খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গায় এনসিপির সহযোগী সংগঠন শ্রমিক শক্তি-এর খুলনা বিভাগীয় কমিটির আহ্বায়ক মোঃ মোতালেব সিকদার (৪২) গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে। পুলিশ ও বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এটি পূর্বে প্রচারিত রাজনৈতিক হামলার চিত্রের সঙ্গে মিলছে না।
মোতালেব সিকদার পেশায় একজন ট্রাক ড্রাইভার এবং পূর্বে সক্রিয় যুবলীগ কর্মী ছিলেন। তিনি ২০২২ সালে শিকদার ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যনির্বাহী সদস্য ছিলেন।
একইসঙ্গে তিনি খুলনার প্রভাবশালী মটর শ্রমিক নেতা ও আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর জাকির হোসেন বিপ্লবের ঘনিষ্ঠ এবং শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ সোহেলের অনুসারী ছিলেন বলে স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
গত ৫ আগস্টের পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকার পর তিনি খুলনায় ফিরে এসে স্থানীয় এনসিপি নেতাদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন। এনসিপি সংগঠক ওয়াহেদুজ্জামান অনিকের মাধ্যমে গত সেপ্টেম্বর মাসে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এনসিপিতে যোগ দেন তিনি।
মটর শ্রমিক নেতা হওয়ায় তাকে জাতীয় শ্রমিক শক্তি-এর খুলনা বিভাগীয় কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
তবে সম্প্রতি এতিমদের শীতবস্ত্র বিতরণ ও ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প করার কথা বলে নিজের নামে কার্ড ছাপিয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে মোতালেবের বিরুদ্ধে, এমন তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ঘটনার বর্ণনায় ভিন্নতা
গুলির ঘটনায় আহত মোতালেব খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের জানান, সোনাডাঙ্গা গাজী মেডিকেলের সামনে দুজন হেলমেট পরিহিত ব্যক্তি তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। তবে সরেজমিনে সেখানে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এমন কোনো ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে হাসপাতালে মোতালেবের পরিজন ও সংগঠনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত হয়ে গণমাধ্যমকে জানান, “ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ তাকে সোনাডাঙ্গা মোল্লাবাড়ির মোড় থেকে টেনে নিয়ে একটি গলিতে মাথায় গুলি করেছে।” এই বক্তব্য প্রচারের পর সারা দেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
কিন্তু ঘটনার বিস্তারিত জানতে সাংবাদিক ও প্রশাসনের সদস্যরা পুনরায় সোনাডাঙ্গা মোল্লাবাড়ির মোড়ে গিয়ে তদন্ত করে জানতে পারেন, সেখানে কোনো গুলির ঘটনা ঘটেনি।
ভাড়া বাসায় গুলির ঘটনা, উদ্ধার আলামত
পুলিশ জানায়, মোতালেবের এনসিপির স্টিকারযুক্ত গাড়ির সূত্র ধরে এবং রাস্তা থেকে পাওয়া রক্তের ফোঁটা অনুসরণ করে সোনাডাঙ্গার আল আকসা মসজিদ গলিতে অবস্থিত মুক্তা হাউজ নামের একটি ভবনে প্রবেশ করা হয়।
ভবনের নিচতলার একটি তালাবদ্ধ ফ্ল্যাটে ঢুকে পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় রক্তের দাগ ও একটি গুলির খোসা উদ্ধার করে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের দাবি, ওই ভাড়া বাসাটি তন্নি নামে এক নারীর নামে নেওয়া হয়েছিল এবং সেখানে অনৈতিক কার্যক্রম ও মাদক সেবন হতো।
বাসা থেকে ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম ও বিদেশি মদের বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, মোতালেব নিয়মিত ওই বাসায় যাতায়াত করতেন এবং আরও কয়েকজন সেখানে আসা-যাওয়া করতেন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, রাতে একসঙ্গে অবস্থানের পর নিজেদের মধ্যে চাঁদার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে সকালে মোতালেবকে গুলি করা হয়।
গুলিটি তার কানের পাশ দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি নিজেই পায়ে হেঁটে ওই বাসা থেকে বের হয়ে হাসপাতালে যান।
বর্তমানে মোতালেব খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন। ঘটনার পর ওই বাসায় থাকা তার সহযোগীরা তালা লাগিয়ে পালিয়ে গেছে। পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে।
কেন্দ্রীয় পদ পাওয়া নিয়েও প্রশ্ন
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এনসিপির খুলনার সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এক নেতার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় নেতাদের সন্তুষ্ট করে মোতালেব শিকদারকে শ্রমিক শক্তি-এর কেন্দ্রীয় পদ দেওয়া হয়।
