আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে সংঘটিত হত্যা, গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময় দেশের বিভিন্ন জেলার থানায় মোট এক হাজার ৮৫৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে।
তিনি বলেছেন, এর মধ্যে হত্যা মামলার সংখ্যা ৭৯৯টি এবং অন্যান্য ধারার অধীনে এক হাজার ৫৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলামের প্রশ্নের লিখিত উত্তরে আইনমন্ত্রী এসব কথা জানান। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়।
এক হাজার ৮৫৫টি মামলার মধ্যে ১৫৮টি মামলার তদন্ত শেষ করে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে বলে জানান আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, এর মধ্যে হত্যা মামলা ৪৮ টি এবং অন্যান্য মামলা ১১০টি। বাকি এক হাজার ৬৯৭টি মামলার তদন্ত চলমান। এই বিপুল সংখ্যক মামলার তদন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া হলেও দ্রুততম সময়ে প্রতিবেদন দাখিলের লক্ষ্যে পুলিশ বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিটি মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যেন বিচারের সময় কোনো আইনি দুর্বলতা না থাকে।
আইনমন্ত্রী বলেন, জামিনের বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে আদালতের এখতিয়ারে। তবে, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা প্রতিটি মামলায় যুক্তি উপস্থাপনপূর্বক সক্রিয়ভাবে আসামিদের জামিনের বিরোধিতা করছেন।
তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সংগঠিত নৃশংস অপরাধের শিকার ব্যক্তিরা এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে ন্যায়বিচার প্রদানে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যারা নিরীহ মানুষদের হত্যা করেছে, গুম করেছে, নির্যাতন করেছে, পঙ্গু করেছে, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে।
বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের নামে কতটি মামলা দায়ের হয়েছে সে সংক্রান্ত পরিসংখ্যান সরকারের কাছে নেই বলে সংসদে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তবে মন্ত্রী বলেছেন, এ পর্যন্ত রাজনৈতিক কারণে দায়েরকৃত হয়রানিমূলক মোট ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সংসদ সদস্য মুহাম্মদ আলী আছগার এ সময় আইনমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, সারাদেশে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের নামে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের দায়েরকৃত হয়রানিমূলক কতটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, ওই মামলাগুলো প্রত্যাহার করার কোনো পরিকল্পনা আছে কি না।
জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, মামলা দায়ের করার সময় এজাহারে অভিযুক্তের দলীয় পরিচয় উল্লেখ থাকে না। ফলে সারাদেশে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কতগুলো মিথ্যা ও হরানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান নিরূপন করা সম্ভব নয়। এ সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য সরকারের কাছে নেই।
তবে মন্ত্রী বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্যের উল্লেখ করে বলেছেন, ২০০৭ সাল থেকে ১১ জানুয়ারি ২০২৫ পর্যন্ত বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মোট এক লাখ ৪২ হাজার ৯৮৩টি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ৫ মার্চ রাজনৈতিক কারণে দায়েরকৃত হয়রানিমূলক মামলাসমূহ প্রত্যাহারের সুপারিশ করার লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সভাপতিত্বে চার সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করে। জেলা কমিটি থেকে প্রাপ্ত সুপারিশগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মামলা প্রত্যাহারের কার্যক্রম গ্রহণ করার জন্য সরকার গত ৮ মার্চ আইনমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে ছয় সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করেছে।
মন্ত্রী জানান, এ পর্যন্ত রাজনৈতিক কারণে দায়েরকৃত হয়রানিমূলক মোট ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। আর যেসব হয়রানিমূলক মামলা এখনো প্রত্যাহার হয়নি, সেগুলো প্রত্যাহার করার কার্যক্রম চলমান।
ফ্যাসিস্ট আমলে নির্যাতনের ঘটনায় ১৮৫৫ মামলা হয়েছে: আইনমন্ত্রী
ফ্যাসিস্ট আমলে নির্যাতনের ঘটনায় ১৮৫৫ মামলা হয়েছে: আইনমন্ত্রী
আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে সংঘটিত হত্যা, গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময় দেশের বিভিন্ন জেলার থানায় মোট এক হাজার ৮৫৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে। তিনি বলেছেন, এর মধ্যে হত্যা মামলার সংখ্যা ৭৯৯টি এবং অন্যান্য ধারার অধীনে এক হাজার ৫৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলামের প্রশ্নের লিখিত উত্তরে আইনমন্ত্রী এসব কথা জানান। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়। এক হাজার ৮৫৫টি মামলার মধ্যে ১৫৮টি মামলার তদন্ত শেষ করে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে বলে জানান আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, এর মধ্যে হত্যা মামলা ৪৮ টি এবং অন্যান্য মামলা ১১০টি। বাকি এক হাজার ৬৯৭টি মামলার তদন্ত চলমান। এই বিপুল সংখ্যক মামলার তদন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া হলেও দ্রুততম সময়ে প্রতিবেদন দাখিলের লক্ষ্যে পুলিশ বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিটি মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যেন বিচারের সময় কোনো আইনি দুর্বলতা না থাকে। আইনমন্ত্রী বলেন, জামিনের বিষয়টি
সম্পূর্ণরূপে আদালতের এখতিয়ারে। তবে, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা প্রতিটি মামলায় যুক্তি উপস্থাপনপূর্বক সক্রিয়ভাবে আসামিদের জামিনের বিরোধিতা করছেন। তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সংগঠিত নৃশংস অপরাধের শিকার ব্যক্তিরা এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে ন্যায়বিচার প্রদানে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যারা নিরীহ মানুষদের হত্যা করেছে, গুম করেছে, নির্যাতন করেছে, পঙ্গু করেছে, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের নামে কতটি মামলা দায়ের হয়েছে সে সংক্রান্ত পরিসংখ্যান সরকারের কাছে নেই বলে সংসদে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তবে মন্ত্রী বলেছেন, এ পর্যন্ত রাজনৈতিক কারণে দায়েরকৃত হয়রানিমূলক মোট ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। সংসদ সদস্য মুহাম্মদ আলী আছগার এ সময় আইনমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, সারাদেশে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের নামে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের দায়েরকৃত হয়রানিমূলক কতটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, ওই মামলাগুলো প্রত্যাহার করার কোনো পরিকল্পনা আছে কি না। জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, মামলা দায়ের করার সময় এজাহারে অভিযুক্তের দলীয় পরিচয় উল্লেখ থাকে না।
ফলে সারাদেশে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কতগুলো মিথ্যা ও হরানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান নিরূপন করা সম্ভব নয়। এ সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য সরকারের কাছে নেই। তবে মন্ত্রী বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্যের উল্লেখ করে বলেছেন, ২০০৭ সাল থেকে ১১ জানুয়ারি ২০২৫ পর্যন্ত বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মোট এক লাখ ৪২ হাজার ৯৮৩টি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে। আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ৫ মার্চ রাজনৈতিক কারণে দায়েরকৃত হয়রানিমূলক মামলাসমূহ প্রত্যাহারের সুপারিশ করার লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সভাপতিত্বে চার সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করে। জেলা কমিটি থেকে প্রাপ্ত সুপারিশগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মামলা প্রত্যাহারের কার্যক্রম গ্রহণ করার জন্য সরকার গত ৮ মার্চ আইনমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে ছয় সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করেছে। মন্ত্রী জানান, এ পর্যন্ত রাজনৈতিক কারণে দায়েরকৃত হয়রানিমূলক মোট ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। আর যেসব হয়রানিমূলক মামলা এখনো প্রত্যাহার হয়নি, সেগুলো প্রত্যাহার করার কার্যক্রম চলমান।
সম্পাদক: খন্দকার আমিনুর রহমান
[email protected] | ০১৫৩৫৭৭৩৩১৪
গভ: জি: নং-সি-১৩১৫৯৬
প্রধান কার্যালয়: ৩০৬/এ, দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী ঢাকা ১২০৪/
50/F,Inner Circular Road,Naya Paltan, Dhaka, 1000
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত