বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
logo
Breaking News
জাতীয় খুলনা মহানগর ও জেলাসহ ১৪ মাসে ৫৫ খুন: ভারত থেকে অবৈধ পথে আসছে অস্ত্র
logo

খুলনা মহানগর ও জেলাসহ ১৪ মাসে ৫৫ খুন: ভারত থেকে অবৈধ পথে আসছে অস্ত্র

খুলনা নগরীতে সন্ধ্যা নামলেই অস্ত্রের মহড়া, গোলাগুলি, কোপাকুপি আর খুনের ঘটনা ঘটেই চলেছে। অধিকাংশ খুনের ঘটনায় ব্যবহার হচ্ছে পিস্তল। সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ঢুকছে এ সকল অস্ত্র। 

নগরীতে কয়েকটি গ্রুপের আধিপত্য, চাঁদাবাজি ও মাদকের টাকা ভাগাভাগির কারনে বৃদ্ধি পেয়েছে খুনসহ অপরাধমুলক কর্মকাণ্ড বলে পুলিশ কর্মকর্তাদের দাবি। শুধু নগরীতে ১৪ মাসে ৫৫ টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। শতাধিক গোলাগুলি, মারামারি, কোপাকুপি ও চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেছে।

খুলনা নগরীতে গত এক বছর যাবত খুন, হত্যাচেষ্টা, গোলাগুলি, ছিনতাই, মাদক ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। জননিরাপত্তা এখন ভয়াবহ হুমকির মুখে। 

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃশ্যমান তৎপরতা না থাকায় সাধারণ মানুষ চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

দিনের পর দিন নগরীর আট থানার বিভিন্ন এলাকায় খুন, ছিনতাই, চুরি, মাদক ও সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটেই চলেছে। কিন্তু প্রশাসনের কোন সংস্থার পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। নাগরিক নিরাপত্তা রক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর উদাসীনতায় খুলনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

নগরীতে খুন হলেই কেএমপির উর্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে কারণ জানতে চাইলেই এক বাক্যেই শুধু তিন অক্ষরের একটি শব্দ উচ্চারণ করেন ‘মাদক’ কান্ড। কিন্তু গত এক বছরের বেশি সময়েও খুলনার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা সেই মাদক নির্মুল করতে পারেনি। 

গত ১৪ মাসে দিন দিন বেড়েই চলেছে খুন, ছিনতাই, গোলাগুলি, কোপাকুপি, মারামারি, ছিনতাই, ডাকাতি ও চুরির ঘটনা।
পুলিশ ব্যর্থতার কারণে গত ১৪ মাস যাবত নগরীর আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হয়েছে। 

যার প্রমানবহন করে পুলিশ কমিশনারের ১৪ মাসের দায়িত্বে থাকাকালিন শুধু নগরীতেই ৫৫ টি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঠিক তদারকি ও দ্বায়িত্বহীনতার কারনে খুলনায় এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে নাগরিক নেতারাসহ সাধারণ মানুষের অভিযোগ ।

কেএমপির গোয়েন্দা শাখার ডেপুটি কমিশনার আনোয়ার হোসেন মাসুম জানান, নগরীতে ঘটে যাওয়া হত্যাকান্ডের বেশির ভাগই পিস্তল দ্বারা সংঘটিত হয়েছে বলে দাবি করেন। তিনি আরো দাবি করেন , এই অস্ত্র গুলো সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ঢুকছে। 

নগরিতে একাধিক সন্ত্রাসী গ্রুপ রয়েছে তাদের নিজ নিজ এলাকার আধিপত্য বিস্তারে । তবে তার মধ্যে দুটি গ্রুপ সবচেয়ে সরব রয়েছে নগরীতে। তাদের কয়েক সদস্যকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে দেখা গেছে তারা অধিকাংশ হত্যাকান্ড গুলো ঘটিয়েছে পিস্তল দিয়ে। 

