গাজীপুর সাফারী পার্ক হতে চুরি যাওয়া বিপন্ন বিরল প্রজাতির বন্য প্রাণী চুরির ঘটনায় পাচার চক্রের আরও ০১ জনকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি। সংস্থাটির গাজীপুর জেলা ও মেট্রো বিভাগ গত ০৪/১১/২০২৫ খ্রি. তারিখ দুপুরে গফরগাঁও থানাধীন কালাইপাড়া এলাকা হতে গফরগাঁও থানা পুলিশের সহায়তায় গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত বিপন্ন ও বিরল প্রজাতির বন্য প্রাণী চুরি করে অন্যান্য সদস্যদের সহায়তায় বিদেশে পাচার করে আসছিল মর্মে তদন্তে জানা যায়।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম মো. মজনু মিয়া (৫৫), পিতা- মৃত গিয়াস উদ্দিন, সাং- কালাইপাড়, থানা- গফরগাঁও, জেলা-ময়মনসিংহ। তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট নিজ দোষ স্বীকারোক্তিমূলক ফৌ. কা. বি. ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে। গ্রেফতারকৃত মো. মজনু মিয়া (৫৫)সহ চক্রটির মোট ০৬ সদস্যকে এই মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে।
মামালাটির বাদী তার এজাহারে উল্লেখ করেন যে, গত ২৩/০৩/২০২৫ খ্রি. তারিখ দিবাগত রাতে অজ্ঞাতনামা চোরেরা গাজীপুর সাফারী পার্ক, গাজীপুর এর নিরাপত্তা বেষ্টনী কেটে বিপন্ন ও বিরল প্রজাতির ০২টি পুরুষ এবং ০১টি স্ত্রী (মোট ০৩ টি) রিংটেইল লেমুর চুরি করে নিয়ে যায়। প্রাণীগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩ লক্ষ টাকা। মূলত ঘটনার পরদিন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কর্মচারীদের মাধ্যমে এই ঘটনা অবগত হয়ে বাদী শ্রীপুর থানার মামলা নং- ০৮, তারিখ- ০৭/০৪/২০২৫খ্রি., ধারা-৪৫৭/৩৮০ পেনাল কোড দায়ের করেন।
মামলাটির তদন্তে জানা যায়, ২০১৮ সালে মাদাগাস্কার থেকে ০২টি প্রতিষ্ঠান আমদানি, সংরক্ষণ এবং বিক্রয় নিষিদ্ধ ০২ টি রিংটেইল লেমুরসহ ৮৬ জোড়া প্রাণী আমদানি করে। পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে উক্ত প্রাণীগুলোকে গাজীপুর সাফারী পার্কে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রদান করা হয়। ০২ টি রিংটেইল লেমুর সাফারী পার্কে আরও ০২টি বাচ্চার জন্ম দিলে মোট ০৪ টি লেমুরের আবাসন হয় পার্কে । এর মধ্যে ০১টি লেমুর মারা গেলে তখন থেকে মোট ০৩টি প্রাণী পার্কে বাস করতে থাকে।
গাজীপুর সাফারী পার্কটিতে আউটসোর্সিং এ কাজ করত নিপেল মাহমুদ (৩৩)। পার্কের অভ্যন্তরে সে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দুর্লভ, বিপন্ন ও বিরল প্রজাতির বন্য প্রাণীদের ছবি এবং ভিডিও ধারণ করতো। সে ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের প্রাইভেট গ্রুপ ও পেজগুলোতে পোস্ট করে দেশি-বিদেশি ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতো। ক্রেতা উক্ত পোস্টকৃত প্রাণীদের মধ্যে কোনো প্রাণী পছন্দ হলে দরদাম করে মূল্য নির্ধারিত হলে সে পছন্দকৃত প্রাণীকে চুরি করতো। এভাবে তুলে আনা রিংটেইল লেমু্রের ছবিগুলো প্রতিবেশী পাখি ব্যবসায়ী মো. জুয়েল মিয়া (৪২)কে দেখায় এবং এর বাজারদর জানতে চায়। মো. জুয়েল মিয়া (৪২) অপর পাখি ব্যবসায়ী ইসমাঈল হোসেন হৃদয় (২৬) কে দেখায়। ইসমাঈল হোসেন হৃদয় (২৬) পাখি ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন তাওসীফ (২২) ও পাখি আমদানীকারক মো. সাব্বির হোসেন তপন (২৬) এর সাথে যোগাযোগ করে।