শ্রমিক লীগের নেতা হয়ে কীভাবে তিনি এনসিপির সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতা হলেন, এ নিয়ে জুলাই যোদ্ধা ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
মোতালেব সিকদার পেশায় একজন ট্রাক ড্রাইভার এবং পূর্বে সক্রিয় যুবলীগ কর্মী ছিলেন। তিনি ২০২২ সালে শিকদার ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যনির্বাহী সদস্য ছিলেন।
একইসঙ্গে তিনি খুলনার প্রভাবশালী মটর শ্রমিক নেতা ও আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর জাকির হোসেন বিপ্লবের ঘনিষ্ঠ এবং শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ সোহেলের অনুসারী ছিলেন বলে স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
গত ৫ আগস্টের পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকার পর তিনি খুলনায় ফিরে এসে স্থানীয় এনসিপি নেতাদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন। এনসিপি সংগঠক ওয়াহেদুজ্জামান অনিকের মাধ্যমে গত সেপ্টেম্বর মাসে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এনসিপিতে যোগ দেন তিনি।
মটর শ্রমিক নেতা হওয়ায় তাকে জাতীয় শ্রমিক শক্তি-এর খুলনা বিভাগীয় কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
তবে সম্প্রতি এতিমদের শীতবস্ত্র বিতরণ ও ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প করার কথা বলে নিজের নামে কার্ড ছাপিয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে মোতালেবের বিরুদ্ধে, এমন তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ঘটনার বর্ণনায় ভিন্নতা
গুলির ঘটনায় আহত মোতালেব খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের জানান, সোনাডাঙ্গা গাজী মেডিকেলের সামনে দুজন হেলমেট পরিহিত ব্যক্তি তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। তবে সরেজমিনে সেখানে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এমন কোনো ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে হাসপাতালে মোতালেবের পরিজন ও সংগঠনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত হয়ে গণমাধ্যমকে জানান, “ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ তাকে সোনাডাঙ্গা মোল্লাবাড়ির মোড় থেকে টেনে নিয়ে একটি গলিতে মাথায় গুলি করেছে।” এই বক্তব্য প্রচারের পর সারা দেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
কিন্তু ঘটনার বিস্তারিত জানতে সাংবাদিক ও প্রশাসনের সদস্যরা পুনরায় সোনাডাঙ্গা মোল্লাবাড়ির মোড়ে গিয়ে তদন্ত করে জানতে পারেন, সেখানে কোনো গুলির ঘটনা ঘটেনি।
ভাড়া বাসায় গুলির ঘটনা, উদ্ধার আলামত
পুলিশ জানায়, মোতালেবের এনসিপির স্টিকারযুক্ত গাড়ির সূত্র ধরে এবং রাস্তা থেকে পাওয়া রক্তের ফোঁটা অনুসরণ করে সোনাডাঙ্গার আল আকসা মসজিদ গলিতে অবস্থিত মুক্তা হাউজ নামের একটি ভবনে প্রবেশ করা হয়।
ভবনের নিচতলার একটি তালাবদ্ধ ফ্ল্যাটে ঢুকে পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় রক্তের দাগ ও একটি গুলির খোসা উদ্ধার করে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের দাবি, ওই ভাড়া বাসাটি তন্নি নামে এক নারীর নামে নেওয়া হয়েছিল এবং সেখানে অনৈতিক কার্যক্রম ও মাদক সেবন হতো।
বাসা থেকে ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম ও বিদেশি মদের বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, মোতালেব নিয়মিত ওই বাসায় যাতায়াত করতেন এবং আরও কয়েকজন সেখানে আসা-যাওয়া করতেন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, রাতে একসঙ্গে অবস্থানের পর নিজেদের মধ্যে চাঁদার টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে সকালে মোতালেবকে গুলি করা হয়।
গুলিটি তার কানের পাশ দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি নিজেই পায়ে হেঁটে ওই বাসা থেকে বের হয়ে হাসপাতালে যান।
বর্তমানে মোতালেব খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন। ঘটনার পর ওই বাসায় থাকা তার সহযোগীরা তালা লাগিয়ে পালিয়ে গেছে। পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে।
কেন্দ্রীয় পদ পাওয়া নিয়েও প্রশ্ন
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এনসিপির খুলনার সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এক নেতার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় নেতাদের সন্তুষ্ট করে মোতালেব শিকদারকে শ্রমিক শক্তি-এর কেন্দ্রীয় পদ দেওয়া হয়।
শ্রমিক লীগের নেতা হয়ে কীভাবে তিনি এনসিপির সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতা হলেন, এ নিয়ে জুলাই যোদ্ধা ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।