এই অস্ত্র গুলো সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ঢুকছে বলে ডিসি ডিবি দাবি করেন। তিনি আরো বলেন. সম্প্রতি দৌলতপুরে দুই বাড়িতে এবং তার পূর্বে নগরীর নিরালা এলাকায় সন্ত্রাসীরা শটগানসহ অন্য অস্ত্রের ব্যবহার করেছে। তবে তারা এ সকল ঘটনায় আরো গভীর তদন্ত করছেন বলে জানান।

নগরীতে গত ১৪ মাসের ঘটে যাওয়া খুনের ঘটনার সুস্পষ্ট বর্ণনা হচ্ছে, খুলনায় বতর্মান কেএমপি কমিশনারের যোগদানের মাসেই খানজাহান আলী থানায় প্রথম হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে সেপ্টেম্বরে। 

এর পর একে একে অক্টোবরে হরিনটানা থানা এলাকায় খুন হয় একজন, নভেম্বরে সোনাডাঙ্গা থানা এলাকায় একজন, লবনচরা থানা এলাকায় একজন, ডিসেম্বরে সদর থানা এলাকায় দুইজন, খালিশপুর থানা এলাকায় দুইজন, দৌলতপুর থানা এলাকায় একজন ও আড়ংঘাটা থানা এলাকায় একজন।

জানুয়ারিতে সদর থানা এলাকায় একজন ও সোনাডাঙ্গা থানা এলাকায় একজন, ফেব্রুয়ারিতে সোনাডাঙ্গা থানা এলাকায় একজন, মার্চ মাসে সদর থানা এলাকায় একজন, এপ্রিল মাসে সদর থানা এলাকায় একজন ও আড়ংঘাটা থানা এলাকায় একজন, মে মাসে সদর থানা এলাকায় একজন, সোনাডাঙ্গা থানা এলাকায় একজন।

লবনচরা থানা এলাকায় দুইজন ও হরিণটানা থানা এলাকায় একজন খুন হয়, জুন মাসে সোনাডাঙ্গা এলাকায় একজন ও হরিণটানা থানা এলাকায় খুন হয়েছে দুই জন। জুলাইয়ে খুলনা সদর থানায় এক ও দৌলতপুর থানায় একজন। আগষ্টে সোনাডাঙ্গা থানায় এলাকায় তিনজন, লবনচরা থানা এলাকায় একজন, ও দৌলতপুর থানা এলাকায় একজন। সেপ্টেম্বরে হরিনটানা থানা এলাকায় একজন। 

অক্টোবরে দৌলতপুর থানা এলাকায় একজন, খালিশপুর থানা এলাকায় একজন, লবনচরা থানা এলাকায় একজন ও খুলনা সদর থানা এলাকায় দুইজন খুন হয়েছে। এ টা শুধু পুলিশের রেকডিও খতিয়ান। খুলনা নগরীতে খুনের ঘটনা ঘটেই চলেছে। 

সরকারের কোন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেনা।

এ ছাড়াও খুলনার একাধিক স্থানে অনেক অজ্ঞাত মৃতদেহ পাওয়া গেছে। হত্যাকান্ড ছাড়াও গত ১৩ মাসে ঘটেছে অসংখ্য ছিনতাই, মারামারি, কোপাকুপি ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।

নাগরিক নেতা এডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, খুন, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও কোপাকুপির ঘটনা এখন নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে দাড়িয়েছে। খুলনায় আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটেছে চরম ভাবে। খুলনাবাসী এখন চরম আতংকে আতংকিত রয়েছেন। সন্ধার পর এখন অনেকেই বের হতে সাহস পায় না।

ডেপুটি কমিশনার উত্তর তাজুল ইসলাম জানান, অধিকাংশ হত্যার ঘটনা উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। তিনি বলেন, অপরাধীরা অপরাধ সংঘটিত করেই এলাকা ছেড়ে অন্য জেলায় অবস্থান করছে। 

যার কারণে তাদের আটক করতে কিছুটা হিমসিম খেতে হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তৎপর রয়েছে তাদের গ্রেপ্তার করতে। আইনশৃঙ্খলার দিন দিন উন্নতি হচ্ছে।

-খবরপ্রতিদিন/ সি.ব

খুঁজুন