গত ২৩/০৩/২০২৫ খ্রি. দিবাগত মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে নিরাপত্তা বেষ্টনী কেটে বিপন্ন ও বিরল প্রজাতির ০৩ টি রিংটেইল লেমুর চুরি করে পরবর্তীতে মো. জুয়েল মিয়া (৪২) র বাড়ীতে রাখে। তন্মধ্যে ০১টি পাখি নিপেল মাহমুদ (৩৩), মো. জুয়েল মিয়া (৪২) ও ইসমাঈল হোসেন হৃদয় (২৬) দেলোয়ার হোসেন তাওসীফ (২২) এবং মো. সাব্বির হোসেন তপন (২৬) জনৈক ব্যবসায়ীর নিকট ৫ লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ নিজেরা ভাগাভাগি করে নেয়। এরমধ্যে ইসমাঈল হোসেন হৃদয় (২৬) মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সে ১০ হাজার টাকা মো. জুয়েল মিয়া (৪২) র নিকট হতে গ্রহণ করে।
যখন দেলোয়ার হোসেন তাওসীফ (২২) এবং মো. সাব্বির হোসেন তপন (২৬) জানতে পারে আরও ০২টি পাখি আছে তখন তারা দু’জন ভারতীয় ক্রেতার সাথে ৭ লাখ টাকায় বিক্রির জন্য মধ্যস্থতা করে দেয়। দেলোয়ার হোসেন তাওসীফ (২২) এবং মো. সাব্বির হোসেন তপন (২৬) দুইজন ভারতীয় ক্রেতাসহ ময়মনসিংহের ভালুকা এলাকা হতে ০২টি লেমুর কার্টনে ভরে ক্রেতাদের গাড়ীতে তুলে দেয়। এ সময় নিপেলকে ৭০ হাজার টাকা কমিশন হিসেবে দেয়। মো. জুয়েল মিয়া (৪২) এর আপন চাচা মো. মজনু মিয়া (৫৫) চোরাইকৃত ০২টি লেমুর প্যাকেট ও হস্তান্তরের কার্যে সহায়তা করে।
উক্ত ০৬ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতারপূর্বক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে তারা নিজ দোষ স্বীকার করে ফৌ. কা. বি. ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। চুরি ঘটনায় ব্যবহৃত মোটর সাইকেল জব্দ করা হয়েছে। চুরি যাওয়া মোট ০৩টি প্রাণীর মধ্যে ০১টি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, বাকিগুলো উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। প্রতারক চক্রটি এভাবে দেশের দুর্লভ, বিপন্ন ও বিরল প্রাণী চুরি করে দেশের বাইরে পাচার করে থাকে মর্মে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম সিআইডির গাজীপুর জেলা ও মেট্রো বিভাগ পরিচালনা করছে। অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন, অপরাপর সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করার স্বার্থে সিআইডির তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
-খবরপ্রতিদিন/ সি.ব
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম মো. মজনু মিয়া (৫৫), পিতা- মৃত গিয়াস উদ্দিন, সাং- কালাইপাড়, থানা- গফরগাঁও, জেলা-ময়মনসিংহ। তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট নিজ দোষ স্বীকারোক্তিমূলক ফৌ. কা. বি. ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে। গ্রেফতারকৃত মো. মজনু মিয়া (৫৫)সহ চক্রটির মোট ০৬ সদস্যকে এই মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে।
মামালাটির বাদী তার এজাহারে উল্লেখ করেন যে, গত ২৩/০৩/২০২৫ খ্রি. তারিখ দিবাগত রাতে অজ্ঞাতনামা চোরেরা গাজীপুর সাফারী পার্ক, গাজীপুর এর নিরাপত্তা বেষ্টনী কেটে বিপন্ন ও বিরল প্রজাতির ০২টি পুরুষ এবং ০১টি স্ত্রী (মোট ০৩ টি) রিংটেইল লেমুর চুরি করে নিয়ে যায়। প্রাণীগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩ লক্ষ টাকা। মূলত ঘটনার পরদিন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কর্মচারীদের মাধ্যমে এই ঘটনা অবগত হয়ে বাদী শ্রীপুর থানার মামলা নং- ০৮, তারিখ- ০৭/০৪/২০২৫খ্রি., ধারা-৪৫৭/৩৮০ পেনাল কোড দায়ের করেন।
মামলাটির তদন্তে জানা যায়, ২০১৮ সালে মাদাগাস্কার থেকে ০২টি প্রতিষ্ঠান আমদানি, সংরক্ষণ এবং বিক্রয় নিষিদ্ধ ০২ টি রিংটেইল লেমুরসহ ৮৬ জোড়া প্রাণী আমদানি করে। পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে উক্ত প্রাণীগুলোকে গাজীপুর সাফারী পার্কে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রদান করা হয়। ০২ টি রিংটেইল লেমুর সাফারী পার্কে আরও ০২টি বাচ্চার জন্ম দিলে মোট ০৪ টি লেমুরের আবাসন হয় পার্কে । এর মধ্যে ০১টি লেমুর মারা গেলে তখন থেকে মোট ০৩টি প্রাণী পার্কে বাস করতে থাকে।
গাজীপুর সাফারী পার্কটিতে আউটসোর্সিং এ কাজ করত নিপেল মাহমুদ (৩৩)। পার্কের অভ্যন্তরে সে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দুর্লভ, বিপন্ন ও বিরল প্রজাতির বন্য প্রাণীদের ছবি এবং ভিডিও ধারণ করতো। সে ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের প্রাইভেট গ্রুপ ও পেজগুলোতে পোস্ট করে দেশি-বিদেশি ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতো। ক্রেতা উক্ত পোস্টকৃত প্রাণীদের মধ্যে কোনো প্রাণী পছন্দ হলে দরদাম করে মূল্য নির্ধারিত হলে সে পছন্দকৃত প্রাণীকে চুরি করতো। এভাবে তুলে আনা রিংটেইল লেমু্রের ছবিগুলো প্রতিবেশী পাখি ব্যবসায়ী মো. জুয়েল মিয়া (৪২)কে দেখায় এবং এর বাজারদর জানতে চায়। মো. জুয়েল মিয়া (৪২) অপর পাখি ব্যবসায়ী ইসমাঈল হোসেন হৃদয় (২৬) কে দেখায়। ইসমাঈল হোসেন হৃদয় (২৬) পাখি ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন তাওসীফ (২২) ও পাখি আমদানীকারক মো. সাব্বির হোসেন তপন (২৬) এর সাথে যোগাযোগ করে।
গত ২৩/০৩/২০২৫ খ্রি. দিবাগত মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে নিরাপত্তা বেষ্টনী কেটে বিপন্ন ও বিরল প্রজাতির ০৩ টি রিংটেইল লেমুর চুরি করে পরবর্তীতে মো. জুয়েল মিয়া (৪২) র বাড়ীতে রাখে। তন্মধ্যে ০১টি পাখি নিপেল মাহমুদ (৩৩), মো. জুয়েল মিয়া (৪২) ও ইসমাঈল হোসেন হৃদয় (২৬) দেলোয়ার হোসেন তাওসীফ (২২) এবং মো. সাব্বির হোসেন তপন (২৬) জনৈক ব্যবসায়ীর নিকট ৫ লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ নিজেরা ভাগাভাগি করে নেয়। এরমধ্যে ইসমাঈল হোসেন হৃদয় (২৬) মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সে ১০ হাজার টাকা মো. জুয়েল মিয়া (৪২) র নিকট হতে গ্রহণ করে।
যখন দেলোয়ার হোসেন তাওসীফ (২২) এবং মো. সাব্বির হোসেন তপন (২৬) জানতে পারে আরও ০২টি পাখি আছে তখন তারা দু’জন ভারতীয় ক্রেতার সাথে ৭ লাখ টাকায় বিক্রির জন্য মধ্যস্থতা করে দেয়। দেলোয়ার হোসেন তাওসীফ (২২) এবং মো. সাব্বির হোসেন তপন (২৬) দুইজন ভারতীয় ক্রেতাসহ ময়মনসিংহের ভালুকা এলাকা হতে ০২টি লেমুর কার্টনে ভরে ক্রেতাদের গাড়ীতে তুলে দেয়। এ সময় নিপেলকে ৭০ হাজার টাকা কমিশন হিসেবে দেয়। মো. জুয়েল মিয়া (৪২) এর আপন চাচা মো. মজনু মিয়া (৫৫) চোরাইকৃত ০২টি লেমুর প্যাকেট ও হস্তান্তরের কার্যে সহায়তা করে।
উক্ত ০৬ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতারপূর্বক বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে তারা নিজ দোষ স্বীকার করে ফৌ. কা. বি. ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। চুরি ঘটনায় ব্যবহৃত মোটর সাইকেল জব্দ করা হয়েছে। চুরি যাওয়া মোট ০৩টি প্রাণীর মধ্যে ০১টি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, বাকিগুলো উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। প্রতারক চক্রটি এভাবে দেশের দুর্লভ, বিপন্ন ও বিরল প্রাণী চুরি করে দেশের বাইরে পাচার করে থাকে মর্মে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম সিআইডির গাজীপুর জেলা ও মেট্রো বিভাগ পরিচালনা করছে। অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন, অপরাপর সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করার স্বার্থে সিআইডির তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
-খবরপ্রতিদিন/ সি.ব