয়ে আনতে পরিকল্পিত উন্নয়ন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
‘গ্রিন খুলনা’ এখন ধূসর: বায়ু দূষণে ঢাকাকেও টেক্কা দিচ্ছে রূপসা পাড়ের শহর
‘গ্রিন খুলনা’ এখন ধূসর: বায়ু দূষণে ঢাকাকেও টেক্কা দিচ্ছে রূপসা পাড়ের শহর
এক সময় যে খুলনা পরিচিত ছিল তার শান্ত পরিবেশ আর নির্মল বাতাসের জন্য, সেই শিল্পনগরী এখন ধুলোবালি, বর্জ্য আর তীব্র শব্দ দূষণের চাদরে ঢাকা পড়েছে। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে, আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘আইকিউএয়ার’-এর তালিকায় বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর মধ্যে খুলনার অবস্থান এখন ৬৮ নম্বরে। এমনকি কিছু কিছু ক্ষেত্রে দূষণের দিক থেকে এটি রাজধানী ঢাকাকেও পেছনে ফেলে দিচ্ছে। আজ ৫ জুন, সারা দেশের মতো খুলনায় যখন বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হচ্ছে, তখন নগরীর পরিবেশগত বাস্তব চিত্রটি বেশ উদ্বেগজনক। ধুলো ও ধোঁয়ায় বিপন্ন বাতাসপরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, খুলনার বাতাসে ক্ষতিকর অতি ক্ষুদ্র ভাসমান কণার (পিএম-২.৫) বার্ষিক গড় ঘনত্ব প্রতি
ঘনমিটারে ৫২.৭ মাইক্রোগ্রাম—যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) নির্ধারিত নিরাপদ সীমার চেয়ে ১০ গুণেরও বেশি। বাতাস দূষিত হওয়ার প্রধান কারণগুলো:সমন্বয়হীন উন্নয়ন: যত্রতত্র রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি এবং নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সড়কের পাশে উন্মুক্ত অবস্থায় ইট, বালু ও সিমেন্ট রেখে ব্যবসা করা। সীমান্তবর্তী প্রভাব: ভৌগোলিক কারণে ভারত থেকে আসা বাতাসও নগরীর বায়ু মানকে মাঝে মাঝে বিপজ্জনক পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে।কান পাতা দায়: তীব্র শব্দ দূষণ নগরীতে লাগামহীনভাবে বাড়ছে ইজিবাইক ও ব্যক্তিগত যানবাহন। ফলে শিববাড়ি, গল্লামারী, ডাকবাংলো, ময়লাপোতা এবং সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালের মতো প্রধান মোড়গুলোতে শব্দ দূষণ স্বাভাবিক মাত্রা ছাড়িয়েছে বহু আগেই। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় স্থবিরতাখুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) হিসেব মতে, নগরীতে প্রতিদিন প্রায়
১,০০০ টন কঠিন বর্জ্য তৈরি হয়। এর মধ্যে ৮০০ টন বর্জ্য রাজবাঁধ ডাম্পিং পয়েন্টে নেওয়া হলেও, বাকি ২০০ টন বর্জ্য থেকে যাচ্ছে ড্রেন ও সড়কের পাশে। আশার আলো বনাম বাস্তব: ২০২৩ সালে একনেকে অনুমোদিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সড়কের পাশ থেকে ময়লা সরানোর কথা থাকলেও, এখনো মাঠপর্যায়ে তার দৃশ্যমান কোনো প্রতিফলন নেই। ফলে প্রধান সড়কগুলোর পাশের বর্জ্যের স্তূপ থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধ নগরবাসীকে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে ফেলছে। পরিবেশ দিবসের এই দিনে রূপসা পাড়ের এই ঐতিহ্যবাহী শহরটিকে আবার তার চেনা নির্মল রূপে ফিরিয়ে আনতে পরিকল্পিত উন্নয়ন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্পাদক: খন্দকার আমিনুর রহমান
[email protected] | ০১৫৩৫৭৭৩৩১৪
গভ: জি: নং-সি-১৩১৫৯৬
প্রধান কার্যালয়: ৩০৬/এ, দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী ঢাকা ১২০৪/
50/F,Inner Circular Road,Naya Paltan, Dhaka, 1000
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত