সৌদি আরবে অবস্থানকালে একটি চক্রের হাতে অপহরণের শিকার হওয়ার পর স্ত্রী ও শ্বশুরের কাছে মুক্তিপণ চাওয়া হয় ৫০ লক্ষ টাকা। দেশের বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হিসাব ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) এ পরিশোধ করা হয় প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা।এরপর আবার সৌদি আরবেই ছাড়া পায় অপহৃত ব্যক্তি।
এরকম একটি ঘটনায় চক্রের ০১ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি। তদন্তে প্রাপ্ত গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম মো. জিয়াউর রহমান (৪২) পিতা-আব্দুল গণি মোল্যা, মাতা-রোকেয়া বেগম, সাং-খোলাবাড়ী, ডাকঘর-সীমাখালী, থানা-শালিখা, জেলা-মাগুরা। গত ১৯/১১/২০২৫ খ্রি.সন্ধ্যায় মাগুরা জেলার শালিথা শানাথীন হরিপুর বাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারপূর্ব তথ্য বিশ্লেষণ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সার্বিক সহযোগীতা করে সিআইডির এলআইসি ইউনিট।
বাদী তার এজাহারে উল্লেখ করেন যে, বাদীর মেয়ের জামাই ২০ বছর যাবত সৌদি আরবে বসবাস করে এবং সেখানে নিজস্ব ব্যবসা রয়েছে। গত ১২/০১/২০২৫ ইং তারিখে সকালে অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতিকারীরা পরিকল্পিতভাবে বাদীর মেয়ের জামাই ভিক্টিম রাসেলকে সৌদি আরবের রিয়াদ শহর হতে অপহরণ করে। পরে রাসেল এর বড় ভাই সাইফুল ইসলামের কাছে অজ্ঞাত ইমু আইডি এবং ভিওআইপি এর মাধ্যমে যোগাযোগ করে ৫০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে নইলে রাসেলের ক্ষতি করাসহ প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। মুক্তিপণের অর্থ স্থানান্তরের মাধ্যম হিসেবে তারা বাংলাদেশের কিছু মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ( বিকাশ, নগদ ইত্যাদি) এবং বিভিন্ন ব্যাংকের হিসাব নম্বরসমূহ প্রদান করে।
পরবর্তীতে বাদী, রাসেল এর বড় ভাই সাইফুল ইসলামসহ অন্যান্যরা উপায়ন্তর না পেয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের মুক্তিপণ দিতে রাজী হয়। সাইফুল ইসলাম খিলগাঁও ঝিলপাড় এলাকা থেকে বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ( বিকাশ, নগদ ইত্যাদি) অ্যাকাউন্টে ধাপে ধাপে সর্বমোট- ১০ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা এবং অপহরণকারীদের দেওয়া ব্যাংক হিসাবে মোট ২৫ লক্ষ টাকা প্রদান করে। সর্বমোট ৩৫ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ পেয়ে ভিক্টিম রাসেলকে সৌদি আরবের রিয়াদ শহরের রাস্তার পাশে অচেতন অবস্থায় ফেলে রেখে দেয়।
চলে যাওয়ার সময় অজ্ঞাতনামা আসামীরা ভিক্টিম রাসেলের হাতের ছাপ এবং আকামা আইডি নিজেদের হেফাজতে নিয়ে অপহরণের ঘটনা ফাঁস হলে পুনরায় খুন ও জখমের ভয়ভীতি দেখায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় নিরাপদ স্থানে এসে পরিবারকে সমস্ত কিছু খুলে জানালে ভিক্টিম রাসেলের শ্বশুর বাদী হয়ে খিলগাঁও থানায় মামলা নং- ৬৫, তারিখ- ২১/০১/২০২৫ খ্রি. ধারা- ৩৬৪/৩৮৬/৩৪ পেনাল কোড-১৮৬০ রুজু করেন।
মামলাটি তদন্তে জানা যায়, অপহরণকারীরা যেসমস্ত মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ( বিকাশ, নগদ ইত্যাদি) এবং বিভিন্ন ব্যাংকের হিসাব নম্বরসমূহ প্রদান করে সেগুলোত তথ্যাদি বিশ্লেষণসহ দেশে এবং বিদেশে জড়িত ব্যক্তিদের সম্পর্কে তদন্ত শুরু করে। তদন্তকালীন অপহরণকারীদের দেওয়া মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ( বিকাশ, নগদ ইত্যাদি) এবং বিভিন্ন ব্যাংকের হিসাব নম্বরসমূহের তথ্যাদি পর্যালোচনা করে গ্রেফতারকৃত আসামী মো. জিয়াউর রহমান (৪২) এ ঘটনার অন্যতম একজন সক্রিয় সদস্য মর্মে তথ্য পাওয়া যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সৌদি আরবে অবস্থিত অজ্ঞাতনামা অপহণকারীদের সাথে পরস্পর যোগসাজসে মুক্তিপণ থেকে ৫ লক্ষ টাকা কমিশন গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছে।
এখন পর্যন্ত মো. জিয়াউর রহমান (৪২)সহ এ মামলায় ০৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে গ্রেফতারকৃত ০২ জন বিজ্ঞ আদালতে ফৌ.কা.বি. ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।
উক্ত মামলাটি বর্তমানে ঢাকা মেট্রো (পূর্ব) ইউনিট পরিচালনা করছে। গ্রেফতারকৃত মো. জিয়াউর রহমান (৪২) কে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দকরণ ও রিমান্ডের আবেদনসহ পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন, অপরাপর সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করার স্বার্থে সিআইডির তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
-খবরপ্রতিদিন/ সি.ব
এরকম একটি ঘটনায় চক্রের ০১ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি। তদন্তে প্রাপ্ত গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম মো. জিয়াউর রহমান (৪২) পিতা-আব্দুল গণি মোল্যা, মাতা-রোকেয়া বেগম, সাং-খোলাবাড়ী, ডাকঘর-সীমাখালী, থানা-শালিখা, জেলা-মাগুরা। গত ১৯/১১/২০২৫ খ্রি.সন্ধ্যায় মাগুরা জেলার শালিথা শানাথীন হরিপুর বাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারপূর্ব তথ্য বিশ্লেষণ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সার্বিক সহযোগীতা করে সিআইডির এলআইসি ইউনিট।
বাদী তার এজাহারে উল্লেখ করেন যে, বাদীর মেয়ের জামাই ২০ বছর যাবত সৌদি আরবে বসবাস করে এবং সেখানে নিজস্ব ব্যবসা রয়েছে। গত ১২/০১/২০২৫ ইং তারিখে সকালে অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতিকারীরা পরিকল্পিতভাবে বাদীর মেয়ের জামাই ভিক্টিম রাসেলকে সৌদি আরবের রিয়াদ শহর হতে অপহরণ করে। পরে রাসেল এর বড় ভাই সাইফুল ইসলামের কাছে অজ্ঞাত ইমু আইডি এবং ভিওআইপি এর মাধ্যমে যোগাযোগ করে ৫০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে নইলে রাসেলের ক্ষতি করাসহ প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। মুক্তিপণের অর্থ স্থানান্তরের মাধ্যম হিসেবে তারা বাংলাদেশের কিছু মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ( বিকাশ, নগদ ইত্যাদি) এবং বিভিন্ন ব্যাংকের হিসাব নম্বরসমূহ প্রদান করে।
পরবর্তীতে বাদী, রাসেল এর বড় ভাই সাইফুল ইসলামসহ অন্যান্যরা উপায়ন্তর না পেয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের মুক্তিপণ দিতে রাজী হয়। সাইফুল ইসলাম খিলগাঁও ঝিলপাড় এলাকা থেকে বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ( বিকাশ, নগদ ইত্যাদি) অ্যাকাউন্টে ধাপে ধাপে সর্বমোট- ১০ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা এবং অপহরণকারীদের দেওয়া ব্যাংক হিসাবে মোট ২৫ লক্ষ টাকা প্রদান করে। সর্বমোট ৩৫ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ পেয়ে ভিক্টিম রাসেলকে সৌদি আরবের রিয়াদ শহরের রাস্তার পাশে অচেতন অবস্থায় ফেলে রেখে দেয়।
চলে যাওয়ার সময় অজ্ঞাতনামা আসামীরা ভিক্টিম রাসেলের হাতের ছাপ এবং আকামা আইডি নিজেদের হেফাজতে নিয়ে অপহরণের ঘটনা ফাঁস হলে পুনরায় খুন ও জখমের ভয়ভীতি দেখায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় নিরাপদ স্থানে এসে পরিবারকে সমস্ত কিছু খুলে জানালে ভিক্টিম রাসেলের শ্বশুর বাদী হয়ে খিলগাঁও থানায় মামলা নং- ৬৫, তারিখ- ২১/০১/২০২৫ খ্রি. ধারা- ৩৬৪/৩৮৬/৩৪ পেনাল কোড-১৮৬০ রুজু করেন।
মামলাটি তদন্তে জানা যায়, অপহরণকারীরা যেসমস্ত মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ( বিকাশ, নগদ ইত্যাদি) এবং বিভিন্ন ব্যাংকের হিসাব নম্বরসমূহ প্রদান করে সেগুলোত তথ্যাদি বিশ্লেষণসহ দেশে এবং বিদেশে জড়িত ব্যক্তিদের সম্পর্কে তদন্ত শুরু করে। তদন্তকালীন অপহরণকারীদের দেওয়া মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ( বিকাশ, নগদ ইত্যাদি) এবং বিভিন্ন ব্যাংকের হিসাব নম্বরসমূহের তথ্যাদি পর্যালোচনা করে গ্রেফতারকৃত আসামী মো. জিয়াউর রহমান (৪২) এ ঘটনার অন্যতম একজন সক্রিয় সদস্য মর্মে তথ্য পাওয়া যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সৌদি আরবে অবস্থিত অজ্ঞাতনামা অপহণকারীদের সাথে পরস্পর যোগসাজসে মুক্তিপণ থেকে ৫ লক্ষ টাকা কমিশন গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছে।
এখন পর্যন্ত মো. জিয়াউর রহমান (৪২)সহ এ মামলায় ০৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে গ্রেফতারকৃত ০২ জন বিজ্ঞ আদালতে ফৌ.কা.বি. ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।
উক্ত মামলাটি বর্তমানে ঢাকা মেট্রো (পূর্ব) ইউনিট পরিচালনা করছে। গ্রেফতারকৃত মো. জিয়াউর রহমান (৪২) কে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দকরণ ও রিমান্ডের আবেদনসহ পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন, অপরাপর সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করার স্বার্থে সিআইডির তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
-খবরপ্রতিদিন/ সি.ব